অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র): শিক্ষার্থীরা তোমাদের বাংলা গদ্য অংশ অপরিচিতা এর সর্বশেষ বোর্ড প্রশ্ন উত্তরসহ এখানে দিয়েছি। আশাকরি তোমরা এখান থেকে প্রস্তুতি ও পরীক্ষার ধারণা নিতে পারবে।

অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

সাজেশন

আরো পড়ুনঃ

যশোর বোর্ড ২০১৯

গৌরী ও সঞ্জয় অনেকদিন ধরে একই অফিসে চাকরি করছে কিন্তু সহকর্মীরা জানে না দুজনার অন্তরে গভীর ক্ষত। গৌরীকে নিজে পছন্দ করে বিয়ে করতে চেয়েছিল সঞ্জয়। বছর পাঁচেক আগে লোক খাওয়ানো নিয়ে বিয়ে ভেঙেছে তাদের। পিতৃহীন সঞ্জয় কাকার আশ্রয়ে মানুষ তাই তার দোষ জেনেও প্রতিবাদ করতে পারেনি। একদিন গৌরীর কাছে নিজের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে সঞ্জয় । বলে, তার জন্য সে সারা জীবন অপেক্ষা করবে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে গৌরী বলে, “কী দরকার, এই তো বেশ আছি!”

ক. কোন কথা স্মরণ করে অনুপমের মামা ও মা ‘একযোগে বিস্তর হাসিলেন?
খ. “মেয়ের চেয়ে মেয়ের বাপের খবরটাই তাহার কাছে গুরুতর” – উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।
গ. উদ্দীপকের সঞ্জয় ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে? বুঝিয়ে দাও।
ঘ. ‘এই তো বেশ আছি!’ “গৌরীর এই উক্তিটিতে ‘অপরিচিতা’ গল্পের পরিণতি প্রতিফলিত হয়েছে” মূল্যায়ন কর।

ক জ্ঞান

গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে বিস্তর লোকের আদর-আপ্যায়ন করে তাদের বিদায় দিতে কনেপক্ষকে যে নাকাল হতে হবে সে কথা স্মরণ করে অনুপমের মামা ও মা ‘একযোগে বিস্তর হাসিলেন’।

অনুধাবন

“মেয়ের চেয়ে মেয়ের বাপের খবরটাই তাহার কাছে গুরুতর”— উক্তিটি দ্বারা অনুপমের মামার হিসেবি ও অনুসন্ধিৎসু মানসিকতাকে তুলে ধরা হয়েছে।

অনুপমের সংসারে তার মামাই সর্বেসর্বা। তিনি কখনো ঠকতে রাজি নন। অনুপমের বিয়ের ক্ষেত্রে তার মতামতই সর্বশেষ কথা। অনুপমের অনুরোধে হরিশ মামার কাছে কল্যাণীর কথা উপস্থাপন করে। তবে মামা মেয়ের চেয়ে তার বাবার খরবটাই বেশি জানতে চান, সেটাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যাবতীয় দাবি বা চাহিদা তো তারই মেটাতে হবে। প্রশ্নোক্ত উক্তিতে অনুপমের মামার মানসিকতার এ পরিচয়টিই তুলে ধরা হয়েছে।

সারকথা : “মেয়ের চেয়ে বাপের খরবটাই তাহার কাছে গুরুতর”- এ বাক্যে অনুপমের মামার হিসেবি ও অনুসন্ধিৎসু মানসিকতাকে তুলে ধরা হয়েছে।

গ প্রয়োগ

উদ্দীপকের সঞ্জয় ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম চরিত্রটির প্রতিনিধিত্ব করে। মানুষ যতই সুশ্রী ও শিক্ষিত হোক না কেন, সে যদি বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী না হয় তবে তার কোনো মূল্য নেই। কারণ মানুষের আসল মর্যাদা ও সৌন্দর্য তার ব্যক্তিত্বের মাঝেই লুকানো থাকে।

উদ্দীপকের সঞ্চয় একজন ব্যক্তিত্বহীন পুরুষ। সে জীবনের একটি চরম সিদ্ধান্তের সময় নিশ্চুপ থেকেছে। চোখের সামনে অন্যায় ঘটতে দেখেও কোনো প্রতিবাদ করেনি। সামান্য কারণে গৌরীর সঙ্গে তার বিয়ে ভেঙে গেলেও সে চুপ করে থেকেছে। পরবর্তী সময়ে গৌরীকে নিজের অবস্থার কথা তুলে ধরে তার জন্য অপেক্ষা করার কথা জানিয়েছে। এমনই এক চরিত্র ‘অপরিচিতা” গল্পের অনুপম। সেও ব্যক্তিত্বহীন পুরুষ।

নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত সে মামার ওপর ছেড়ে দিয়েছে। ফলে চোখের সামনে অন্যায়ভাবে কন্যাদায়গ্রস্ত এক পিতার অপমান হতে দেখেও সে নিশ্চুপ থেকেছে। পরবর্তী সময়ে চৈতন্যোদয় ঘটলে ফিরে গেছে কল্যাণীর কাছে। অপেক্ষায় থাকে কল্যাণীর জন্য। এই অনুপম চরিত্রেরই প্রতিনিধিত্ব করছে উদ্দীপকের সঞ্জয়।

সারকথা : উদ্দীপকের সঞ্জয় এবং গল্পের অনুপম উভয়ই দুর্বলচিত্ত ও ব্যক্তিত্বহীন। উভয়ের জীবনের ব্যর্থতার জন্য তাদের এ বৈশিষ্ট্যই দায়ী।

উচ্চতর দক্ষতা

‘এই তো বেশ আছি!’ “গৌরীর এই উক্তিটিতে ‘অপরিচিতা’ গল্পের পরিণতি প্রতিফলিত হয়েছে”- উক্তিটি যথার্থ ।

মানুষের স্বপ্ন একবার ভেঙে গেলে সেটা পুনরায় দেখতে সে সংকোচবোধ করে। তার ওপর যখন ব্যক্তিত্ব বা সত্তার আঘাত আসে তবে সেটাকে সে কিছুতেই মেনে নিতে পারে না। কিছুতেই সে আপন সত্তার অপমান পুনরায় ঘটতে দিতে চায় না।

উদ্দীপকের গৌরীর বিয়ে সামান্য কারণে ভেঙে যায়। এতে সে প্রথমে ভেঙে পড়লেও ধীরে ধীরে সামলে নেয়। নিজেকে স্বাবলম্বী করে তোলে। পছন্দের মানুষের উদাসীনতা ও ব্যক্তিত্বহীনতা তার জীবনকে এলোমেলো করে দেয়। পরবর্তী সময়ে সঞ্জয় তার জীবনে ফিরে আসতে চাইলে সে আপত্তি জানায়। কারণ আপন সত্তার অপমান কিছুতেই পুনরায় ঘটতে দিতে চায়নি। তার চেয়ে সে তার নিজের বর্তমান অবস্থানে থাকাকে শ্রেয় মনে করে বলে, ‘এইতো বেশ আছি!’ গৌরীর এ উক্তিতে ‘অপরিচিতা’ গল্পের পরিণতি প্রতিফলিত হয়েছে।

‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যায় পাত্র অনুপমের মামার লোভী মানসিকতা যৌতুকের কারণে। অনুপম তার প্রতিবাদ না করাতে কল্যাণী মর্মাহত হয়। নিজ সত্তার এ অপমানে সে সারা জীবন বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেয়। দেশসেবার ব্রতে নিজেকে নিয়োজিত করে। পরবর্তী সময়ে অনুপম তার জীবন আসতে চাইলেও সে তাতে রাজি হয় না। এভাবেই গল্পের পরিণতি ঘটে । গল্পের এ পরিণতি উদ্দীপকের গৌরীর উক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে।

সারকথা : উদ্দীপকের গৌরীর উদ্ভিতে ‘অপরিচিতা’ গল্পের পরিণতি প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ তারা উভয়ই পুনরায় আপন আপন সত্তার অপমান হতে দিতে চায়নি।

অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের শিক্ষিত ছেলে কৌশিকের মা-বাবা তার মতামত না নিয়েই সুরবালার সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে। সুরবালার বাবার অঢেল সম্পদ। গোপনে ঘটকের মধ্যস্থতায় এ বিয়েতে বরপক্ষকে নগদ টাকা, গাড়ি এবং ঢাকার অভিজাত এলাকায় একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যৌতুকের বিষয়টি জানতে পেরে কৌশিক ও সুরবালা বেঁকে বসে এবং সম্পূর্ণ যৌতুকবিহীনভাবে পরস্পর বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ক. অনুপমের বাবার পেশা কী ছিল?
খ. “এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি।” – ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের কৌশিকের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের তুলনা কর ।
ঘ. “উদ্দীপকে ‘অপরিচিতা’ গল্পে বর্ণিত সামাজিক অসঙ্গতি অনেকাংশেই প্রতিফলিত।”— যাচাই কর ।

ক জ্ঞান

অনুপমের বাবার পেশা ছিল ওকলাতি বা আইন ব্যবসায়।

খ অনুধাবন

“এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি।”— এ উক্তিটি মাধ্যমে অনুপম আত্মতুষ্টি লাভের প্রয়াস পেয়েছে। মনস্তাপে ভেঙে পড়া অনুপম কল্যাণীকে বিয়ে করতে না পেরেও তার কাছাকাছি থাকার আনন্দেই প্রশ্নোক্ত অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর পুনরায় কল্যাণীকে দেখে মুগ্ধ হয় অনুপম। তার কাছে ও তার পিতার কাছে ক্ষমা চায় অনুপম।

সবকিছু ছেড়ে সে বছরের পর বছর কানপুরে কল্যাণীর কাছাকাছি থাকে। কল্যাণী তাকে ক্ষমা করে দিলেও বিয়েতে হয়নি। তবুও অনুপম তার দেখা পায়, কণ্ঠ শোনে, সুবিধামতো তার কাজ করে দিয়ে নিজের একটা অবস্থান তৈরি করে নেয় কল্যাণীর কাছে; আর সেই আনন্দেই সে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করে।

সারকথা : কল্যাণীকে বিয়ে করতে না পারলেও তার কাছাকাছি থাকার জন্য অনুপম নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেছে। কারণ সে তাকে দেখতে পাবে।

প্রয়োগ

উদ্দীপকের কৌশিকের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বৈপরীত্য লক্ষ করা যায় । মেনে নেওয়া এবং মানিয়ে নেওয়ার মধ্যেও মানুষের কষ্ট লুকিয়ে থাকে। যথার্থ মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ কখনই অসংগতিকে মেনে নিতে পারে না। যদি বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী কেউ হয় তবে সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। আর যে ব্যক্তি যথার্থ মূল্যবোধ এবং বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে পারে না তার জীবন হয় ব্যর্থ ও হতাশাগ্রস্ত।

উদ্দীপকের কৌশিক বাবা-মায়ের পছন্দ করা মেয়ে বিয়ে করতে রাজি হয়। কিন্তু বিয়ের সময় যখন জানতে পরে তার বাবা যৌতুক নিয়ে বিয়ে ঠিক করেছেন তখন সে সম্পূর্ণ বেঁকে বসে এবং যৌতুক ছাড়া বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। আর ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম একজন ব্যক্তিত্বহীন মানুষ। সে তার মামার কথার বাইরে যেতে পারে না। অন্যায় জেনেও তার প্রতিবাদ করতে পারে না। মামা যখন যৌতুকের গহনা সেকরা দিয়ে যাচাই করতে চায় তখনও সে কোনো প্রতিবাদ করে না। সর্বোপরি মামার মতের বিরুদ্ধে সে কোনো কিছুই করতে পারে না। উভয় চরিত্রের এখানেই বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।

(ঘ) উচ্চতর দক্ষতা

“উদ্দীপকে ‘অপরিচিতা’ গল্পে বর্ণিত সামাজিক অসংগতি অনেকাংশেই প্রতিফলিত। “- মন্তব্যটি যথার্থ। সমাজে নানা রকম প্রথা ও অসংগতি বিদ্যমান। যৌতুক বা পণপ্রথা সবচেয়ে বড় সামাজিক ব্যাধি। যৌতুকের কালো থাবায় অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। অনেক নারীর সংসার ভাঙে। এমনকি তাদের জীবনও অকালে ঝরে যায়। এর বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

উদ্দীপকের কৌশিকের বাবা-মা ছেলের বিয়ে ঠিক করে যৌতুকের বিনিময়ে। যার মধ্যে রয়েছে নগদ টাকা, বাড়ি-গাড়ি ইত্যাদি। তাদের লোভী মানসিকতার জন্যই সমাজে এই ঘৃণ্য প্রথা এখনও টিকে আছে। ‘অপরিচিতা’ গল্পেও এ ধরনের অসংগতি পরিদৃষ্ট হয়। অনুপমের মামা তার ভাগ্নের বিয়ে ঠিক করে যৌতুকের বিনিময়ে এবং শেষ পর্যন্ত এই যৌতুকের কারণেই বিয়ে ভেঙে যায়।

বহুকাল থেকে চলে আসা যৌতুকপ্রথা এখনও আমাদের সমাজে বিদ্যমান। যৌতুকের কারণে এখনও অনেক পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। উদ্দীপকের কৌশিকের বাবা-মা এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পের মামা এ ধরনের লোভী মানসিকতাসম্পন্ন মানুষ। ‘অপরিচিতা’ গল্পের এই সামাজিক অসংগতি অনেকাংশেই উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে। এ দিক থেকে বলা যায়,মন্তব্যটি যথার্থ।

সারকথা : উদ্দীপকের কৌশিক মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিত্ববান পুরুষ। অপরদিকে গল্পের অনুপম দুর্বলচিত্ত ও অন্যের ওপর নির্ভরশীল এক ব্যক্তি। এখানেই দুজনের চরিত্রের বৈসাদৃশ্য চোখে পড়ে।

অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

রাজশাহী; কুমিল্লা, চট্টগ্রাম; বরিশাল বোর্ড ২০১৮

কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না। তিনি দেখিলেন, মেয়েটির বিবাহের বয়স পার হইয়া গিয়াছে, কিন্তু আর কিছু দিন গেলে সেটাকে ভদ্র বা অভদ্র কোনো রকমে চাপা দিবার সময়টাও পার হইয়া যাইবে। মেয়ের বয়স অবৈধ রকমে বাড়িয়া গিয়াছে বটে, কিন্তু পণের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনও তাহার চেয়ে কিঞ্চিৎ উপরে আছে, সেই জন্যই তাড়া ।

ক) অনুপমের পিসতুতো ভাইয়ের নাম কি?
খ. ‘অন্নপূর্ণার কোলে গজাননের ছোট ভাইটি’– উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের বরের বাপের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য নিরূপণ কর।
ঘ. “উদ্দীপকের ঘটনাচিত্রে ‘অপরিচিতা’ গল্পের খণ্ডাংশ প্রতিফলিত হয়েছে”— উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

ক জ্ঞান

অনুপমের পিসতুতো ভাইয়ের নাম বিনু।

খ অনুধাবন

‘অন্নপূর্ণার কোলে গজাননের ছোট ভাইটি’— এ কথাটি মূলত অনুপমকে ব্যঙ্গ করার উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে।

‘অপরিচিতা’ গল্পে লেখক অন্নপূর্ণার সন্তানের সঙ্গে গল্পের অনুপমের তুলনা করেছেন। দেবী দুর্গার দুই পুত্র — গণেশ ও কার্তিকেয়। কার্তিকেয় ছোট বিধায় সে সবসময় মাতৃস্নেহে লালিত এবং মায়ের কোলই যেন তার একমাত্র আশ্রয়। অনুপম শিক্ষিত হলেও ব্যক্তিত্বরহিত পরিবারতন্ত্রের কাছে অসহায়, তার নিজস্বতা বলতে কিছুই নেই। তাকে দেখলে মনে হয় সে যেন মায়ের কোলসংলগ্ন অবুঝ শিশু। এ কারণে লেখক ব্যঙ্গার্থে অনুপমকে কার্তিকেয়র সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

সারকথা : অনুপম আধুনিক ও শিক্ষিত যুবক হওয়া সত্ত্বেও তার পরিবার দ্বারা বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত। ফলে সেখানে তার স্বাধীন সত্তা বিলুপ্ত। এ বিষয়টিই আলোচ্য অংশে প্রকাশিত হয়েছে।

গ প্রয়োগ

উদ্দীপকের বরের বাপের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে। আমাদের সমাজে যৌতুক একটি মারাত্মক ব্যাধি। বরের পিতা কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার কাছ থেকে এমনভাবে যৌতুক গ্রহণ করে যে, কন্যার পিতা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে। যৌতুকপ্রথার কারণে নারীরা সমাজে অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হয়।

উদ্দীপকের বরের বাপ একজন যৌতুকলোভী ব্যক্তি। মেয়ের বিয়ের বয়স পার হয়ে গেলেও অতিরিক্ত যৌতুকের আশায় সে ছেলেকে বিয়ে দিতে রাজি হয়। উদ্দীপকের বরের বাপের মতো ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার মধ্যেও এমন যৌতুকলোভী মানসিকতা লক্ষ করা যায় ।

সেখানে কল্যাণীর বয়স পনেরো হলেও কল্যাণীর পিতার সম্পদের লোভে তিনি বিয়েতে রাজি হন। এই দিক থেকে উদ্দীপকের বরের বাপ এবং গল্পের অনুপমের মামা উভয়ের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে। অন্যদিকে আলোচ্য গল্পে অনুপমের বিয়ের জন্য অনুপমের মামার কোনো তাড়া ছিল না। কল্যাণীর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হলে তিনি কল্যাণীর পিতাকে নানাভাবে অসম্মান করেছেন।

এমনকি তাকে বিশ্বাসও করেননি। অবিশ্বাসের কারণে বিয়ের আগে কল্যাণীর পিতার দেওয়া সমস্ত গহনা পরীক্ষা করাতে চেয়েছেন। তবে উদ্দীপকের বরের বাপ চেয়েছেন মেয়ের বয়স আরও বেশি বেড়ে যাওয়ার আগে বিয়ে সম্পন্ন করতে। তিনি কন্যার পিতাকে পদে পদে অপমান করতেও চাননি, অবিশ্বাসও করেননি। এ বিষয়ে উদ্দীপকের বরের বাপের সঙ্গে অনুপমের মামার বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

সারকথা : উদ্দীপকের বরের পিতা এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামা উভয়ের মধ্যে যৌতুকলোভী মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে। এ বিষয়টিতে তাদের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে। অন্যদিকে অনুপমের মামা কন্যার পিতাকে যেভাবে অসম্মান হেনস্তা করতে চেয়েছেন উদ্দীপকের বরের পিতা তা করেননি। এ দিক থেকে উভয়ের মধ্যে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ উচ্চতর দক্ষতা

“উদ্দীপকের ঘটনাচিত্রে ‘অপরিচিতা’ গল্পের খণ্ডাংশ প্রতিফলিত হয়েছে”— উক্তিটি যথার্থ।যুগ যুগ ধরে আমাদের সমাজে যৌতুকপ্রথা বা পণপ্রথা প্রচলিত। এ প্রথার কারণে নারীরা সবচেয়ে বেশি অবহেলা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তবে বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতির ফলে যৌতুকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে।

উদ্দীপকের ঘটনাচিত্রে বিয়ে নিয়ে সমাজে মেয়েদের অবস্থা প্রতিফলিত হয়েছে। বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়েদের বয়সের ব্যাপারটিও এখানে স্থান পেয়েছে। কন্যার বিয়ের বয়স পার হয়ে যাওয়ায় পণের টাকার গুরুত্বও বেড়েছে। বরপক্ষের যৌতুকের বিষয়ে লোভী দৃষ্টিভঙ্গিও প্রকাশ পেয়েছে। ‘অপরিচিতা’ গল্পেও আমাদের সমাজে বিবাহযোগ্যা মেয়েদের অবস্থা এবং অমানবিক যৌতুকপ্রথার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। কল্যাণীর পনেরো বছর বয়স বরপক্ষের কাছে অনেক বেশি মনে হয়েছে।

অনুপমের মামার অমানবিক আচরণ ও যৌতুকের প্রতি লোভের দিকটি ফুটে উঠেছে। কল্যাণীর বাবা প্রথমে বরপক্ষের দাবি পূরণ করতে রাজি হয়েছেন। কিন্তু বরপক্ষ যখন সেকরা নিয়ে এসে তার মেয়েকে দেওয়া গহনা যাচাই করতে চেয়েছে তখন সেই অপমান তিনি মেনে নেননি। তিনি মেয়েকে বিয়ে দিতে অসম্মতি জানান। এ সিদ্ধান্তে তার মেয়ে কল্যাণীও সাড়া দিয়েছে। কল্যাণী দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সারা জীবন মেয়েদের শিক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার ব্রত গ্রহণ করেছে।

‘অপরিচিতা’ গল্প এবং উদ্দীপক উভয় স্থানেই যৌতুকপ্রথা এবং কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। ‘অপরিচিতা’ গল্পে এ বিষয় ছাড়াও অমানবিক যৌতুকপ্রথার বিরুদ্ধে কন্যার পিতার অবস্থান, বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর কল্যাণীর বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত এবং মেয়েদের শিক্ষাদানের ব্রত গ্রহণ করার কথা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের ঘটনাচিত্রে ‘অপরিচিতা’ গল্পের খণ্ডাংশ প্রতিফলিত হয়েছে।

সারকথা : যৌতুকপ্রথা, বিবাহযোগ্যা মেয়ের বয়স, কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার অবস্থার কথা ‘অপরিচিতা’ গল্প এবং উদ্দীপক উভয় ক্ষেত্রেই ” প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু যৌতুকপ্রথার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধ এবং নারীর পুরুষতন্ত্রের অমানবিকতার বিরুদ্ধে অসামান্য হয়ে ওঠার বিষয়গুলো উদ্দীপকে নেই। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

এই অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র) ছাড়াও আরো পড়ুন