আঠারো বছর বয়স কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

আঠারো বছর বয়স কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র): শিক্ষার্থীরা তোমাদের বাংলা পদ্য আঠারো বছর বয়স এর সর্বশেষ বোর্ড প্রশ্ন উত্তরসহ এখানে দিয়েছি। আশাকরি তোমরা এখান থেকে প্রস্তুতি ও পরীক্ষার ধারণা নিতে পারবে।

Read more:

অনুধাবনমূলক

প্রশ্ন ১। ‘তবু আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি’— সম্প্রসঙ্গ পঙ্ক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
প্রশ্ন ২। “এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য।”— এ কথার তাৎপর্য কী?
৩। কবি কেন যৌবনশক্তির জয়গান করেছেন?
প্রশ্ন ৪। “এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে”— পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।
প্রশ্ন ৫। “আঠারো বছর বয়স মাথা নোয়াবার নয়”– কেন?
৬। ‘আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
প্রশ্ন ৭। ‘আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়’— বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

প্রশ্ন ৮। ‘তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা’- বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর : পৃথিবীব্যাপী অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, নিপীড়ন, বৈষম্য, ভেদাভেদ দেখে যৌবনাধিকারী তাজা তাজা তরুণরা যন্ত্রণায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। আঠারো বছর বয়সে তারুণ্যের সঞ্জীবনীশক্তিতে তরুণরা যৌবনপ্রাপ্ত হয়। এই বয়সে যৌবনের জোয়ারে উজ্জীবিত হয়ে তরুণরা অসীম শক্তি লাভ করে। মন থেকে ভয়-শঙ্কা দূর করে অফুরন্ত সাহসে অগ্রসর হয়। অজানাকে জানা ও অচেনাকে চেনার অদম্য আকাঙ্ক্ষা এই বয়সেই প্রকাশিত হয়। তাই যখন চারপাশে অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন, শোষণ, সামাজিক বৈষম্য ও ভেদাভেদ প্রত্যক্ষ করে তখন প্রাণবন্ত তাজা তরুণরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ও অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করে।

আঠারো বছর বয়স কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

প্রশ্ন ৯। ‘এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে’- পঙ্ক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : প্রশ্নোক্ত চরণে কবি বোঝাতে চেয়েছেন- আঠারো বছর বয়সে মনকে সঠিকভাবে চালনা করতে না পারলে অজস্র ব্যর্থতা ঘিরে ধরে। আঠারো বছর বয়সের ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি নানা নেতিবাচক দিকও আছে। এই সময় নানা নেতিবাচক চিন্তা এবং ভুল পথে পরিচালনা জীবনকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে ফেলতে পারে। নানা ধরনের কুমন্ত্রণা এই সময় কানে আসে। সচেতন ও সচেষ্ট হয়ে এগুলো সঠিকভাবে এড়াতে না পারলে ব্যর্থতার অজস্র দীর্ঘশ্বাসে এই বয়স নেতিবাচক কালো অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে । তাই কবি বলেছেন, “এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে।”

প্রশ্ন ১০। আঠারো বছর বয়সের প্রাণ তীব্র আর প্রখর হওয়ার কারণ কী?
উত্তর : আঠারো বছর বয়সে তারুণ্যের মানসিকতা প্রতিজ্ঞালব্ধ ও সন্ধানী হয় বলেই এই বয়সের প্রাণ তীব্র আর প্রখর। আঠারো বছর বয়স হলো তারুণ্যের সময়। এই সময় তরুণ প্রাণ সত্যসন্ধানী হয়। তরুণের রক্ত টগবগ করে ওঠে অন্যায়ের কালো ছায়া দেখলেই। শোষণ ও বঞ্চনা দূর করাই তার মূল উদ্দেশ্য। মূলত চারপাশের অসংগতি নির্ণয় করে তা রোধ করার জন্যই আঠারো বছর বয়সের প্রাণ তীব্র ও প্রখর হয়।

আঠারো বছর বয়স কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

প্রশ্ন ১১। ‘আঠারো বছর বয়স’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর : ‘আঠারো বছর বয়স’ বলতে কবি মানবজীবনের এক উত্তরণকালীন পর্যায়কে বুঝিয়েছেন । আঠারো বছর বয়স মানবজীবনের কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের সময়। এই বয়সে মানুষ যৌবনশক্তি ও তারুণ্যশক্তি লাভ করে, অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা পরিহার করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। কারণ এই বয়স মানে না কোনো বাধা, কোনো অন্যায়-অত্যাচার-নিপীড়ন ও পরাধীনতা। এই বয়স মুক্ত বিহঙ্গের মতো পাখা মেলে আকাশে উড়তে চায়, অন্যায়ের প্রতিবাদ করে শান্তির পৃথিবী গড়তে চায়। আবার ভুল পথে চলে ধ্বংসও ডেকে আনতে পারে এই বয়স।

প্রশ্ন ১২। “এ বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়”- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : আঠারো বছর বয়স দেহ ও মনের স্থবিরতা, নিশ্চলতা, জরাজীর্ণতাকে অতিক্রম করে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলে। তাই কবি মনে করেন এই বয়সে মানুষের মনে কোনো সংশয় থাকে না। ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় কবি বয়ঃসন্ধিকালের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। এই বয়সে থাকে সমস্ত দুর্যোগ ও দুর্বিপাক মোকাবিলা করার অদম্য সাহস ও প্রাণশক্তি। তাই এই বয়সী তরুণরা কোনো সংশয়ে ভোগে না। ভীরুতা ও কাপুরুষতার কোনো স্থান নেই এই বয়সে। তরুণদের এই বয়সকে কবি স্বাগত জানিয়েছেন। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর জন্যই কবি বলেন,“এই বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়।”

আঠারো বছর বয়স কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

প্রশ্ন ১৩। ‘দুর্যোগে হাল ঠিকমতো রাখা ভার’– পঙ্ক্তিটিতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর : দুর্যোগে হাল ঠিকমতো রাখা ভার’ বলতে আঠারো বছর বয়সে যথাযথ পরিচর্যার অভাবে তরুণদের জীবন সমস্যা-সংকটময় হয়ে ওঠাকে বোঝানো হয়েছে। কৈশোর ও যৌবনের সন্ধিক্ষণে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, রাজনৈতিক নানা জটিলতা অতিক্রম করতে হয়। এই সময় সচেতন ও সচেষ্টভাবে নিজেকে পরিচালনা করতে না পারলে পদস্থলন হতে পারে। আর তাতে জীবনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এই কারণেই আঠারো বছর বয়স সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই সময় ‘দুর্যোগে হাল ঠিকমতো রাখা ভার’।

প্রশ্ন ১৪। “সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে’- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : বিপদ মোকাবিলায় তরুণ প্রাণের এগিয়ে আসার বিষয়টি এখানে মূর্ত হয়ে উঠেছে। আঠারো বছর বয়স স্বপ্ন দেখে নতুন জীবনের, নব নব অগ্রগতি সাধনের। তাই সেসব স্বপ্ন বাস্তবায়নে, নিত্যনতুন করণীয় সম্পাদনের জন্য নব নব শপথে বলীয়ান হয়ে তরুণ প্রাণ এগিয়ে যায় দৃঢ় পদক্ষেপে। তারা দেশ ও জনগণের মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তরুণরা শুভ, সুন্দর ও কল্যাণের জন্য প্রাণ দিতে সদা প্রস্তুত থাকে।

প্রশ্ন ১৫। আঠারো বছর বয়সে জীবনে বিপর্যয় নেমে আসার সম্ভাবনা থাকে কেন?
উত্তর : আঠারো বছর বয়সে জীবনের নানা জটিলতাকে অতিক্রম করতে হয় বলে জীবনে বিপর্যয় নেমে আসার সম্ভাবনা থাকে। ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় বিপ্লবী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য আঠারো বছর বয়সের বিচিত্র বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। জীবনের এই সন্ধিক্ষণে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, রাজনৈতিক নানা জটিলতা অতিক্রম করতে হয়। তাছাড়া যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যও এই বয়স যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনই সমূহ বিপর্যয়ের সম্ভাবনাও এই বয়সে বেশি। তাই এই সময় সচেতন ও সচেষ্টভাবে নিজেকে পরিচালনা করতে না পারলে পদস্খলন হতে পারে। অর্থাৎ জীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসার সম্ভাবনা থাকে।

আঠারো বছর বয়স কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

প্রশ্ন ১৬। “বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী”— কবি কেন এই কথা বলেছেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : কবির মতে আঠারো বছর বয়সী তরুণরা সুন্দর, শুভ কল্যাণের জন্য রক্তমূল্য দিতে জানে প্রশ্নোক্ত বাক্যে কবি এই কথাই বলতে চেয়েছেন। আঠারো বছর বয়স মানবজীবনের এক উত্তরণকালীন পর্যায়। নানা দুঃসাহসী স্বপ্ন, কল্পনা ও উদ্যোগ তরুণদের মনকে ঘিরে ধরে। যৌবনে পদার্পণ করে তরুণরা আত্মপ্রত্যয়ী হয়। তারা স্বপ্ন দেখে নতুন জীবনের, নব নব অগ্রগতি সাধনের। দেশ, জাতি ও মানবতার জন্য যুগে যুগে তরুণপ্রাণ এগিয়ে গেছে সবচেয়ে বেশি । তাই কবি বলেছেন, “বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী।”

প্রশ্ন ১৭। আঠারো বছর বয়স সম্পর্কে কবির অনুভূতি ব্যক্ত কর।
উত্তর : ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় কবির ব্যক্তিগত অনুভবের প্রতিফলন ঘটেছে।‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির ঝাঁঝালো ফসল। মানবজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ বয়ঃসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে কবি। উপলব্ধি করেছেন যে, মানুষের জীবনে আঠারো বছর বয়স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এই বয়স যেমন বিশেষভাবে গুরুত্ব বহন করে, তেমনই এই বয়সের মধ্যে জীবনে বিপর্যয় নেমে আসার সম্ভাবনা থাকে। এই ধরনের অনুভূতি থেকেই তিনি ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি রচনা করেছেন।

আঠারো বছর বয়স কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

প্রশ্ন ১৮৷ ‘পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে’- কেন? বুঝিয়ে দাও।
উত্তর : আঠারো বছর বয়সের তরুণরা অদম্য প্রাণশক্তির অধিকারী বলে কোনো বাধাই তাদের চলার গতি রোধ করতে পারে না। ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য আঠারো বছর বয়সের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। কবির মতে অদম্য এই বয়সের আছে সমস্ত দুর্যোগ আর দুর্বিপাক মোকাবিলা করার অফুরন্ত প্রাণশক্তি। যৌবনের উদ্দীপনা, সাহসিকতা, দুর্বার গতি,নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন ও কল্যাণব্রত এসব বৈশিষ্ট্যের জন্য কবি প্রত্যাশা করেছেন, নানা সমস্যাপীড়িত আমাদের দেশে তারুণ্য ও যৌবনশক্তি যেন জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়। কারণ এই বয়সের তরুণেরা দেশ ও জাতির কল্যাণে। অকাতরে জীবন দেয়, তবু পিছু হটতে জানে না।

এই আঠারো বছর বয়স কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র) ছাড়াও আরো জানুন