তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি :বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি :বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত : অধ্যায় ০১: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি :বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত / Information and Communication Technology: World and Bangladesh Perspective

Read more: আইসিটি ১ম অধ্যায়

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি :বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

ভূমিকা (Introduction)

বিশ্ব আজ মানুষের হাতের মুঠোয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে সহজেই যে কেউ বিশ্বের যেকোনো স্থানের ব্যক্তির সাথে ছবি দেখে সরাসরি কথা বলতে পারছে। ইদানীং গাড়ির পিছনে নম্বর প্লেট দেখেই ডিজিটালের কথা মনে পড়ে যায়। অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থী পড়ার টেবিলে বসেই শিক্ষাবিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে। রোগী ঘরে বসেই কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা নিচ্ছে। কেউ হয়তো ইন্টারনেটেই তার পুরাতন কম্পিউটারটি বিক্রি করে দিচ্ছে। শেয়ার বাজারে না গিয়ে ফোনের মাধ্যমে শেয়ার বেচাকেনা এখন হরহামেশাই ঘটছে। এ সবই সম্ভব হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে। এ অধ্যায়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

অধ্যায়টি অনুশীলন শেষে শিক্ষার্থীরা-

অধ্যায়ের শিখনফল: Learning Outcomes of this Chapter

বিশ্বগ্রামের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে।
বিশ্বগ্রাম ধারণা সংশ্লিষ্ট প্রধান উপাদানগুলো ব্যাখ্যা করতে পারবে।
বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবদান মূল্যায়ন করতে পারবে।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ধারণা বিশ্লেষণ করতে পারবে ।
প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব মূল্যায়ন করতে পারবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাম্প্রতিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করতে পারবে।
তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারে নৈতিকতা বজায় রাখার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারবে।
সমাজ জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রভাব মূল্যায়ন করতে পারবে।
অর্থনৈতিক উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে পারবে।
মূল্যবোধ বজায় রেখে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হবে

প্রধান শব্দ (Key words) > বিশ্বগ্রাম > GPS > ই-বুক ই-মেইল > GIS > ATM > টেলিকনফারেন্সিং > ভিডিও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি > কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা > রোবটিক্স > ক্রায়োসার্জারি কনফারেন্সিং > বুলেটিন বোর্ড > এক্সপার্ট সিস্টেম > বায়োমেট্রিক্স > বায়োইনফরমেটিক্স > জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং > ন্যানোটেকনোলজি > ন্যানো প্রযুক্তি > হ্যাকিং।

সূচনা | Introduction

তথ্য প্রযুক্তি (Information Technology) :

‘তথ্য প্রযুক্তি’ শব্দ দুটি একসাথে ব্যবহৃত হলেও এদের আভিধানিক ও প্রায়োগিক অর্থে বেশ পার্থক্য বিদ্যমান । ইনফরমেশন বা তথ্য হলো সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো ডেটা যা সহজবোধ্য, অর্থবহ, কার্যকর ও ব্যবহারযোগ্য। আর প্রযুক্তি হলো আধুনিক জীবনযাত্রায় ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে এমন একটি মিশ্র পদ্ধতি যার মাধ্যমে জীবনযাত্রা পূর্বের তুলনায় আরও সহজ হয়ে ওঠে । তথ্য শব্দটির ইংরেজি পরিভাষা হলো ‘Information’।

ইংরেজি ইনফরমেশন শব্দটি ল্যাটিন শব্দমূল ‘Informatio থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। এ শব্দটির ক্রিয়ামূল ‘Informate’; যার অর্থ কাউকে কোনো কিছু অবগত করা, পথ দেখানো, আদান-প্রদান ইত্যাদি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভাষায় কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে কম্পিউটারে ডেটা প্রক্রিয়াকরণের ফলে প্রাপ্ত ফলাফলকে তথ্য বা ইনফরমেশন বলে। ইনফরমেশন নির্ভুল, স্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত ও প্রয়োজনীয় হওয়া আবশ্যক ।

তথ্য আহরণ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাকে তথ্য প্রযুক্তি (Information Technology) বলা হয় । সংক্ষেপে এ প্রযুক্তিকে আইটি (IT) বলা হয়। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির সাথে মিলেমিশে তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ ঘটলেও এতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে কম্পিউটার । পাশাপাশি ইন্টারনেট প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে সমগ্র বিশ্বটিই এখন এক বিশাল তথ্য ভাণ্ডারে পরিণত হয়েছে।

প্রতিদিন মানুষের জীবনে নতুন নতুন তথ্যের সমাবেশ ঘটছে । ফলে তথ্যের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন কাজে মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সময়ে উপযুক্ত তথ্য পাওয়ার গুরুত্বও বেড়ে যাচ্ছে। কারণ মানুষের নিজের পক্ষে সব তথ্য মনে রাখা বা হাতের কাছে পাওয়া সম্ভব হয় না। আর এ জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে মানুষ সহজে ও দ্রুততম সময়ে তথ্য পেতে পারে ।

তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে একটি ছোট কম্পিউটার বা টার্মিনালের মাধ্যমে দূরের কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করা যায় । ফলে খুব সহজে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করা সম্ভব ।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি :বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি :বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

যোগাযোগ প্রযুক্তি (Communication Technology ) :

যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডেটা বা ইনফরমেশন এক স্থান (উৎস) হতে অন্য স্থানে (গন্তব্যে) স্থানান্তরিত হয় তাকে কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ বলে। কোনো ডেটাকে এক স্থান হতে অন্য স্থানে অথবা এক ডিভাইস হতে অন্য ডিভাইসে স্থানান্তর অথবা এক কম্পিউটার হতে অন্য কম্পিউটারে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াকেই ডেটা কমিউনিকেশন বলে। আর ডেটা কমিউনিকেশন ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিকে যোগাযোগ প্রযুক্তি বা কমিউনিকেশন টেকনোলজি বলা হয়। বর্তমানে বহুল যোগাযোগ প্রযুক্তির মধ্যে রেডিও, টিভি, মোবাইল ফোন, টেলিফোন, ফ্যাক্স, কম্পিউটার ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ।

ইন্টারনেটযুক্ত মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে ই-মেইল, ফেসবুক, টুইটার, স্কাইপি, ইমো, হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবার ইত্যাদি ব্যবস্থা যোগাযোগকে আরও সহজ, আনন্দময়, গতিশীল, সাশ্রয়ী ও প্রাণবন্ত করেছে ।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি :বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত
চিত্র কয়েকটি যোগাযোগ প্রযুক্তি (ডিজিটাল টেলিফোন, টেলিভিশন, মোবাইল ফোন) /তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি :বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি :বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

Read more

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply