মানুষের শ্বসনতন্ত্র (Human Respiratiory Sytem) বায়ু গ্রহণ ও ত্যাগ অঞ্চল

মানুষের শ্বসনতন্ত্র (Human Respiratiory Sytem) বায়ু গ্রহণ ও ত্যাগ অঞ্চল

মানুষের  শ্বসনতন্ত্র (Human Respiratiory Sytem) বায়ু গ্রহণ ও ত্যাগ অঞ্চল

নিচে মানুষের শ্বসনতন্ত্রের বিভিন্ন অংশের গঠন ও কাজ বর্ণনা করা হলো-

ক. বায়ু গ্রহণ ও ত্যাগ অঞ্চল

১. সম্মুখ নাসারন্ধ্র (Anterior Nostrils):
নাকের সামনে অবস্থিত পাশাপাশি দুটি ছিদ্রকে সম্মুখ নাসারন্ধ্র বলে । নাক একটি হলেও ন্যাসাল সেপ্টাম (nasal septum) বা নাসা ব্যবধায়ক-এর মাধ্যমে দুটি নাসারন্ধ্রের বিকাশ ঘটেছে ।

Read more:

কাজ: সম্মুখ নাসারন্ধ্র সবসময় উন্মুক্ত থাকে এবং এ পথেই বায়ু দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ।

২. ভেস্টিবিউল (Vestibule) : নাসারন্ধ্রের পরে নাকের ভিতরের অংশের নাম ভেস্টিবিউল । এর প্রাচীরে অনেক লোম থাকে ।

কাজ: লোমগুলো ছাঁকনির মতো গৃহীত বাতাস পরিষ্কারে সহায়তা করে ।

৩. নাসাগহ্বর (Nasal Cavity) : ভেস্টিবিউলের পরের অংশটি নাসাগহ্বর । নাসাগহ্বরের প্রাচীরে সিলিয়াযুক্ত মিউকাস ক্ষরণকারী অলফ্যাক্টরি কোষ থাকে। এটি আগত প্রশ্বাস বায়ুকে কিছুটা সিক্ত করে ।

মানুষের  শ্বসনতন্ত্র (Human Respiratiory Sytem) বায়ু গ্রহণ ও ত্যাগ অঞ্চল

কাজ: (i) সিলিয়াযুক্ত ও মিউকাস কোষগুলো ধুলাবালি এবং রোগজীবাণু আটকে দেয় । (ii) অলফ্যাক্টরি কোষ ঘ্রাণ উদ্দীপনা গ্রহণে সাহায্য করে।

৪. পশ্চাৎ নাসারন্ধ্র (Posterior Nostrils) : নাসা গহ্বরদ্বয় যে দুটি ছিদ্রের মাধ্যমে নাসাগলবিলে উন্মুক্ত হয় তাকে কোয়ানা (choana) বা পশ্চাৎ নাসারন্ধ্র বলে।

কাজ : এসব ছিদ্রপথে বাতাস নাসাগলবিলে প্রবেশ করে ।

৫. নাসাগলবিল (Nasopharynx) : পশ্চাৎ নাসারন্ধ্রের পরে নাসাগলবিল অবস্থিত। এর পরেই মুখগলবিল (oropharynx), যা স্বরযন্ত্র পর্যন্ত বিস্তৃত ।

৬. স্বরযন্ত্র (Larynx) : এটি নাসাগলবিলের নিচের অংশের ঠিক সামনের দিকের অংশ এবং কয়েকটি তরুণাস্থি টুকায় (থাইরয়েড, ক্রাইনয়েড এবং অ্যারিটিনয়েড) গঠিত। এগুলোর মধ্যে থাইরয়েড তরুণাস্থি সবচেয়ে বড় এবং এটি গলার সামনে উঁচু হয়ে ওঠে (পুরুষে)। হাত দিলে এর অবস্থান বোঝা যায় এবং বাইরে থেকে দেখা যায়। একে Adam’s Apple বলে । স্বরযন্ত্রের উপরে থাকে একটি ছোট এপিগ্লটিস (epiglottis ) । স্বরযন্ত্রে অনেক পেশি যুক্ত থাকে । এর অভ্যন্তরভাগে থাকে মিউকাস আবরণী ও ছয়টি স্বররজ্জু বা ভোকাল কর্ড (vocal cord) । পেশির সঙ্কোচন-প্রসারণই স্বররজ্জুর টান (tension) বা শ্লথন (relaxation) নিয়ন্ত্রণ করে ।

কাজ: (i) টানটান অবস্থায় বাতাসের সাহায্যে স্বররজ্জু কম্পিত হয়ে শব্দ সৃষ্টি করে । (ii) এপিগ্লটিস খাদ্য গলাধঃকরণের সময় স্বরযন্ত্রের মুখটি বন্ধ করে দেয়। ফলে খাদ্য স্বরযন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে না, অন্য সময় এটি শ্বসনের উদ্দেশে উন্মুক্ত থাকে । (iii) স্বরযন্ত্রে স্বর সৃষ্টি হয় ।

এই মানুষের শ্বসনতন্ত্র (Human Respiratiory Sytem) বায়ু গ্রহণ ও ত্যাগ অঞ্চল ছাড়াও আরো পড়ুনঃ

HSC Zoology: Blood and Circulation

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply