কোষ ও এর গঠন সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

কোষ ও এর গঠন সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর এবং সাজেশান্স দেওয়া হয়েছে এইচএসসি শিক্ষার্থীদের অনুশীলন এবং পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য।

যশোর বোর্ড ২০১৯

১। শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে কোষের গঠন পড়াতে গিয়ে কোষকে বেষ্টন করে থাকা x ও y দু’ধরনের আবরণীর গঠন বর্ণনা দিলেন। x শুধু উদ্ভিদ কোষে পাওয়া যায় এবং y উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় কোষে পাওয়া যায়।

(ক) ক্লোরোপ্লাস্ট কী?
(খ) লাইসোজোমকে আত্মঘাতী থলিকা বলার কারণ ব্যাখ্যা কর।
(গ) উদ্দীপকে নির্দেশিত x অংশের ভৌত গঠন বর্ণনা কর।
(ঘ) উদ্দীপকে নির্দেশিত y অংশের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মডেলের নামকরণের যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

ক) উদ্ভিদকোষের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত বিভিন্ন আকৃতির এবং সবুজ বর্ণের যে প্লাস্টিড সালােকসংশ্লেষণে বিশেষ ভূমিকা রাখে তাই ক্লোরােপ্লাস্ট।

খ) লাইসােসােমের ভেতর বিভিন্ন ধরনের এনজাইম থাকে। অনেক সময় তীব্র খাদ্যাভাবে লাইসােসােমের প্রাচীর ফেটে যায় এবং আবদ্ধকৃত এনজাইম ভেতর থেকে বের হয়ে কোষের অন্যান্য ক্ষুদ্রাগুলােকে ধ্বংস করে ফেলে। এজন্য লাইসােসােমকে আত্মঘাতী থলিকা বলা হয়।

গ নং প্রশ্নের উত্তর

গ) উদ্দীপকে নির্দেশিত X অংশটি হলাে কোষ প্রাচীর। নিচে কোষ প্রাচীরের ভৌত গঠন বর্ণনা করা হলাে-
১. মধ্যপর্দা : মাইটোটিক কোষ বিভাজনের টেলােফেজ পর্যায়ে এর সূচনা ঘটে। সাইটোপ্লাজম থেকে আসা ফ্র্যাগমােপ্লাস্ট এবং গলগি বডি থেকে আসা পেকটিন জাতীয় ভেসিকলস্ মিলিতভাবে মধ্য পর্দা সৃষ্টি করে। পেকটিক অ্যাসিড বেশি থাকার কারণে এটি প্রথম দিকে জেলির মতাে থাকে। কোষ প্রাচীরের সে স্তরটি দুটি পাশাপাশি কোষের মধ্যবর্তী সাধারণ পর্দা হিসেবে অবস্থান করে তার নাম মধ্যপর্দা । এটি বিগলিত হয়ে গেলে দুটি কোষ পৃথক হয়ে যায়।

২. প্রাথমিক প্রাচীর : এটি দ্বিতীয় স্তর। মধ্যপর্দার ওপর সেলুলােজ,হেমিসেলুলােজ এবং গ্লাইকোপ্রােটিন ইত্যাদি জমা হয়ে একটি পাতলা স্তর তৈরি করে। এটিই প্রাথমিক প্রাচীর । মধ্য পর্দার অন্তঃতলে এটি তৈরি হয়।

৩. সেকেন্ডারি প্রাচীর : কোনাে কোনাে কোষে প্রাথমিক প্রাচীরের ওপর আর একটি স্তর তৈরি হয়। এটি সাধারণত কোষের বৃদ্ধি পূর্ণাঙ্গ হবার পর ঘটে থাকে। এ স্তরটি অধিকতর পুরু (৫-১০ gm)। এতে সাধারণত সেলুলােজ এবং লিগনিন জমা হয়। এটি সেকেন্ডারি প্রাচীর । এটির তিনটি স্তর থাকে। ভাজক কোষে এবং অধিক মাত্রায় বিপাকীয় অন্যান্য কোষে সেকেন্ডারি প্রাচীর তৈরি হয় না ।

ঘ প্রশ্নের উত্তর

ঘ) উদ্দীপকে নির্দেশিত y অংশটি হলাে প্লাজমামেমব্রেন বা কোষঝিল্লি এবং এর গ্রহণযােগ্য মডেল বলতে এখানে ফ্লুইড মােজাইক মডেলের কথা বলা হয়েছে। নিচে মডেলটির নামকরণের যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলাে-
বিজ্ঞানী Singer Nicolson ১৯৭২ সালে প্লাজমামেমব্রেনের ফ্লুইড মােজাইক মডেলটি প্রবর্তন করেন। এ মডেলটি সর্বাধুনিক এবং সর্বজনস্বীকৃত হয়েছে। এ মডেল অনুযায়ী প্লাজমামেমব্রেন দ্বিস্তরী মেমব্রেনের প্রত্যেক স্তরে ফসফোলিপিড থাকে এবং ‘লিপিড বাইলেয়ার গঠন করে। প্রতিটি ফসফোলিপিডে এক অণু গ্লিসারল থাকে এবং এর সাথে দুটি নন পােলার ফ্যাটি এসিড লেজ ও একটি পােলার ফসফেট মাথা থাকে।

এছাড়াও থাকে বিভিন্ন ধরনের প্রােটিন সমন্বয়ে গঠিত মেমব্রেন প্রােটিন। ফসফোলিপিড অণুর ফাকে ফাকে কোলেস্টেরল থাকে যা প্রাণিকোষের মেমব্রেনে বেশি থাকে। এ মডেল অনুযায়ী প্রােটিন এবং গঠন উপাদানসমূহকে স্থির ধরা হয় না বরং মনে করা হয় এৱা ফসফোলিপিডে ভেসে থাকে। ফলে এদের মােজাইকের মতাে দেখা যায়। এ মডেল অনুযায়ী প্লাজমামেমব্রেন অনেকটা তরল পদার্থের ন্যায় আচরণ করে এবং এতে বিভিন্ন গঠন উপাদানের স্থানান্তর, ঘূর্ণন বা flip-flop movement ঘটে। এসব বৈশিষ্ট্যের কথা বিবেচনা করে প্লাজমামেমব্রেনের এই মডেলটির নামকরণ হয়েছে ফ্লুইড মােজাইক মডেল । পরিশেষে বলা যায়। মডেলটির নামকরণ যথার্থ হয়েছে।

এখানে কোষ এর গঠন সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর এবং সাজেশান্স দেওয়া হয়েছে।

সিলেট বাের্ড ২০১৯

২। একজন শিক্ষার্থী উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের চিত্র পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে উদ্ভিদকোষে একটি প্রাচীর দেখতে পেল, যা প্রাণিকোষে নেই। আবার প্রাচীরের ভিতরে একটি পর্দা দেখতে পেল, যা প্রাণিকোষকেও আবৃত করে রেখেছে। এই পর্দা সম্পর্কে পড়তে গিয়ে দেখল, সূক্ষ্ম গঠনে এটি মোজাইক সদৃশ।

(ক) SSBP কী?
(খ) কোষকে জীবদেহের গঠন এবং কাজের একক বলা হয় কেন?
(গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাচীরটির ভৌত গঠন বর্ণনা কর।
(ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত পর্দাটিকে কেন মােজাইক সদৃশ বলা হয়েছে- বিশ্লেষণ কর।

ক) একজন শিক্ষার্থী উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের চিত্র পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে উদ্ভিদকোষে একটি প্রাচীর দেখতে পেল যা প্রাণিকোষে নেই। আবার SSBP হলাে Single Strand Binding Protein নামক এক ধরনের প্রােটিন যা DNA রেপ্লিকেশনের সময় DNA অণু আলাদা রাখে।

) কোষের মধ্যেই জীবদেহের সকল বিপাকীয় কর্মকাণ্ড চলমান । কোষের মধ্যে জীবের ধর্মগুলাের প্রতিফলন দেখা যায় । সজীব ভেদ্য পর্দা দ্বারা আবৃত কোষের মধ্যেই প্রতিনিয়ত ঘটে চলে জীবনের প্রয়ােজনীয় জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলাে। এ কারণেই কোষকে জীবদেহের গঠন এবং কাজের একক বলা হয়।

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাচীরটি হলাে কোষ প্রাচীর। নিচে কোষ প্রাচীরের ভৌত গঠন বর্ণনা করা হলাে-

১. মধ্যপর্দা : মাইটোটিক কোষ বিভাজনের টেলােফেজ পর্যায়ে এর সূচনা ঘটে। সাইটোপ্লাজম থেকে আসা ফ্র্যাগমােপ্লাস্ট এবং গলগি বডি থেকে আসা পেকটিন জাতীয় ভেসিকলস্ মিলিতভাবে মধ্য পর্দা সৃষ্টি করে। পেকটিক অ্যাসিড বেশি থাকার কারণে এটি প্রথম দিকে জেলির মতাে থাকে। কোষ প্রাচীরের সে স্তরটি দুটি পাশাপাশি কোষের মধ্যবর্তী সাধারণ পর্দা হিসেবে অবস্থান করে তার নাম মধ্যপর্দা । এটি বিগলিত হয়ে গেলে দুটি কোষ পৃথক হয়ে যায়।

২. প্রাথমিক প্রাচীর : এটি দ্বিতীয় স্তর। মধ্যপর্দার ওপর সেলুলােজ,হেমিসেলুলােজ এবং গ্লাইকোপ্রােটিন ইত্যাদি জমা হয়ে একটি পাতলা স্তর তৈরি করে। এটিই প্রাথমিক প্রাচীর । মধ্য পর্দার অন্তঃতলে এটি তৈরি হয়।

৩. সেকেন্ডারি প্রাচীর : কোনাে কোনাে কোষে প্রাথমিক প্রাচীরের ওপর আর একটি স্তর তৈরি হয়। এটি সাধারণত কোষের বৃদ্ধি পূর্ণাঙ্গ হবার পর ঘটে থাকে। এ স্তরটি অধিকতর পুরু (৫-১০ gm)। এতে সাধারণত সেলুলােজ এবং লিগনিন জমা হয়। এটি সেকেন্ডারি প্রাচীর । এটির তিনটি স্তর থাকে। ভাজক কোষে এবং অধিক মাত্রায় বিপাকীয় অন্যান্য কোষে সেকেন্ডারি প্রাচীর তৈরি হয় না ।

ঘ প্রশ্নের উত্তর

ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত পর্দাটি হলাে প্লাজমামেমব্রেন বা কোষঝিল্লি প্লাজমামেমব্রেন একটি গতিশীল অর্ধতরল গঠন। এটি প্রধানত লিপিড ও প্রােটিন দিয়ে তৈরি। প্লাজমামেমব্রেনের গঠনশৈলী সম্পর্কিত কয়েকটি মডেল রয়েছে তন্মধ্যে ফ্লুইড-মােজাইক মডেলটি সর্বাধুনিক এবং সর্বজনস্বীকৃত। এ মডেল অনুযায়ী প্লাজমামেমব্রেনে লিপিড বাইলেয়ার, মেমব্রেন প্রােটিন, গ্লাইকোক্যালিক্স, কোলেস্টেরল ইত্যাদি গাঠনিক উপাদান দেখা যায়।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্লাজমামেমব্রেনটি বা কোষঝিল্লিটি অনেকটা অর্ধতরল পদার্থের ন্যায় আচরণ করে। অর্ধতরল এ সংগঠনে লিপিড অণু তরল পদার্থের ন্যায় ঝিল্লির একই স্তরে স্থান পরিবর্তন করে, পাশে ব্যাপ্ত হয় এবং অক্ষ বরাবর ঘুরতে পারে; একে ফ্লিপ-ফ্লপ সঞ্চালন বা flip-flop movement বলে। এসব কারণে এদের মােজাইকের মতাে দেখা যায় । অর্থাৎ, প্লাজমামেমব্রেনের উপাদানসমূহ স্থির না থেকে স্থানপরিবর্তন, ব্যাপ্ত হওয়া এবং চলাচলের কারণে প্লাজমামেমব্রেনকে মােজাইক সদৃশ বলা হয়েছে।

জীববিজ্ঞানঃ কোষ এর গঠন সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর এবং সাজেশান্স

ঢাকা বোর্ড ২০১৯

৩। রবিন, কোষের বিভিন্ন অঙ্গাণু পড়ার সময় দেখল দ্বিস্তরবিশিষ্ট দুটি কোষীর অঙ্গাণু একটি শক্তিঘর নামে ও অপরটি কোষের ট্রাফিক পুলিশ।

(ক) অটোফ্যাগী কী?
(খ) রাইবােসােমকে সর্বজনীন অঙ্গাণু বলা হয় কেন?
(গ) উদ্দীপকের ২য় অঙ্গাণুটির গঠন চিত্রসহ লিখ।
(ঘ) উদ্দীপকের ১ম অঙ্গাণুটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

ক) প্রতিকূল পরিবেশে অর্থাৎ তীব্র খাদ্যাভাবের সময় বা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় লাইসােসােমের এনজাইম মুক্ত হয়ে কোষের অন্যান্য অঙ্গাণুকে বিনষ্ট করার প্রক্রিয়াকে অটোফ্যাগী বা স্বগ্রাস বলে।

খ ঝিল্লীবিহীন যে কোষীয় অঙ্গাণুতে প্রােটিন সংশ্লেষণ হয় তাকে রাইবােসােম বলে। সকল সজীব কোষে রাইবােসােম থাকে। তবে আদিকোষ ও প্রকৃত কোষে উপস্থিত থাকার কারণেই রাইবােসােমকে সর্বজনীন অঙ্গাণু বলা হয়। আদিকোষে 70 S ও প্রকৃতকোষে ৪০ S ধরনের রাইবােসােম থাকে ।

গ) উদ্দীপকের ২য় অঙ্গাণুটি হলাে গলজি বডি। এটি কোষের ট্রাফিক পুলিশ হিসেবে পতি। নিচে গলজি বডির গঠন চিত্রসহ লেখা হলাে-
১. সিস্টারনি : অসমান দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট ও সমান্তরালভাবে অবস্থিত লম্বা ও চ্যাপ্টা নালিকা সদৃশ বস্তুগুলাে সিস্টারনি নামে পরিচিত। সম্ভবত মসৃণ এন্ডােপ্লাজমিক রেটিকুলাম থেকে সিস্টারনির উৎপত্তি হয় ।
২. ভ্যাকুওল : সিস্টারনির কাছে অবস্থিত গােলাকৃতির থলির মতাে অংশগুলােকে ভ্যাকুওল বলে। সিস্টারনির প্রাচীর চওড়া হয়ে ভ্যাকুওলের সৃষ্টি করে।

কোষ ও এর গঠন সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
চিত্র : গলজি বাড়ির গঠন

৩. ভেসিকল : সিস্টারনির নিচের দিকে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র থলির মতাে বস্তুগুলােকে ভেসিকল বলে ।

ঘ প্রশ্নের উত্তর

ঘ) উদ্দীপকের ১ম অঙ্গাণুটি হলাে মাইটোকন্ড্রিয়া। এটি কোষের শক্তিঘর হিসেবে পরিচিত। নিচে মাইটোকন্ড্রিয়ার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলাে—

১. কোষের যাবতীয় কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে।
২. শ্বসন ও প্রােটিন সংশ্লেষণের জন্য প্রয়ােজনীয় এনজাইম ও কো-এনজাইম ধারণ করে।
৩. গ্লাইকোলাইসিস ছাড়া শ্বসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ETS, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেসন সম্পন্ন করে।
৪. ADP থেকে ATP অণুর সংশ্লেষ করে ।
৫. বিভিন্ন ধরনের ক্যাটায়ন সতি থাকে।
৬. নিজস্ব DNA, RNA সংশ্লেষ করে।
৭. ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর গঠনে ও শুক্রাণুর চলনে সহায়তা করে।
৮. স্নেহ বা লিপিড বিপাকে সাহায্য করে।
৯. এরা Ca, K এর সক্রিয় পরিবহনে সক্ষম।
১০. কোষের পূর্বনির্ধারিত মৃত্যু নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
১১. অনেক সময় রক্তকণিকা ও হরমােন উৎপাদনে সাহায্য করে।
১২. DNA থাকায় সাইটোপ্লাজমিক ইনহেরিটেন্সে সাহায্য করে।

সাজেসান্সঃ কোষ এর গঠন সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

রাজশাহী বাের্ড ২০১৯

৪। কোষ অঙ্গাণু ‘J’ উদ্ভিদ কোষে বর্তমান এবং আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। কোষ অঙ্গাণু ‘K’ সকল কোষে বর্তমান এবং এক প্রকার জৈব এসিডের ছাঁচ অনুযায়ী অ্যামিনো এসিড দ্বারা বৃহদাকার জৈব অণু তৈরি করে।

(ক) সাইটোপ্লাজম কী?
(খ) নিউট্রাল লিপিড বলতে কী বুঝ?
(গ) উদ্দীপকে ‘J’ কোষ অঙ্গাণুর গঠন চিহ্নিত চিত্রসহ বর্ণনা কর।
(ঘ) মানবদেহে উদ্দীপকের জৈব অণুর গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

ক) নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থিত এবং কোষঝিল্লি দিয়ে পরিবেষ্টিত প্রােটোপ্লাজমীয় অংশের নামই হলাে সাইটোপ্লাজম ।

খ) কোষের মধ্যেই জীবদেহের সকল বিপাকীয় কর্মকাণ্ড চলমান কোষের মধ্যে জীবের ধর্মগুলাের প্রতিফলন দেখা যায়। সজীবভেদ্য পর্দা দ্বারা আবৃত কোষুের মধ্যেই প্রতিনিয়ত ঘটে চলে জীবনের প্রয়ােজনীয় জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলাে। এ কারণেই কোষকে জীবদেহের গঠন এবং কাজের একক বলা হয়।

গ) উদ্দীপকে বর্ণিত ‘J’ কোষ অঙ্গাণুটি হলাে ক্লোরােপ্লাস্ট। নিচে ক্লোরােপ্লাস্টের গঠন চিহ্নিত চিত্রসহ বর্ণনা করা হলাে-

প্রতিটি ক্লোরােপ্লাস্টে লিপিড প্রােটিন দ্বারা তৈরি একটি দ্বিস্তরী আবরণী বা ঝিল্লি থাকে। আবরণীটি ক্লোরােপ্লাস্টের অভ্যন্তরস্থ নানাবিধ বস্তুসমূহকে রক্ষা করে এবং ক্লোরােপ্লাস্টের ভিতরে বাইরে নানাবিধ বস্তুর যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করে। আবরণী দ্বারা আবৃত ক্লোরােপ্লাস্টের অভ্যন্তরে যে স্বচ্ছ, দানাদার, অসমসত্ত্ব জলীয় পদার্থ থাকে তাকে স্ট্রোমা বলে। স্ট্রোমার মধ্যে চাকতির মতাে বস্তু সহযােগে ৬০-৮০ টি ঢাক-সদৃশ দেখা যায়।

কোষ ও এর গঠন সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
চিত্র : ক্লোরােপ্লাস্টের বিভিন্ন অংশ (সরলীকৃত)

এরকম এক একটি গঠনকে গ্রানাম (বহুবচনে গ্রানা) এবং এক একটি চাকতি সদৃশ বস্তুকে থাইলাকয়েড বা গ্রানাম ল্যামেলাম বলে। দুটি পাশাপাশি অবস্থিত গ্রানাম কিছুসংখ্যক সুস্থ নালিকা দ্বারা যুক্ত থাকে। এদেরকে স্ট্রোমা ল্যামেলী বলে। এদের অভ্যন্তরে ক্লোরােফিল বিদ্যমান। থাইলাকয়েড মেমব্রেন বহু গােলাকার বস্তু বহন করে। এর মধ্যে ATP তৈরির সকল এনজাইম থাকে। এছাড়া মেমব্রেনগুলােতে অসংখ্য ফটোসিনথেটিক ইউনিট থাকে। এসব ইউনিটে ক্লোরােফিল-এ ও ক্লোরােফিল-বি, ক্যারােটিন, জ্যাস্তােফিল এর প্রায় ৩০০-৪০০ অণু থাকে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের এনজাইম, ধাতব আয়ন, ফসফোলিপিড ইত্যাদি থাকে। প্রতিটি ক্লোরােপ্লাস্টে নিজস্ব DNA ও রাইবােসোম থাকে। এগুলাের সাহায্যে ক্লোরােপ্লাস্ট সংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রয়ােজনীয় প্রােটিন তৈরি করতে পারে ।

ঘ প্রশ্নের উত্তর

ঘ) উদ্দীপকের জৈব অণুটি বলতে প্রােটিনকে বােঝানাে হয়েছে। এটি কোষ অঞ্জগাণু K, অর্থাৎ রাইবােসােমে সংশ্লেষিত হয়। প্রােটিন অসংখ্য অ্যামিনাে এসিড সমন্বয়ে গঠিত বৃহদাকার যৌগিক জৈব অণু । মানবদেহে তাই প্রােটিনের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। প্রােটিন মানবদেহের গঠন উপাদানের একটি বড় অংশ। প্রােটিন ছাড়া দেহাঞ্জা বা অঙ্গাণুর গঠন সম্ভব নয়। সজীব দেহ কতগুলাে রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার সমষ্টিমাত্র। আর এসব ক্রিয়া-বিক্রিয়া এনজাইম কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত । সব এনজাইম প্রােটিন।

“জিন’-এর বৈশিষ্ট্য প্রকাশ ঘটে প্রােটিনের মাধ্যমে,আর বৈশিষ্ট্য প্রকাশ ছাড়া জীবের অস্তিত্ব নেই। জীবদেহের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন হরমােন (যেমন- ইনসুলিন, হিমােগ্লোবিন) বিশেষ বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর অধিকাংশ হরমােনই প্রােটিন। দেহের ইমিউন সিস্টেমও প্রােটিন নির্ভর। প্রােটিন দেহের শক্তির উৎস হিসেবেও কাজ করে। এছাড়া কোষচক্র, ট্রান্সক্রিপশন ইত্যাদি সম্পন্ন করতেও প্রােটিনের প্রয়ােজন হয় ।অতএব বলা যায় যে, প্রােটিন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা মানবদেহে অপরিসীম ভূমিকা পালন করে থাকে।

বায়োলজি প্রথম অধ্যায়ঃ কোষ এর গঠন সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর এবং সাজেশান্স

দিনাজপুর বাের্ড ২০১৯

৫। উদ্ভিদ কোষের মধ্যে দুটি বিশেষ অঙ্গাণু রয়েছে। প্রথমটিতে ETS এবং দ্বিতীয়টিতে ফটোসিন্থেটিক ইউনিট বিদ্যমান।

(ক) জীবন্ত জীবাশ্ম কী?
(খ) ফুটবডি বলতে কী বুঝ?
(গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম অঙ্গাণুটির চিহ্নিত চিত্রসহ বর্ণনা কর।
(ঘ) জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় উদ্দীপকের দ্বিতীয় অঙ্গাণুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে- বিশ্লেষণ কর।

ক) বর্তমানকালের কোনাে জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীতকালের কোনাে জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলসম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

খ) এক অণু নিউক্লিওসাইডের সাথে এক অণু ফসফেট যুক্ত হয়ে গঠিত যৌগকে নিউক্লিওটাইড বলে। অন্যভাবে বলা যায় নিউক্লিওসাইডের ফসফেট এস্টার হলাে নিউক্লিওটাইড। এটি নিউক্লিক এসিডের গাঠনিক একক। সাধারণত এক অণু পেন্টোজ সুগার, এক অণু নাইট্রোজেন ক্ষারক ও এক অণু অজৈব ফসফেটের সমন্বয়ে নিউক্লিওটাইড গঠিত। এক্ষেত্রে নিউক্লিওসাইডের ৩নং অথবা ৫নং কার্বনের সাথে ফসফেট গ্রুপটি যুক্ত হয়ে নিউক্লিওটাইড গঠন করে।

গ নং প্রশ্নের উত্তর

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম অঙ্গাণুটি হলাে মাইটোকন্ড্রিয়া । নিচে মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো-

মাইটোকন্ডিয়া একটি দ্বি-স্তরী আবরণী বা মেমব্রেন দ্বারা আবৃত মেমব্রেনটি লিপােপ্রােটিন বাইলেয়ার প্রকৃতির । বাইরের মেমব্রেনটি মসৃণ কিন্তু ভেতরের মেমব্রেনটি কেন্দ্রের দিকে অনেক ভঁজবিশিষ্ট আঙ্গুলের মতাে প্রবর্ধক সৃষ্টি করে । এগুলােকে ক্রিস্টি বলে। দুই মেমব্রেনের মাঝখানের ফাকা স্থানকে বলা হয় বহিঃস্থ কক্ষ এবং ভেতরের মেমব্রেন দিয়ে আবদ্ধ কেন্দ্রীয় অঞ্চলকে বলা হয় অভ্যন্তরীণ কক্ষ,। অভ্যন্তরীণ কক্ষ জেলীর ন্যায় ঘন সমসত্ব পদার্থ ম্যাট্রিক্স দ্বারা পূর্ণ থাকে। অন্তঃআবরণীর অন্তর্গাত্রে অসংখ্য অক্সিজোম থাকে। অক্সিসােম বৃন্তকে স্থানে স্থানে ATP-Synthesis নামক গােলাকার বস্তু আছে। এতে ATP সংশ্লেষিত হয়। এছাড়া সমস্ত ক্রিস্টিব্যাপী অনেক ইলেকট্রন ট্রান্সপাের্ট চেইন অবস্থিত। আগে এগুলােকে একত্রে অক্সিসােম নামে অভিহিত করা হতাে। মাইটোকন্ড্রিয়ার নিজস্ব বৃত্তাকার DNA এবং রাইবােসােম রয়েছে ।

কোষ ও এর গঠন সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
চিত্র : ব্যবচ্ছেদকৃত মাইটোকন্ড্রিয়া
ঘ প্রশ্নের উত্তর

ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত দ্বিতীয় অগাণুটি হলাে ক্লোরােপ্লাস্ট। জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় ক্লোরােপ্লাস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলাে-

ক্লোরােপ্লাস্ট এক ধরনের প্লাস্টিড যার বর্ণ সবুজ। ক্লোরােপ্লাস্ট লিপিড ও প্রােটিনের দ্বিস্তর বিশিষ্ট পর্দার ভেতর স্ট্রোমা নামক জলীয় মাধ্যমে অসংখ্য থলে সদৃশ চাকতির সমন্বয়ে গঠিত। এ চাকতির ভেতরে রয়েছে ATP তৈরির যাবতীয় এনজাইম। এছাড়াও ফটোসিনথেটিক ইউনিটে রয়েছে ক্লোরােফিল-এ, ক্লোরােফিল-বি, ক্যারােটিন এবং জ্যান্থোফিল। ক্লোরােপ্লাস্টের প্রধান কাজ হলাে সালােকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় CO2 ও পানির সাহায্যে শর্করা উৎপন্ন করা।

এর জন্য সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কাজও করে থাকে ক্লোরােপ্লাস্ট। যে কোনাে সবুজ উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির জন্য এ সালােকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল। শক্তির জন্য সকল প্রাণী প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষভাবে সবুজ উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল। সবুজ উদ্ভিদ সালােকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা উৎপন্ন করার সময় O2 উৎপন্ন করে। O2 ছাড়া কোনাে জীব বেঁচে থাকতে পারে না। যেহেতু, এ প্রক্রিয়াগুলাের সাথে ক্লোরােপ্লাস্ট প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তাই জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় এ কোষীয় অঙ্গাণুটি অপরিহার্য। আর এভাবেই ক্লোরােপ্লাস্ট জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

জীববিজ্ঞান ১মপ্ত্রঃ কোষ ও এর গঠন সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর এবং সাজেশান্স

কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯

৬।

ক) জীব সম্প্রদায় কী?
(খ) মরুজ উদ্ভিদ কীভাবে প্রকৃতিতে টিকে থাকে?
(গ) উদ্দীপকের A থেকে B সৃষ্টির প্রক্রিয়া বর্ণনা কর।
(ঘ) উদ্দীপকের চিত্র A থেকে চিত্র B তৈরির প্রক্রিয়াটি প্রোটিন উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ- বিশ্লেষণ কর।

ক) জিন হলাে ক্রোমােসােমের লােকাসে অবস্থিত DNA অণুর সুনির্দিষ্ট সিকুয়েন্স যা জীবের একটি নির্দিষ্ট কার্যকর সংকেত আবদ্ধ করে এবং প্রােটিন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটায়।

খ) মাইটোকন্ড্রিয়াতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি এসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপাের্ট সিস্টেম প্রভৃতি ঘটে থাকে। এটি কোষের যাবতীয় বৈজ্ঞানিক কাজ সম্পাদনের প্রয়ােজনীয় শক্তির একমাত্র উৎস। এজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বা পাওয়ার হাউস বলে।

গ নং প্রশ্নের উত্তর

গ) উদ্দীপকের A ও B দ্বারা DNA ও mRNA এবং A থেকে B সৃষ্টির প্রক্রিয়া বলতে ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াকে বােঝানাে হয়েছে। ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াকে প্রধান ৩টি ধাপে ভাগ করা যায়, যথা—

১. সূচনা বা প্রারম্ভিক ধাপ : এ ধাপে DNA অণুর প্রােমােটার নামক বিশেষ বেস সিকোয়েন্স অংশে ট্রান্সক্রিপশন ফ্যাক্টর ও RNA-পলিমারেজ এনজাইম যুক্ত হয়। প্রােমােটারই RNA-পলিমারেজকে নির্দেশ দেয় DNA অণুর কোন সূত্রের ট্রান্সক্রিপশন ঘটবে এবং ট্রান্সক্রিপশন কোথা থেকে শুরু হবে। প্রােমােটারে সংযুক্ত হওয়ার পর প্রথমে RNA-পলিমারেজ DNA অণুর অংশ বিশেষের পাক খুলে দেয় এবং হাইড্রোজেন বন্ড ভেঙ্গে সূত্র দুটিকে আলাদা করে ফেলে।

২. সূত্র বর্ধিতকরণ বা দীর্ঘায়ন ধাপ : RNA পলিমারেজ-II এনজাইম ATP, GTP, UTP ও” CTP থেকে টেমপ্লেটের ভিত্তিতে প্রয়ােজনীয় নিউক্লিওটাইড যুক্ত করতে থাকে। এভাবে সূচনা স্থান থেকে mRNA-এর সূত্র বর্ধিতকরণ চলতে থাকে (5′ → 3 অভিমুখে) এবং RNA-পলিমারেজ অগ্রসর হতে থাকে। RNA- পলিমারেজ অগ্রসর হওয়ার পর DNA অণুর পাক খুলে যাওয়া অংশে আবার পাক তৈরি হয়।

৩. সমাপ্তিকরণ বা সমাপন ধাপ : RNA সূত্র বর্ধিতকরণ শেষে RNA-পলিমারেজ সমাপ্তি স্থানে পৌছালে এনজাইমটি মুক্ত হয়ে যায় এবং ট্রান্সক্রিপশনের সমাপ্তি ঘটে।

ঘ প্রশ্নের উত্তর

উদ্দীপকের A থেকে B তৈরির প্রক্রিয়াটি অর্থাৎ ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াটি প্রােটিন উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলাে—ট্রান্সক্রিপশন হলাে প্রােটিন উৎপাদনের প্রথম ধাপ। এ প্রক্রিয়ায় দ্বি-সূত্ৰক DNA থেকে mRNA উৎপন্ন হয় যা নিউক্লিয়ার র দ্বারা বের হয়ে ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। ট্রান্সলেশন হলাে mRNA-এর কোডন অনুসারে অ্যামিনাে এসিড যুক্ত হয়ে পলিপেপটাইড তথা প্রােটিন সৃষ্টির প্রক্রিয়া।

ট্রান্সলেশনে রাইবােসােমের 80s 40s ইউনিটের সাথে mRNA যুক্ত এবং নির্দিষ্ট অ্যান্টিকোড়নের জন্য নির্দিষ্ট কোড়ন সংযুক্ত হয়। পরবর্তীতে tRNA এর সাথে যুক্ত অ্যামিনাে এসিডগুলাে পরস্পর পলিপেপটাইড চেইন গঠন করে এবং রাইবােসােমের সাইট হতে বের হয়ে আসে। এই পলিপেপটাইড চেইনই হলাে প্রােটিন। অর্থাৎ বলা যায় যে, ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়ায় প্রােটিন উৎপাদনের ছাঁচ হিসেবে কাজ করে mRNA, যা ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়ায় DNA থেকে উৎপন্ন হয়। যদি ট্রান্সক্রিপশন না হতাে এবং DNA থেকে mRNA উৎপন্ন না হতাে তাহলে ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়া ঘটতাে না এবং প্রােটিনও উৎপন্ন হতে পারতাে না। অতএব বলা যায়, A থেকে B অর্থাৎ DNA থেকে mRNA তৈরির ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াটি প্রােটিন উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জীববিজ্ঞান ১মপত্র প্রথম অধ্যায়ঃ কোষ এর গঠন সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর এবং সাজেশান্স

চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

৭।

ক) কূপ কী?
(খ) র‍্যাফাইড কী- ব্যাখ্যা কর।
(গ) উদ্দীপকে ‘A’ এর অনুরূপ অণু সৃষ্টির প্রক্রিয়া বর্ণনা কর।
(ঘ) বৈশিষ্ট্য প্রকাশে উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘B’ এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

ক) কোষপ্রাচীরে গর্তের ন্যায় অনেক পাতলা এলাকা দেখা যায়,গর্তের ন্যায় ঐ অংশগুলােই হচ্ছে কূপ।

খ) উদ্ভিদ কোষে উপস্থিত সূঁচ আকৃতির ক্যালসিয়াম অক্সালেটের কৃস্টালই হলাে র্যাফাইড । এটি এক প্রকার কোষস্থ নির্জীব বস্তু। কোষীয় বিপাক ক্রিয়ার ফলে উপজাত পদার্থ হিসেবে র‍্যাফাইড তৈরি হয়। উদ্ভিদে বর্জ্য পদার্থ নির্গমনের পৃথক তন্ত্র না থাকায় এরা উদ্ভিদ কোষে জমা থাকে। কচুতে র্যাফাইড দেখা যায়।

গ নং প্রশ্নের উত্তর

গ) উদ্দীপকে ‘A’ হলাে ডাবল হেলিক্স DNA। DNA রেপ্লিকেশন বা অনুলিপন প্রক্রিয়ায় A অর্থাৎ DNA তার অনুরূপ অণু সৃষ্টি করে। নিচে DNA অনুলিপন প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলাে-

১. হাইড্রোজেন বন্ধনের বিলুপ্তি : রেপ্লিকেশনের প্রথম পর্যায়েই DNA ডাবল হেলিক্স এর মধ্যকার পিউরিন, ও পাইরিমিডিন বেসসমূহের সংযােগকারী হাইড্রোজেন বন্ধনের বিলুপ্তি ঘটে। এর ফলে প্রতিটি পলিনিউক্লিওটাইড শিকল পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে একক হেলিক্সে পরিণত হয়। শিকল পৃথক করার ক্ষেত্রে DNA হেলিকেজ এনজাইম সহায়তা করে।

২. পরিপূরক সৃষ্টি : পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে প্রতিটি একক হেলিক্স তার জন্য নতুন পরিপূরক একক হেলিক্স তৈরির ছাঁচ হিসেবে কাজ করে। এখানে নতুন হেলিক্স তৈরির প্রয়ােজনীয় উপাদান, যেমন : শর্করা, নাইট্রোজেন বেস ও ফসফেট যথাস্থানে উপস্থিত হয়ে পরিপূরক সূত্র গঠন করে। এক্ষেত্রে DNA পলিমারেজ এনজাইম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়ন অত্যাবশ্যকীয়। নতুন হেলিক্স এর একটি সব সময়ই ৫’– ৩’ অভিমুখী বৃদ্ধি পায়। একে অগ্রগামী সূত্রক বলে। অপর সূত্রকটি ৩-৫’ অভিমুখী বৃদ্ধি পায়। একে পিছিয়ে পড়া সূত্রক বলে।

কোষ ও এর গঠন সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

চিত্র : অর্ধসংরক্ষণশীল পদ্ধতির মাধ্যমে DNA অণুর রেপ্লিকেশন

৩. পরিপূরক বেস এর বিন্যাস ও নতুন হাইড্রোজেন বন্ড গঠন :রেপ্লিকেশনের ফলে সৃষ্ট নতুন সূত্রক দুটিতে ঘঁচের বেস ক্রমানুসারে পরিপূরক বেসগুলাে বিন্যস্ত হতে থাকে। যেমন : ছাঁচে থায়ামিন বেস থাকলে এর বিপরীতে নতুন সূত্রকে অ্যাডেনিন বেস সংযােজন হবে।

অনুরূপভাবে ছাঁচে সাইটোসিনের বিপরীতে পরিপূরক বেস গুয়ানিনই সংযােজিত হবে। এভাবে পরিপূরক বেসসমূহ হাইড্রোজেন বন্ড দ্বারা আবদ্ধ হয়েই নতুন DNA অণু সৃষ্টি হয়।

ঘ প্রশ্নের উত্তর

ঘ) উদ্দীপকে চিত্রে প্রদর্শিত ‘B’ অংশটি হলাে mRNA । জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে mRNA-এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলাে-

বংশগতীয় বস্তুর প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমােসােম। এ ক্রোমােসােমে রয়েছে DNA যেখানে জিনগুলাে সজ্জিত থাকে। জিনই হচ্ছে জীবের সব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ধারক যা পর্যায়ক্রমে বাহ্যিক চরিত্রসমূহ ফুটিয়ে তােলে। এক্ষেত্রে জিনের মাধ্যমে জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশের প্রথম ধাপ হলাে DNA অণু ব্যবহার করে RNA অণু তৈরি করা। RNA অণু বলতে mRNA-কে বুঝায় । mRNA অণু DNA থেকে আলাদা হয়ে নিউক্লিয়াস থেকে রাইবােসােমে আসে।

সেখান থেকে mRNA কোড করা তথ্য ব্যবহার করে tRNA-র সহায়তায় নির্দিষ্ট সিকুয়েন্স অনুযায়ী প্রয়ােজনীয় অ্যামিনাে অ্যাসিড সংযুক্ত করে পলিপেপটাইড চেইন তৈরি করে। এই চেইন তথা প্রােটিন জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে । উপরের আলােচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে প্রােটিন যে ভূমিকা রাখে তা তৈরিতে mRNA গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । mRNA-র অনুপস্থিতিতে প্রােটিন তৈরি অসম্ভব। আবার প্রােটিন তৈরি না হলে জীবের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যও প্রকাশ পাবে না । সুতরাং জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে ৪ তথা mRNA-র গুরুত্ব অপরিসীম।

অনুসরণঃ কোষ এর গঠন সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর এবং সাজেশান্স

বরিশাল বাের্ড ২০১৯

৮।

(ক) সাইন্যাপসিস কী?
(খ) জেনেটিক কোড়কে ট্রিপলেট কোড বলা হয় কেন?
(গ) উদ্দীপকের প্রদর্শিত ‘B’ এর গঠন বর্ণনা কর।
(ঘ) উদ্দীপকের D প্রক্রিয়ার জৈবিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

ক) দুটি হােমােলােগাস ক্রোমােসােমের জোড় বাঁধার প্রক্রিয়াই হলাে সাইন্যাপসিস ।

খ) যে সংকেত নিউক্লিক এসিডের নিউক্লিওটাইড় অণুক্রমের সাথে অ্যামিনাে এসিডের ক্রমের সম্পর্ক সৃষ্টি করে তাকে জেনেটিক কোড বলা হয়। DNA-তে পাশাপাশি তিনটি নাইট্রোজিনাস বেস মিলিত হয়ে ট্রিপলেট কোড গঠিত হয়। অর্থাৎ প্রত্যেকটা জেনেটিক কোড।তিন অক্ষর বিশিষ্ট (যেমন— AUG, AAA, UUU) হওয়ায় একে টিপলেট কোড বলা হয় ।

নং প্রশ্নের উত্তর

গ। উদ্দীপকে প্রদর্শিত B-চিত্রটি হলাে tRNA বা ট্রান্সফার RNA। যেসব RNA জেনেটিক কোড অনুযায়ী একেকটি অ্যামিনাে অ্যাসিডকে mRNA অণুতে স্থানান্তর করে প্রােটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে। সেগুলােকে ট্রান্সফার RNA বলে। প্রতিটি কোষে প্রায় ৩১ – ৪২ ধরনের tRNA থাকে। নিউক্লিয়াসের ভিতরে tRNA সৃষ্টি হয়। প্রতিটি tRNA-তে মােটামুটিভাবে ৯০টি নিউক্লিয়ােটাইড থাকে। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি tRNA একসূত্রক এবং লম্বা চেইনের মতাে থাকে কিন্তু পরবর্তীতে এটি ভঁজ হয়ে যায় এবং বিভিন্ন বেস-এর মধ্যে জোড়ার সৃষ্টি হয়ে প্রতিটি tRNA-তে একাধিক ফাঁস সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফাঁস হলাে অ্যান্টিকোডন ফাস যা mRNA-এর কোডন-এর সাথে মুখেমুখে বসে যেতে পারে। tRNA-৩’ প্রতি একসূত্রক এবং সবসময়ই CCA ধারায় বেস সজ্জিত থাকে। এখানে অ্যামিনাে অ্যাসিড সংযুক্ত হয়। একে বলা হয় অ্যামিনাে অ্যাসিড সাইট। ফাস অবস্থায় সবসময়ই অ্যান্টিকোন ফাঁস ও অ্যামিনাে অ্যাসিড সাইট বিপরীত অবস্থানে থাকে । তিনটি বেস নিয়ে অ্যান্টিকোডন সৃষ্টি হয়।

ঘ প্রশ্নের উত্তর

উদ্দীপকের D প্রক্রিয়া হলাে DNA অনুলিপন প্রক্রিয়া। নিচে DNA অনুলিপন প্রক্রিয়ার জৈবিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলাে-

যে প্রক্রিয়ায় একটি DNA অণু হতে পূর্বানুরূপ দুটি DNA অণুর সৃষ্টি হয়, তাকে DNA অনুলিপন বলে। DNA অণুর অনুলিপন হয়ে থাকে অর্ধরক্ষণশীল, রক্ষণশীল এবং বিচ্ছুরনশীল পদ্ধতিতে। প্রতিটি জীবের জীবন শুরু হয় একটিমাত্র কোষ থেকে। বহুকোষী জীবের ক্ষেত্রে এককোষী জাইগােট বিভাজিত হয়ে বিভিন্ন টিস্যুতে রূপান্তরিত হয়ে পরিণত জীবদেহ গঠন করে। এককোষী জীবেরা কোষ বিভাজনের মাধ্যমে প্রজনন বা সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটায়।

একটি কোষ বিভাজিত হয়ে দুটি কোষে পরিণত হওয়ার আগেই মাতৃকোষের DNA-ডাবল হেলিক্সটি DNA অনুলিপন প্রক্রিয়ায় দুটি ডাবল হেলিক্সে পরিণত হয়।

অর্থাৎ,DNA-র প্রতিলিপি সৃষ্টিই কোষ বিভাজনের পূর্বশর্ত। গ্যামিট সৃষ্টির জন্যও DNA অনুলিপন প্রয়ােজন। এছাড়াও পূর্ব পুরুষের বৈশিষ্ট্য উত্তর পুরুষে স্থানান্তরের জন্য DNA-অনুলিপন বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া ।পরিশেষে বলা যায় যে, DNA অনুলিপন জীবজগতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া।

এই কোষ এর গঠন সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ছাড়াও ক্লিকঃ

Every HSC Level student can follow this post for his betterment in Biology practice and so on.

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply