আমার পথ প্রবন্ধের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

আমার পথ প্রবন্ধের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র): শিক্ষার্থীরা তোমাদের বাংলা গদ্য অংশ আমার পথ এর সর্বশেষ বোর্ড প্রশ্ন উত্তরসহ এখানে দিয়েছি। আশাকরি তোমরা এখান থেকে প্রস্তুতি ও পরীক্ষার ধারণা নিতে পারবে।

আমার পথ প্রবন্ধের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র))

সাজেশন

আরো পড়ুনঃ

সর্বশেষ বোর্ডে আসা প্রশ্ন সাজেশন

প্রশ্ন ১। “যার ভেতরে ভয়, সেই বাইরে ভয় পায়।”— ব্যাখ্যা দাও।
প্রশ্ন ২। “আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে।” – ব্যাখ্যা
৩। কাজী নজরুল ইসলাম ‘আমার সত্য’ বলতে কী বুঝিয়েছেন?
প্রশ্ন ৪। মানুষ-ধর্মকে সবচেয়ে বড় ধর্ম বলা হয় কেন?
প্রশ্ন ৫। ‘সবচেয়ে বড় দাসত্ব’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

শীর্ষস্থানীয় কলেজসমূহের প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ৬º ‘আমি আছি’— এই কথা না বলে বলতে লাগলাম ‘গান্ধীজি আছেন’– উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর : ‘আমি আছি’ এই কথা না বলে বলতে লাগলাম ‘গান্ধীজি আছেন’— এই উক্তিটি দ্বারা পরাবলম্বনকে বোঝানো হয়েছে। প্রত্যেক মানুষের স্বাধীন সত্তা রয়েছে। যারা নিজের সত্তাকে সম্মান করতে জানে না তারা চিরকালই দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকে । নিজেকে চিনলে নিজের শক্তির ওপর অটুট বিশ্বাস আসে। এই স্বাবলম্বনের কথাই শেখাচ্ছিলেন গান্ধীজি। কিন্তু আমরা এর উল্টা বুঝলাম। আমাদের এই পরাবলম্বন আমাদের নিষ্ক্রিয় করে ফেলে।

প্রশ্ন ৭। “এই পরাবলম্বনই আমাদের নিষ্ক্রিয় করে ফেলল”– লেখক কেন একথা বলেছেন?
উত্তর : “এই পরাবলম্বনই আমাদের নিষ্ক্রিয় করে ফেলে”– লেখক একথা বলেছেন এই কারণে যে, আত্মনির্ভরশীল না হয়ে দাসত্ব স্বীকার করলে মানুষ জড় পদার্থে পরিণত হয়। প্রত্যেক মানুষের স্বাধীন সত্তা রয়েছে। যারা নিজের সত্তাকে সম্মান করতে জানে না তারা চিরকালই দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকে। তাদের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার সব চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা লোপ পেয়ে যায়। তাই লেখক বলেছেন সবাইকে স্বাবলম্বী হতে। অন্যের ওপর নির্ভরশীল হলে মানুষ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এতে স্বাধীনভাবে বাঁচার মানসিকতা হারিয়ে যায়। এ বিষয়টি বোঝাতেই লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

আমার পথ প্রবন্ধের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

প্রশ্ন ৮। ‘এটা দম্ভ নয়, অহংকার নয়।’— কথাটি বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর : নিজেকে জানা, নিজের অন্তরের সত্যকে উপলব্ধি করা- এটা দন্ড নয়, অহংকার নয়। যে মানুষ নিজেকে চেনে তার মনের মধ্যে অপরিসীম জোর আসে। এই মনের জোরেই সে অন্য কাউকে ভয় করে না। আপন সত্যের শক্তিতে সে সব বাধা জয় করে। লেখকের মতে এভাবে নিজেকে চেনা এবং নিজের শক্তিতে আস্থা স্থাপন করা কোনো দন্ড নয়, অহংকার নয়— তা তার আত্মনির্ভরশীলতা।

প্রশ্ন ৯। ‘ভুলের মধ্য দিয়েই সত্যকে পাওয়া যায়।’- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ‘ভুলের মধ্য দিয়েই সত্যকে পাওয়া যায়।’- উক্তিটির মাধ্যমে লেখক সত্য সাধনায় ভুলকে ইতিবাচক হিসেবে মনে করেছেন। ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে লেখক সত্য পথের সন্ধান করেছেন। তিনি মনে করেছেন- মিথ্যা, ভয়, ভণ্ডামি থেকে মুক্ত হলেই মানুষে মানুষে প্রাণের সম্মিলন ঘটানো সম্ভব। এ কারণেই তিনি সত্যের সাধনা দ্বারা দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে চেয়েছেন। এই কাজ করতে গিয়ে লেখক ভুল করতেও রাজি। কারণ ভুল না করলে সঠিক জিনিসটি এত সহজে শেখা যায় না। তবে ভুল করে যদি কেউ ভুলকেই সত্য বলে আঁকড়ে ধরে থাকে তবে তার পক্ষে সঠিক জ্ঞান অর্জন কখনই সম্ভব নয়। এজন্য লেখক ভুল করতে রাজি, ভুল স্বীকার করতেও তিনি কুণ্ঠিত নন।

প্রশ্ন ১০। রকম বিনয়ের চেয়ে অহংকারের পৌরুষ অনেক- অনেক ভালো’— ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : নিজের সত্যকে অস্বীকার করে অতিরিক্ত বিনয় প্রদর্শনের চেয়ে আত্মবিশ্বাস ও সততায় বলিষ্ঠ হয়ে আপন পৌরুষ জাহির করা অনেক ভালো। অতিরিক্ত বিনয় দুর্বলতার নামান্তর; তার চেয়ে নিজেকে চিনে আপনার সত্যকে আপনার গুরু, পথপ্রদর্শক, কাণ্ডারি বলে জানা ঢের ভালো। কেউ কেউ এটিকে অহংকার বলে মনে করতে পারে। প্রাবন্ধিকের মতে, আত্মবিশ্বাসের এই অহংকারকে পৌরুষের অহংকার বলাই সংগত। মিথ্যা বিনয়ের চেয়ে এই পৌরুষের অহংকার বহুগুণ ভালো ।

প্রশ্ন ১১। প্রাবন্ধিক ভুল করতে রাজি আছেন কেন?
উত্তর : প্রাবন্ধিক ভুল করতে রাজি আছেন, কারণ ভুলের মধ্য দিয়ে সঠিক বিষয়টি জানা যায় এবং অভিজ্ঞতা লাভ করা যায়। ভুল স্বীকার করার মধ্য দিয়ে মানুষ শিখতে পারে। এই শেখার মাধ্যমে মানুষের জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়। ভুল না করলে মানুষ কখনই সঠিক বিষয়টি শিখতে পারবে না। তবে ভুল করে যদি কেউ ভুলকেই সত্য বলে আঁকড়ে ধরে থাকে তবে তার দ্বারা সঠিক জ্ঞান অর্জন কখনই সম্ভব নয়। তাই প্রাবন্ধিক ভুল করতে রাজি আছেন, কিন্তু ভণ্ডামি করতে রাজি নন।

আমার পথ প্রবন্ধের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

প্রশ্ন ১২। “যে নিজের ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখনো অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না।”— ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : আলোচ্য উক্তিটির দ্বারা লেখক সাম্প্রদায়িকতার প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ।লেখক অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী। হিন্দু-মুসলমানের মিলনের অন্তরায় কোথায় তা দেখিয়ে দেওয়া এবং সব জটিলতা দূর করাই তাঁর উদ্দেশ্য। মানুষে মানুষে যেখানে প্রাণের মিল,সত্যের মিল থাকে সেখানে কোনো ধর্মের বৈষম্য বা হিংসার ভাব থাকতে পারে না। দেশের পক্ষে যা ভালো বা সত্য তা লক্ষ্য করেই লেখকের এই যাত্রা। তাঁর বিশ্বাস, যার নিজের ধর্মের ওপর বিশ্বাস আছে, যে নিজের সত্যকে চিনেছে, সে অন্যের ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না।

প্রশ্ন ১৩। “ওতে মানুষকে ক্রমেই ছোট করে ফেলে”- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : আলোচ্য বাক্যে বোঝানো হয়েছে, অনেক সময় খুব বেশি বিনয় দেখাতে গিয়ে নিজের সত্যকে অস্বীকার করে ফেলা হয়। নিজেকে চেনা, আপনার সত্যকে নিজের পথপ্রদর্শক বলে জানা দম্ভ বা অহংকার নয়। এটি আত্মাকে চেনার সহজ স্বীকারোক্তি। আর যদি এটিকে কেউ ভুল করে অহংকার বলে মনে করে তবুও সেটি ভালো। অর্থাৎ মিথ্যা বিনয়ের চেয়ে অনেক বেশি ভালো। অনেক সময় খুব বেশি বিনয় দেখাতে গিয়ে নিজের সত্যকে অস্বীকার করে ফেলা হয়। এটি মানুষকে ক্রমান্বয়ে ছোট করে ফেলে, মাথা নিচু করে আনে। প্রশ্নোক্ত বাক্যে এমনটিই বোঝানো হয়েছে।

আমার পথ প্রবন্ধের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

প্রশ্ন ১৪। নিজের শক্তির ওপর অটুট বিশ্বাস আসে কীভাবে?
উত্তর : নিজকে প্রকৃতরূপে চিনলে, নিজের সত্যকে কর্ণধার বলে মানলে নিজের শক্তির ওপর প্রবল বিশ্বাস আসে। নিজের ওপর বিশ্বাস বা স্বাবলম্বনের পথপ্রদর্শক ছিলেন মহাত্মা গান্ধী। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা তাঁর কথা না বুঝে, তাঁর ‘আমি আছি’— এ কথার পরিবর্তে সবাই ‘গান্ধীজী আছেন’ এরূপ বলতে শুরু করেছিলাম। অথচ নিজের শক্তির ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হলে আমাদের প্রত্যেকের সর্বপ্রথম যেটি করণীয় তা হলো- ‘নিজেকে চেনা বা আত্মনির্ভরশীল হওয়া’ ।

প্রশ্ন ১৫। প্রাবন্ধিক নতুন জাত বা প্রজন্ম গড়ে তুলতে কী পরামর্শ দিয়েছেন?
উত্তর : প্রাবন্ধিক কাজী নজরুল ইসলাম এদেশে নতুন জাত বা প্রজন্ম গড়ে তুলতে পুরনো পচন ধরা সমাজকে আমূল পরিবর্তিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রাবন্ধিক মনে করেন যার ভিত্তিতে পচন ধরেছে সেটি শিকড়সহ উপড়ে ফেলতে হবে। নতুন করে ভিত্তি না গাঁথলে তার ওপর ইমারত গড়া যাবে না, গড়লে তা ভেঙে পড়ে যাবে। এজন্য তিনি দেশের যারা শত্রু, দেশের যা কিছু মিথ্যা, ভণ্ডামি, মেকি তা দূর করতে আগুনের সম্মার্জনার প্রয়োজনের কথা বলেছেন। সম্মার্জনা দিয়ে এসব দূর করে লেখক নতুন জাত বা প্রজন্ম গড়ে তুলতে পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রশ্ন ১৬। প্রাবন্ধিকের মতে সত্যকে কীভাবে পাওয়া যায়?
উত্তর : লেখকের মতে, একমাত্র ভুলের মধ্য দিয়েই প্রকৃত সত্যকে পাওয়া যায়। ভুল বুঝতে জেনে, বুঝে ভুলকে কখনই ধরে রাখা উচিত নয়। তাই লেখক সত্য আবিষ্কারে ভুলের বা মিথ্যার কাছ থেকে শিক্ষা নিতে রাজি আছেন।

এই আমার পথ প্রবন্ধের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র) ছাড়াও আরো পড়ুন