বায়োসিস্টেমেটিক্স / পরীক্ষামূলক ট্যাক্সোনমি

বায়োসিস্টেমেটিক্স / পরীক্ষামূলক ট্যাক্সোনমি: Biosystematics or Experimental Taxonomy Taxon

বায়োসিস্টেমেটিক্স বা পরীক্ষামূলক ট্যাক্সোনমি

১৯.১ ভুমিকা

১৯২০ এর দশক থেকে ১৯৬০-এর দশক পর্যন্ত প্রচলিত ট্যাক্সেনোমির (Orthodox বা Puretaxonomy)-এর পাশাপাশি আরো একটি ধারায় জীবিত উদ্ভিদসমূহের মর্ফোলজিক্যাল বৈশিষ্ট্য ছাড়াও সাইটোলজিক্যাল, ইকোলজিক্যাল, ব্রিডিং প্রক্রিয়া ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের সমস্বয়ে এক ধরনের শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি গড়ে উঠে। এই শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতিকে Biosystematics, Experimental Taxonomy, Genecology, Onegataxonomy ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়। আর উদ্ভিদবিজ্ঞানের শ্রেণিবিন্যাসের এই সময়কালকে বায়োসিস্টেমেটিক্স এর যুগ (Biosystematics phase) পরীক্ষামূলক শ্রেণিবিন্যাসের যুগ বলা হয়

বায়োসিস্টেমেটিক্স / পরীক্ষামূলক ট্যাক্সোনমি

দু’জন আমেরিকান শ্রেণিবিন্যাসবিদ Camp and Gilly (1943) সর্বপ্রথম ‘Biosystemaly’ শব্দটি ব্যবহার করেন। এই Biosystematy থেকেই পরবর্তীতে Biosystematics শব্দটির প্রচলন হয়েছে। Clausen এবং তাঁর সঙ্গীরা (১৯৪৫) Biosystematics শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন।

১৯.২ জীব সমষ্টি (Population)

বায়োসিস্টেমেটিক্সের সাথে জীবসমষ্টি বা পপুলেশন শব্দটি বিশেষভাবে জড়িত। সধারণভাবে জীববিজ্ঞানে পপুলেশন বা জীবসমষ্টি হচ্ছে- কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বসবাসকারী কোনো প্রজাতির উদ্ভিদসমূহ কিন্তু বায়োসিস্টেমেটিক্সের বা জেনেটিক্সের উদ্ভিদ পপুলেশন হচ্ছে কোনো উদ্ভিদ গোষ্ঠীর অংশ যারা নিজেদের মধ্যে যৌনমিলনের মাধ্যমে জিনের অদপ্রদানে সক্ষম।

Read more:

Turril (1938) প্রচলিত হার্বেরিয়ামভিত্তিক শেণিবিন্যাসকে Alpha taxonomy এবং পরীক্ষামলূক বায়োসিস্টেমেক্সিকে Omega taxonomy নামে অভিহিত করেন।

 ১৯.৩ বায়োসিস্টেমেটিক্সের সংজ্ঞা

1. Camp and Gilly (1943)-এর সংজ্ঞা : প্রকৃতির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্ভিদ গ্রুপ (Biotic units) কে পৃথককরণ এবং পৃথককৃত এককসমূহের নামকরণের, তথা শ্রেণিকরণের মাধ্যমে এদের আন্তঃসম্পর্ক, তারতম্য এবং পরিবর্তনশীল গঠন প্রকৃতি অনুধাবন করণকে ‘Biosystematy’ বলে।

2. Clausen এবং তাঁর সহকর্মীদের (১৯৪৫) সংজ্ঞা : ক্ষুদ্র উদ্ভিদ গোষ্ঠী বা এককের প্রকৃতিতে সাইটোজেনেটিক্স, জেনেটিক্স, ব্রিডিং পদ্ধতি, তুলনামূলক মর্ফোলজি এবং ইকোলজির সমষ্টিগত ক্রিয়াকলাপকে বায়োসিস্টেমেটিক্স বলে।

3. Lawrence (1951)-এর মূল সংজ্ঞাটি হচ্ছে : “Biosystematics in the unrestricted sense, is a phase of botanical research that endeavorus by study of living populations to delimit the natural biotic units and to classify them objectively as a taxa of different orders of magnitude.”

4. Solbring (1970)-এর সংজ্ঞা : Biosysteematics can be defined more precisely to the solutions of systematic questions in order to provide explanations about the diversity of organisins within the frame work of the theory of evolution.

5. Heywood (1992)-এর মূল সংজ্ঞা :

বায়োসিস্টেমেটিক্স হলো জিনেকোলজির ট্যাক্সোনমিক প্রয়োগ; আর জিনেকোলজি হলো উদ্ভিদ যে স্থানে জন্মে সে স্থানের উপাদানসমূহের তারতম্যের সাথে সম্পর্ক রেখে কোনো প্রজাতির মধ্যস্থ জেনোটাইপিক ও ফেনোটাইপিক তারতম্য পর্যালোচনা (Study)।

১৯.৪ বায়োসিস্টেমেটিক্সের উদ্দেশ্য

বায়োসিটেমেটিক্সের উদ্দেশ্য হলো-

১। প্রাকৃতিক জৈবিক এককসমূহ (Biotic units) কে চিহ্নিতকরণ।

২। জৈবিক এককসমূহের সুনির্দিষ্ট নামকরণ।

৩। নামকরণ এমনভাবে করা যাতে জৈবিক এক সমূহের মধ্যকার সীমারেখা, সম্পর্ক, তারতম্য (Variation) ইত্যাদি সঠিকভাবে প্রকাশ পায়।

১৯.৫ বায়োসিস্টেমেটিক্সের ধাপসমূহ (Steps of Biosystematics)

বায়োসিস্টেমেটিক্স বা পরীক্ষামূলক শ্রেণিবিন্যাস তত্ত্বের চারটি ধাপ বা পর্যায় রয়েছে।

১। প্রথম ধাপ বা পর্যায়ঃ প্রথম ধাপের শুরু ট্যাক্সন বা পপুলেশনের বিশদ নমুনাসংগ্রহ ও প্রস্তুতকরণের (Saplining এর) মাধ্যমে। এজন্য টাক্সনের বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকা থেকে যতদূর সম্ভব বেশি পরিমাণ নমুনা সংগ্রহ করা। এদেরকে বাগানে মাধ্যমে সংখ্যাবৃদ্ধি করে এদের সাইটোলজি, জেনেটিক্স, ইকোলজি, এনাটমী, ফাইটোকেমিস্ট্রি ইত্যাদি সম্বন্ধে ধারণা লাভ করা। বিশেষ করে ক্রোমোজোম সংখ্যা, তাদের অঙ্গসংস্থান, মিয়োসিসে ক্রোমোজোমের আচরণ ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এসব বৈশিষ্ট্য শ্রেণিকরণের সীমা নির্ধারণে সহায়তা করে।

২। দ্বিতীয় ধাপ বা পর্যায়ঃ  এ ধাপে পপুলেশনের মধ্যে যৌন মিলনের সক্ষমতা বা সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করা হয়। দুটি পপুলেশন নিজেদের মধ্যে যৌনমিলনে সক্ষম হলে এদের শংকরের সতেজতা (Vigour) এবং উর্বরতা (fertility) পরীক্ষা করে দেখা হয়। এর মাধ্যমে গ্রুপ বা পপুলেশনসমূহের মধ্যে যৌন প্রতিবন্ধকতার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি নির্ণয় করা যায়।

৩। তৃতীয় ধাপ বা পর্যায়ঃ এ ধাপে মিয়োসিস কোষ বিভাজনের সময় শংকরের ক্রোমোজোমের প্রকৃতি বা সমসত্ত্বতা (Homology) পর্যবেক্ষণ করা হয়। ক্রোমোজোমের প্রকৃতি বা হোমোলজি বংশগতি সম্পর্কের মাত্রা (degree of genetic relationship) নির্দেশ করে।

৪। চতুর্থ ধাপ বা পর্যায়ঃ উপরিউক্ত তিনটি ধাপের বিভিন্ন পরীক্ষালব্ধ ফলাফলকে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও ভৌগোলিক বিস্তৃতি ভিত্তিক তথ্যের সাথে তুলনা করে একটি শ্রেণিকরণ পদ্ধতিতে সংযোজিত করা হয়। এই নতুন সংযোজন গণ, প্রজাতি বা প্রজাতির নিচের কোনো ট্যাক্সনের জন্য বিশদ তথ্যবহুল গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণ।

১৯.৬ বায়োসিস্টেমেটিক পদ্ধতি (Methods of Biosystematics)

একটি পপুলেশন বায়োসিস্টেমেটিক্সের কোনো ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত তা টেস্টিং পদ্ধতির মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়। এটি বায়োসিস্টেমেটিক্স বা পরীক্ষামূলক ট্যাক্সোনমির একটি কৌশল। এ কাজে প্রধানত তিনিটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

১। একই পরিবেশে জন্মান (Graowth in uniform environment) : ট্যাক্সোনমিক ক্যাটাগরির (প্রজাতি ও উপ- প্রজাতির) নমুনা বিভিন্ন পরিবেশের পপুলেশন থেকে সংগ্রহ করে অভিন্ন পরিবেশে জন্মান হয়। এর ফলে যদি পার্থক্য (Variation) লোপ পায় তাহলে বুঝতে হবে পার্থক্য পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত, আর যদি পার্থক্য বজায় থাকে তাহলে বুঝতে হবে যে পার্থক্য বংশগতিমূলক (Genetical)।

২। ভিন্ন পরিবেশে বৃদ্ধি ঘটান (Growth in varied environment) : একই পপুলেশন থেকে বা একই উদ্ভিদের ক্লোন থেকে নমুনা নিয়ে বিভিন্ন মাঠ স্টেশনে বিভিন্ন পরিবেশে জন্মান হয় এবং বংশগত কোনো বৈশিষ্ট্য পরিবেশের প্রভাবে পরিবির্তত হয় কি-না তা নির্ণয় করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

৩। সাইটোজেনেটিক বিশ্লেষণ (Cytogenetic analysis) :

(ক) বিভিন্ন পপুলেশনের ক্রোমোজোম সংখ্যা ও মর্ফোলজি পর্যবেক্ষণ;

(খ) নির্বাচিত নমুনাসমূহের মধ্যে সংকরায়ন, সংকরের (F1 এবং F2) উর্বরতা (fertility) ও সতেজতা পর্যবেক্ষণ,

(গ) মিয়োসিসে ক্রোমোজোমের আচরণ ও সমসত্ত্বতা (Homology) পর্যবেক্ষণ করা হয় ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসব পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের নির্ভুল তথ্য, উপাত্ত এবং প্রমাণাদি সংরক্ষণ করা হয়।

১৯.৭ Biosystematic Catagories

বায়োসিস্টেমেটিস্টগণ উদ্ভিদ পপুলেশনকে পর্যবেক্ষণের পর প্রাপ্ত উপাত্তের ভিত্তিতে কতগুলো গ্রুপ বা Catagory-তে ভাগ করেন; এগুলোকেই Biosystematic Catagory বলে। প্রচলিত ট্যাক্সোনমিক ক্যাটাগরিসমূহ (Speceis, Genus, Family) থেকে বায়োসিস্টেমেটিক ক্যাটাগরিসমূহ ভিন্নপ্রকৃতির।  বায়োসিস্টেমেটিক ক্যাটাগরিগুলো নিম্নরূপ-

১। ইকোটাইপ (Ecotype) : ইকোটাইপ হচ্ছে বায়োসিস্টেমেটিক্সের মৌলিক একক। Turesson সর্বপ্রথম ইকোটাইপ শব্দটি ব্যবহার করেন। একটি সুনির্দিষ্ট পরিবেশে অভিযোজিত কিন্তু একই ইকোস্পেসিসের অন্তর্ভুক্ত অন্য ইকোটাইপের সাথে যৌনমিলনে উর্বর সংকর উৎপাদনে সক্ষম উদ্ভিদ সমষ্টিকে ইকোটাইপ বলে। গ্রেগর (১৯৩৬) এর সংজ্ঞাটি হচ্ছে- “ইকোর্টাইপ হলো একটি পপুলেশন যা মর্ফোলজি ও ফিজিওলজির দিক থেকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, একই ইকোস্পেসিসের অপর ইকোটাইপের সাথে যৌন প্রজননের মাধ্যমে উর্বর সংকর উৎপাদনে সক্ষম, কিন্তু পরিবেশের বাধার কারণে স্বাধীনভাবে জিন আদানপ্রদান হয় না।

একই ইকোস্পেসিসের বিভিন্ন ইকোটাইপ বিভিন্ন পরিবেশে অভিযোজিত এবং অনেকগুলো জিন দ্বারা পৃথক থাকলেও যৌনমিলনের মাধ্যমে উর্বর বংশধর সৃষ্টি করতে সক্ষম। কিন্তু পরিবেশের বাধার কারণে এদের মধ্যে জিনের বিনিময় ঘটেনা। বিভিন্ন পরিবেশ থেকে এদেরকে সংগ্রহ করে একই পরিবেশে জন্মিয়ে এদের মধ্যকার আন্তঃসংকরণ (Interfertility) পর্যবেক্ষণ করা যায়।

বায়োসিস্টেমেটিক্সের ধারণায় একই জেনোটাইপ বিশিষ্ট সকল উদ্ভিদ মিলে একটি Biotype গঠিত হয়। আর এক বা একাধিক বায়োটাইপ মিলে গঠিত হয় একটি ইকোটাইপ। কিন্তু একটি ইকোটাইপ প্রচলিত ট্যাক্সোনমির ভ্যারাইটি বা সাবস্পেসিসের সাথে তুলনীয়।

ইকোস্পেসিস
বায়োসিস্টেমেটিক্স / পরীক্ষামূলক ট্যাক্সোনমি: Biosystematics or Experimental Taxonomy Taxon

২। ইকোস্পেসিস (Ecospecies)ঃ  টুরেসনের মতে ইকোস্পেসিস হলো এক বা একাধিক ইকোটাইপের অন্তর্ভূক্ত উদ্ভিদ গ্রুপ যারা একই সিনোস্পেসিসের অন্যান্য ইকোস্পেসিসের সাথে জিন বিনিময়ে সক্ষম। একই সিনোস্পেসিসের দুটি ইকোস্পেসিসের মধ্যে ক্রস করলে আংশিক নির্জীব (Partial sterile) বা দুর্বল বংশধর সৃষ্টি করে যারা Fz বা পরবর্তী বংশধরে বিলুপ্ত হয়ে যায় (hybrid breakdown)। ইকোস্পেসিসকে প্রচলিত ট্যাক্সোনমির উপপ্রজাতি বা প্রজাতির সাথে তুলনা করা যায় ।

৩। সিনোস্পেসিস (Cenospecies)ঃ একই বিবর্তনীয় ধারায় (Common evolutionary line) উৎপন্ন এক বা একাধিক ইকোস্পেসিসের সমন্বয়ে গঠিত একদল উদ্ভিদকে সিনোস্পেসিস বলে।

মর্ফোলিজি সাইটোলজি একই কম্পেরিয়ামভুক্ত সিনোস্পেসিস জেনেটিক বাধা দ্বারা পৃথককৃত এবং এদের মধ্যে যৌনমিলনে সৃষ্টি সংকরসমূহ সম্পূর্ণ নির্জীব(fully sterile)। একারণে সুনির্দিষ্ট

একাধিক সিনোস্পেসিস এদের জেনেটিক

মিশ্রণ ছাড়াই একই পরিবেশে অবস্থান

করতে পারে।

৪।  কম্পেরিয়াম(Comparium): নিজেদের মধ্যে ইন্টারক্রস করতে পারে এরূপ  এক বা একাধিক সিনোস্পেসিস নিয়ে একটি কম্পেরিয়াম গঠিত হয়। দুটি ভিন্ন কম্পেরিয়ামের মধ্যে যৌনমিলন (intercross) ঘটান সম্ভব নয়।

কম্পোরিয়ামকে প্রচলিত ট্যাক্সোনমির গণের সাথে তুলনা করা হয়। যেমন- Leguminosae এর কোনো কোনো গণ। আবার কোনো কোনো পরিবারের কোনো কোনো গণ কম্পেরিয়াম, এমনকি সিনোস্পোসিসের সমকক্ষ নয়। যেমন- Orchidaceae,Brassicaceae I

১৯.৮ প্রচলিত ট্যাক্সোনমি বা Alphataxonnomy এর সাথে Biosystematics বা Experimental Taxonomy -এর তুলনা

প্রচলিত ট্যাক্সোনমি এবং সিস্টেমেটিক্স বা পরীক্ষামূলক ট্যাক্সোনমির উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য এক উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাসকরণ ; কিন্তু এদের  মধ্যে পদ্ধতিগত কিছু পার্থক্য রয়েছ।

      প্রচলিত ট্যাক্সোনমিবায়োসিস্টেমেটিক্স
১।  প্রধানত হার্বেরিয়াম স্পেসিমেনের উপর এবং মাঠের জীবিত উদ্ভিদের উপাত্তের উপরভিত্তি করে এ পদ্ধতি গড়ে উঠেছে প্রাচীন কাল থেকে।       ১। জীবিত পপুলেশনের পর্যবেক্ষনের উপর নির্ভর করে এ পদ্ধতি গড়ে উঠেছে, ১৯২০ সাল থেকে।     
২। প্রধানত  মর্ফোলজিক্যাল বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। ২। মর্ফোলজিক্যাল বৈশিষ্ট্য ছাড়াও জেনেটিক্স, সাইটোজেনেটিক্স , ইকোলজি, ফাইটোকেমিস্ট্রি বৈশিষ্ট্যের  উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়।     
৩। উদ্ভিদের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে ICBN অনুসারে ট্যাক্সনের নাম দেয়া হয় ও সাজানো হয়।     ৩। শ্রেণিবিন্যাসের এককগুলোকে প্রধানত বংশগতির সম্পর্কের ভিত্তিতে নাম দেয়া হয় ও সাজান হয়। ISBN  অনুসারে ট্যাক্সনের নামকরণ হয় না ।   
৪। উচ্চক্রমে শ্রেণিবিন্যাসের স্তরগুলো হচ্ছে প্রজাত, গণ ,গোত্র , বর্গ, শ্রেণি, বিভাগ ও উদ্ভিদ জগৎ ।       ৪। উচ্চক্রমে শ্রেণিবিন্যাসের স্তর গুলো হচ্ছে ইকোটাই,  ইকোস্পেসিস,  সিনোস্পেসিস এবং কম্পেরিয়াম। 
৫। উদ্ভিদের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য  ভিত্তিতে শ্রেণিবিন্যাস করা যায়। শ্রেণিবিন্যাস বিবর্তনীয় ধারায় সরল বা আদি থেকে জটিল বা উন্নত ধারায় সজ্জিত।      ৫। শ্রেণীবিন্যাসের প্রাথমিক বা প্রধান উদ্দেশ্য নয়, পপুলেশনের মধ্যে বংশগতিগত সম্পর্ক বা জিনের মিলের ক্রমধারায় শ্রেণিকরন এবং বিবর্তন করা হয়।         
৬। Species -ই শ্রেণিবিন্যাসের মৌলিক একক বা ট্যাক্সন।  ৬। Ecotype বায়োসিস্টেমেটিক্সের মৌলিক একক, যা ট্যাক্সোনমির ভ্যারাইটি বা  উপপ্রজাতির সমতুল্য।   

   ১৯.৯ ট্যাক্সোনমিক ক্যাটাগরি এবং বায়োসিস্টেমিক ক্যাটাগরির মধ্যে তুলনা

ট্যাক্সোনমিক ক্যাটাগরি (Species, Genus, Family ইত্যাদ)  থেকে বায়োসিস্টেমিক ক্যাটাগরি ( Ecotype, Ecospecies, Conospecies, comparuem) ভিন্ন প্রকৃতির। অনেক বায়োসিস্টেমেটিক ক্যাটাগরি প্রচলিত ট্যাক্সোনমিক ক্যাটাগরির মধ্যবর্তী বা নিম্ন পযার্য়ের হতে পারে। যেমন-

 বায়োসিস্টেমেটিক ক্যাটাগরি    –  ট্যাক্সোনমিক        

১।  বায়োটাইট      =   ভ্যারাইটির বা এর নিম্নবর্তী

২। ইকোটাইপ    =    ভ্যারাইটি বা উপপ্রজাতি সমতুল্য 

৩। ইকোস্পেসিস     =   উপ-প্রজাতি প্রজাতির   সমতুল্য

৪।  সিনোস্পেসিস       =         উপগণ বা গণের সাবসেকসনের সমতুল্য

৫। কম্পেরিয়াম       =      সাধারণ গণের সমতুল্য 

অবশ্য প্রচলিত ট্যাক্সোনমির কোনো কোনো গণ একাধিক কম্পেরিয়াম ধারণ করতে পারে, যেমন Leguminosae এর কোনো কোনো গণ।   

১৯.১০ বায়োসিস্টেমেটিক্সের সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ

 প্রচলিত শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির (Orthodox taxonomy) দ্বারা যখন অনেক উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস ও অভিব্যক্তি নির্ণয়

করতে অসুবিধা দেখা দিল তখন (১৯২০ এর দশকে) একদল বিজ্ঞানী মর্ফোলজির সাথে সাইটোজেনেটিক্স, ইকোলজি ইত্যাদির সহায়তা নিয়ে শ্রেণিবিন্যাস করা শুরু করেন। এ ধরনের শ্রেণিবিন্যাস বায়োসিস্টেমেটিক্স নামে পরিচিত। ১৯৬০ এর দশক পর্যন্ত এ শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি সুনামের সাথেই অগ্রসর হচ্ছিল। কিন্তু কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে পরবর্তীতে জনপ্রিয়তা হারাতে থাকে। সীমাবদ্ধতাগুলো হচ্ছে-

১। সম্মিলিত দলগত কাজের অভাব

২। ব্যাপক এলাকার উদ্ভিদের সাইটোজেনেটিক্স ও জেনেটির ডানা কষ্টসাধ্য।

৩। বায়োসিস্টেমেটিক ক্যাটাগরির নামকরণের অপরিবর্তন যোগ্যভা এবং সমস্ত স্তরই প্রচলিত ট্যাক্সেনমির গণের অধস্তন হওয়া।

৪। প্রচলিত ট্যাক্সোনমির অনুরূপ ফাইলোজেনেটিক শ্রেণিবিন্যাস গড়ে না উঠা।

বায়োসিস্টেমেটিক্সের শ্রেণিকরণ এখনো অনেকটাই গণ (Genus) স্তরের নিম্নবর্তী রয়ে গেছে। প্রচলিত ট্যাক্সোনমিতেও আধুনিক কালে সাইটোজেনেটিক্স, জেনেটিস, ইকোলজি, ফাইটোকেমিস্ট্রি, এনাটমি ইত্যাদি শাখায় জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে উন্নততর ফাইলোজেনেটিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি রচিত হচ্ছে।

Bocher (1970) বায়েসিস্টেমেটিক্সের অবস্থা পর্যালোচনা করতে গিয়ে বলেছেন যে, বায়োসিস্টেয়েটির একটি উৎকৃষ্ট বিজ্ঞান হিসেবে বৃদ্ধি পাবে, না আধুনিক ট্যাক্সোনমির জন্য তথ্য সরবাহ করবে এবং একটি সাহায্যকারী শাখা হিসেবে কাজ করবে।

এই বায়োসিস্টেমেটিক্স / পরীক্ষামূলক ট্যাক্সোনমি: Biosystematics or Experimental Taxonomy Taxon ছাড়াও আরো জানুন BEST English Grammar

এই আর্টিকেলটি তৈরিতে সহায়তা করেছেনঃ
Sembhu chandra shil
Dept. Of Botany(2nd Year)
Session:2019-20

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply