রুই মাছ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর | প্রাণীর পরিচিতি | রুই মাছ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় সাজেশন

রুই মাছ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর | প্রাণীর পরিচিতি | রুই মাছ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় সাজেশন থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বশেষ বোর্ডে আশা গুরুত্বপূর্ণ ও কমন উপযোগী সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি।

ঢাকা বোর্ড ২০২১

শিক্ষক রুই মাছ সম্পর্কে পাঠদানকালে বললেন, এদের দেহের অভ্যন্তরে বায়ুপূর্ণ এমন একটি বিশেষ অঙ্গ আছে । যা পানিতে প্রাণীটির ভারসাম্য রক্ষা ও শ্বসনে ভূমিকা রাখে । এছাড়াও প্রাণীটির রক্তসংবহন পদ্ধতি তােমাদের রক্তসংবহন পদ্ধতি অপেক্ষা ভিন্নতর।

ক. ফুলকা রেকার কী?
খ. ভেনাস হার্ট বলতে কী বোেঝ?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ অঙ্গটির গঠন বর্ণনা করাে।
ঘ. উদ্দীপকের শেষােক্ত উক্তিটি বিশ্লেষণ করাে।

ক) ফুলকা আর্চের অন্তঃকিনারা প্রসারিত হয়ে কাঁটাযুক্ত যে পাতলা গঠন তৈরি করে তাই ফুলকা রেকার ।

খ) রুই মাছের হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে CO2 সমৃদ্ধ রক্ত পেছন থেকে সামনের দিকে একমুখী প্রবাহিত হয়। CO2 সমৃদ্ধ রক্ত বাহিত হয় বলে এ হৃৎপিণ্ডকে ভেনাস হার্ট বা শিরা হৃৎপিণ্ড বলে। হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত এর মধ্য দিয়ে বাহিত হয়।

গ নং প্রশ্নের উত্তর

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো বায়ুথলি। নিচে বায়ুথলির গঠন বর্ণনা করা হলো-

রুই মাছের বায়ুথলি একটি খাঁজ দ্বারা দুটি অসম প্রকোষ্ঠে বিভক্ত থাকে। সামনের প্রকোষ্ঠটি ছোট এবং পেছনের প্রকোষ্ঠটি বড়। গ্রাসনালি ও বায়ুথলির মাঝে একটি সংযোগকারী নালি উপস্থিত একে ডাক্টাস নিউমেটিকাস বলে ।

রুই মাছ <a href=সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর | প্রাণীর পরিচিতি | রুই মাছ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় সাজেশন” class=”wp-image-8940″/>

চিত্র : রুই মাছের বায়ুথলির গঠন

বায়ুথলির বাইরের দিক ঘনসন্নিবিষ্ট রক্তজালক সমৃদ্ধ। এর প্রাচীর দুটি স্তর দিয়ে গঠিত। বাইরের যোজক কলা দ্বারা গঠিত স্তর- টিউনিক এক্সটার্না এবং ভেতরের মসৃণ পেশি নির্মিত স্তর টিউনিকা ইন্টারনা। বায়ুথলির সম্মুখ প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীরের এপিথেলিয়াম সংলগ্ন একটি করে লাল বর্ণের গ্যাস গ্রন্থি থাকে। এর নাম রিটি মিরাবিলি। সামনের প্রকোষ্ঠের এ গ্রন্থি থেকে গ্যাস দ্বারা বায়ুথলি পূর্ণ হয়। কিন্তু পেছনের প্রকোষ্ঠে বিদ্যমান এ গ্রন্থি গ্যাস শোষণ করে। বায়ুথলির গ্যাসে বিভিন্ন উপাদান থাকতে পারে। বায়ুথলিতে বিদ্যমান গ্যাসের অধিকাংশই অক্সিজেন (O2)। এতে সামান্য পরিমাণ নাইট্রোজেন (N2) এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) থাকে। রুই মাছের বায়ুথলি ঘনিষ্ঠভাবে অন্তঃকর্ণের সাথে যুক্ত। ভেবেরিয়ান অস্থিমালা নামক একসারি ক্ষুদ্র অস্থি দ্বারা এ সংযোগ স্থাপিত হয়।

ঘ নং প্রশ্নের উত্তর

(ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো রুই মাছ আর উল্লিখিত তোমাদের রক্তসংবহন পদ্ধতি বলতে মানুষের রক্ত সংবহন পদ্ধতিকে নির্দেশ করছে। অতএব, রুইমাছের এবং মানুষের রক্ত সংবহন পদ্ধতি ভিন্নতর কারণ-
১. এই রুইমাছের রক্ত সংবহন পদ্ধতি মানুষের রক্ত সংবহন পদ্ধতি হতে অনুন্নত।
২. রুইমাছের রক্ত সংবহন পদ্ধতি এক বর্তনীয় আর মানুষের রক্ত সংবহন পদ্ধতি দ্বিবর্তনীয় পদ্ধতির।
৩।এবং রুইমাছে পালমোনারি সংবহন নেই মানুষে পালমোনারি সংবহন পদ্ধতি আছে।
৪। রুইমাছে রক্ত O2 সমৃদ্ধ হয় ফুলকায় আর মানুষের ক্ষেত্রে O2 সমৃদ্ধ হয় ফুসফুসে।
৫. আর রুইমাছের সংবহনের সময় হূৎপিণ্ড দুই ধরনের রক্ত অর্থাৎ CO2 ও O2 সমৃদ্ধ রক্ত বহন করে না। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে হৃৎপিণ্ড দুই ধরনেরই রক্ত বহন করে। রুইমাছের রক্ত O2 সমৃদ্ধ হয় পানি থেকে O2 নিয়ে আর মানুষের ক্ষেত্রে বায়ু থেকে অক্সিজেন নিয়ে সারাদেহে রক্ত পরিবাহিত হয়।

রুই মাছ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর | প্রাণীর পরিচিতি | রুই মাছ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় সাজেশন

সিলেট বোর্ড ২০২১

রুই মাছের হৃৎপিণ্ড দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট। তাকে ভেনাস হার্ট বলে। কিন্তু আমাদের হৃৎপিণ্ড উন্নত এবং চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।

ক. হোমোসাকাল লেজ কী?
খ. ফুলকা রেকার বলতে কী বোঝ?
গ. উদ্দীপকের প্রথম প্রাণীটির উল্লিখিত অঙ্গের চিহ্নিত চিত্র অংকন কর।
ঘ. উদ্দীপকের উল্লিখিত প্রাণী দুটির রক্ত সংবহনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

ক) যে সকল মাছের পুচ্ছ পাখনার লোব দুটি সমান তাকে হোমোসার্কাল লেজ বলা হয়।

খ) রুই মাছের প্রতিটি ফুলকা-ফুলকা আর্চ ও ফুলকা ফিলামেন্ট নিয়ে গঠিত। প্রতিটি ফুলকা আর্চ অস্থি নির্মিত এবং ভিতরের প্রান্ত প্রশস্ত হয়ে কাঁটার মতো পাত গঠন করে। একে ফুলকা রেকার বলে। এরা খাদ্যবস্তুকে গলবিল থেকে ফুলকা প্রকোষ্ঠে প্রবেশে বাঁধা দেয়।

গ নং প্রশ্নের উত্তর

(গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম প্রাণীটির অঙ্গটির নাম ভেনাস হার্ট। ভেনাস হার্টের চিহ্নিত চিত্র নিম্নরূপ-

রুই মাছ <a href=সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর | প্রাণীর পরিচিতি | রুই মাছ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় সাজেশন” class=”wp-image-8941″/>

চিত্র : রুই মাছের হৃৎপিণ্ড

ঘ নং প্রশ্নের উত্তর

ঘ) উদ্দীপকের প্রথম প্রাণীটি রুই মাছ এবং দ্বিতীয় প্রাণিটি মানুষ। নিম্নে প্রাণী দুটির রক্ত সংবহনতন্ত্রের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো-

মাছের হৃৎপিণ্ডের ক্ষেত্রে এটি দুই প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। হৃৎপিণ্ডের উপপ্রকোষ্ঠ ও প্রকোষ্ঠগুলোর সংযোগ ছিদ্রে কপাটিকা থাকে। কপাটিকাগুলো শুধু সামনের দিকে খুলে। ফলে রক্তের পশ্চাৎ গতি রুদ্ধ হওয়ায় রক্তের প্রবাহ থাকে একমুখী। বিপরীত প্রবাহে কপাটিকাগুলো বাধা দেয়। হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে CO2 সমৃদ্ধ রক্ত পেছন থেকেসামনের দিকে একমুখী প্রবাহিত হয়। CO2 সমৃদ্ধ রক্ত বাহিত হয় বলে এ হৃৎপিণ্ডকে ভেনাস হার্ট বা শিরা হৃৎপিণ্ড বলে। আবার মানুষের হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট এবং সম্পূর্ণ ডান ও বাম অলিন্দ ও নিলয় যুক্ত। হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ ছন্দময় গতিতে অবিরত চলতে থাকে। হৃৎপিণ্ডের পর্যায়ক্রমে একটি সংকোচন ও একটি প্রসারণ ঘটে দুটি চক্র সম্পন্ন করে থাকে এবং একদিকে ধমনি অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত এবং শিরা CO2 যুক্ত রক্ত বহন করে দুটি হৃদচক্র সম্পন্ন করে থাকে।

আর কৈশিক জালিকার রক্ত ও কলারসের মধ্যে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় খাদ্যসার, CO2, O2, রেচন দ্রব্য ইত্যাদির আদান-প্রদান ঘটে ।

রুই মাছ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর | প্রাণীর পরিচিতি | রুই মাছ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় সাজেশন

যশোর বোর্ড ২০২১

কামিনী রুইমাছ ব্যবচ্ছেদের সময় কানকুয়া দ্বারা ঢাকা চিরুনির দাঁতের ন্যায় বিশেষ এক ধরনের অঙ্গ দেখতে পেল। সে তার সহপাঠী নিলিমাকে বললাে, “এই অঙ্গটি দ্বারা প্রাণীটি জলজ শ্বসন সম্পন্ন করে থাকে।”

ক. পটকা কী?
খ, ভেনাস হার্ট বলতে কী বােঝ?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটির সচিত্র গঠন বর্ণনা করাে।
ঘ. উদ্দীপকের শেষ উক্তিটি বিশ্লেষণ করাে।

ক) Labeo rohita-এর মেরুদণ্ডের নিচে এবং পৌষ্টিকনালির উপরে অবস্থিত ও যোজক টিস্যুতে গঠিত পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট থলির নামই পটকা বা বায়ুথলি ।

খ) রুই মাছের হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে CO2 সমৃদ্ধ রক্ত পেছন থেকে সামনের দিকে একমুখী প্রবাহিত হয়। CO2 সমৃদ্ধ রক্ত বাহিত হয় বলে এ হৃৎপিণ্ডকে ভেনাস হার্ট বা শিরা হৃৎপিণ্ড বলে। হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত এর মধ্য দিয়ে বাহিত হয়।

গ নং প্রশ্নের উত্তর

গ) উদ্দীপকে রুইমাছের ফুলকার কথা বলা হয়েছে। নিম্নে এর সচিত্র গঠন বর্ণনা প্রদান করা হলো-
প্রত্যেকটি ফুলকা দেখতে সুতার মতো এবং একেকটি হোলোব্রাঙ্ক বা পূর্ণফুলকা । কারণ প্রত্যেক ফুলকা দুটি সদৃশ অর্ধাংশ নিয়ে গঠিত। প্রত্যেক অর্ধাংশকে বলে হেমিব্রাঙ্ক বা অর্ধ-ফুলকা । প্রত্যেক হৈমিব্রাঙ্ক একসারি করে ফুলকা সূত্র বহন করে । এগুলো গোড়ায় যুক্ত, শীর্ষে মুক্ত ।

চিত্র : একটি ফুলকা সূত্রের লম্বচ্ছেদ

প্রতিটি সূত্র এপিথেলিয়ামে আবৃত অসংখ্য অনুপ্রস্থ প্লেট বহন করে । এপিথেলিয়াম রক্ত-জালিকা সমৃদ্ধ । প্রত্যেক ফুলকা একেকটি অস্থিময় ফুলকা আর্চ-এ অবলম্বিত। এভাবে প্রত্যেক আর্চে দুটি ফুলকা সারি যুক্ত থাকে। প্রথম চারটি ফুলকা আর্চই ফুলকাগুলো বহন করে। পঞ্চম আৰ্চে কোনো ফুলকা থাকে না। আর্চের অন্তঃকিনারা প্রসারিত হয়ে কাঁটাযুক্ত পাতলা ফুলকা-রেকার গঠন করে। দুই সারি হেমিব্রাঙ্কের মধ্যে অস্পষ্ট ইন্টারব্রাঙ্কিয়াল সেন্টাম থাকে।

ঘ নং প্রশ্নের উত্তর

ঘ) উদ্দীপকে রুইমাছ ফুলকা দ্বারা এর জলজ শ্বসন সম্পন্ন করে চারজোড়া ফুলকা হচ্ছে রুই মাছের প্রধান শ্বসন অঙ্গ । কারণ এগুলোর প্রত্যক্ষ ও প্রধান ভূমিকায় শ্বসন সম্পন্ন হয়। এ অঙ্গই পরিবেশ ও রুইমাছের দেহের মধ্যে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটায় । রুইমাছের শ্বসন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, মাছের গলবিল চোষণ পাম্পের মতো কাজ করে । এর মাধ্যমে অক্সিজেন সমৃদ্ধ পানি মুখের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে । কানকোর পার্শ্ব সঞ্চালনে চোষণ বলের সৃষ্টি হয়। কানকো দুটি উত্তোলিত হলে, ফুলকা প্রকোষ্ঠের মুখ ব্রাঙ্কিওস্টেগাল ঝিল্লি দিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এতে গলবিলে একটি চোষণ বলের সৃষ্টি হয়। ফলে মুখছিদ্র রক্ষাকারী মৌখিক কপাটিকা খুলে যায় এবং পানি মুখের ভেতর দিয়ে মুখগহ্বরে প্রবেশ করে। কানকো পেশি-সংকোচনের ফলে নেমে আসলে গলবিল ও মুখগহ্বরে চাপ বেড়ে যায়।

সাথে সাথেই মৌখিক কপাটিকা মুখছিদ্রকে বন্ধ করে দেয় এবং ফুলকা-প্রকোষ্ঠের ছিদ্র উন্মুক্ত হয় । পানি তখন এ ছিদ্রপথেই বেরিয়ে যায় । মুখ ও গলবিলের ভেতর দিয়ে অতিক্রমের সময় স্রোতপ্রবাহ নিচে অবস্থিত ফুলকাগুলোকে ভিজিয়ে দেয়। আর তখনই ফুলকাসূত্র ব্যাপন প্রক্রিয়ায় O2 গ্রহণ ও CO2 ত্যাগ করে।
অতএব দেখা যায় যে, কানকো, গলবিল, মুখগহ্বর ফুলকাগুলোকে প্রশ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগে সাহায্য করে এবং ফুলকাই হচ্ছে প্রধান শ্বসন অঙ্গ।

রুই মাছ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর | প্রাণীর পরিচিতি | রুই মাছ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় সাজেশন

চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১

রকিব ব্যবহারিক ক্লাসে রুই মাছ ব্যবচ্ছেদের মাধ্যমে কানকোর নিচে চিরুনির মতাে অঙ্গ দেখতে পেল। সে পৌষ্টিক নালীর উপরে সাদা বর্ণের বালিশের মতাে আরেকটি অঙ্গ দেখতে পেল।

ক. রুই মাছের আঁইশ কোন ধরনের?
খ, এই রুই মাছের হৃৎপিণ্ডকে ভেনাস হার্ট বলা হয় কেন?
গ. উদ্দীপকের প্রথম অঙ্গটির চিত্রসহ গঠন ব্যাখ্যা করাে।
ঘ. রকিবের দেখা সাদা অঙ্গের গঠন ও গুরুত্ব বিশ্লেষণ করাে।

ক) রুই মাছের আঁইশ সাইক্লয়েড ধরনের।

খ) এই রুই মাছের হৃৎপিণ্ডকে ভেনাস হার্ট বলার কারণ- রুই মাছের হৃৎপিণ্ডের উপপ্রকোষ্ঠ ও প্রকোষ্ঠগুলোর সংযোগ ছিদ্রে একমুখী প্রবাহ সহায়ক কপাটিকা থাকায় হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে CO2 সমৃদ্ধ রক্ত পেছন থেকে সামনের দিকে একমুখী প্রবাহিত হয়। CO2 সমৃদ্ধ রক্তবাহিত হয় বলে এ হৃৎপিণ্ডকে শিরা হৃৎপিণ্ড বলে।

গ নং প্রশ্নের উত্তর

গ) উদ্দীপকের প্রথম অঙ্গটি হলো ফুলকা। নিম্নে ফুলকার চিত্রসহ গঠন করা করা হলো-

প্রত্যেকটি ফুলকা দেখতে সুতার মতো এবং একেকটি হোলোব্রাঙ্ক বা পূর্ণফুলকা। কারণ প্রত্যেক ফুলকা দুটি সদৃশ অর্ধাংশ নিয়ে গঠিত। প্রত্যেক অর্ধাংশকে বলে হেমিব্রাঙ্ক বা অর্ধ-ফুলকা। প্রত্যেক হেমিব্রাঙ্ক একসারি করে ফুলকা সূত্র বহন করে। এগুলো গোড়ায় যুক্ত, শীর্ষে মুক্ত।

চিত্র : একটি ফুলকা সূত্রের লম্বচ্ছেদ

প্রতিটি সূত্র এপিথেলিয়ামে আবৃত অসংখ্য অনুপ্রস্থ প্লেট বহন করে। এপিথেলিয়াম রক্ত-জালিকা সমৃদ্ধ। প্রত্যেক ফুলকা একেকটি অস্থিময় ফুলকা আর্চ-এ অবলম্বিত। এভাবে প্রত্যেক আর্চে দুটি ফুলকা সারি যুক্ত থাকে। প্রথম চারটি ফুলকা আর্চই ফুলকাগুলো বহন করে। পঞ্চম আৰ্চে কোনো ফুলকা থাকে না। আর্চের অন্তঃকিনারা প্রসারিত হয়ে কাঁটাযুক্ত পাতলা ফুলকা-রেকার গঠন করে। দুই সারি হেমিব্রাঙ্কের মধ্যে অস্পষ্ট ইন্টারব্রাঙ্কিয়াল সেপ্টাম থাকে।

ঘ নং প্রশ্নের উত্তর

ঘ) উদ্দীপকে রাকিবের দেখা সাদা অঙ্গটি বায়ুথলি। নিম্নে বায়ুথলির গঠন ও গুরুত্ব প্রদান করা হলো-

রুই মাছের বায়ুথলি একটি খাঁজ দ্বারা দুটি অসম প্রকোষ্ঠে বিভক্ত থাকে। সামনের প্রকোষ্ঠটি ছোট এবং পেছনের প্রকোষ্ঠটি বড়। গ্রাসনালি ও বায়ুথলির মাঝে একটি সংযোগকারী নালি উপস্থিত। একে ডাক্টাস নিউমেটিকাস বলে। বায়ুথলির বাইরের দিক ঘনসন্নিবিষ্ট রক্তজালক সমৃদ্ধ। এর প্রাচীর দুটি স্তর দিয়ে গঠিত। বাইরের যোজক কলা দ্বারা গঠিত স্তর- টিউনিক এক্সটার্না এবং ভেতরের মসৃণ পেশি নির্মিত স্তর টিউনিকা ইন্টারনা। বায়ুথলির সম্মুখ প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাটারের এপিথেলিয়াম সংলগ্ন একটি করে লাল বর্ণের গ্যাস গ্রন্থি থাকে। এর নাম রিটি মিরাবিলি । সামনের প্রকোষ্ঠের এ গ্রন্থি থেকে গ্যাস দ্বারা বায়ুথলি পূর্ণ হয়। কিন্তু পেছনের প্রকোষ্ঠে বিদ্যমান এ গ্রন্থি গ্যাস শোষণ করে। বায়ুথলির গ্যাসে বিভিন্ন উপাদান থাকতে পারে। বায়ুথলিতে বিদ্যমান গ্যাসের অধিকাংশই অক্সিজেন (O2)।

চিত্র : রুই মাছের বায়ুথলির গঠন

এতে সামান্য পরিমাণ নাইট্রোজেন (N2) এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) থাকে। রুই মাছের বায়ুথলি ঘনিষ্ঠভাবে অন্তঃকর্ণের সাথে যুক্ত। ভেবেরিয়ান অস্থিমালা নামক একসারি ক্ষুদ্র অস্থি দ্বারা এ সংযোগ স্থাপিত হয়।

রুই মাছ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর | প্রাণীর পরিচিতি | রুই মাছ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় সাজেশন

দিনাজপুর বোর্ড ২০২১

ব্যবহারিক ক্লাসে শিক্ষক রুই মাছের ব্যবচ্ছেদ করে কানকুয়া দ্বারা ঢাকা চিরুনির দাঁতের ন্যায় বিশেষ অঙ্গটি দেখালেন এবং এদের শ্বসন গ্যাস বিনিময়ের কৌশল সম্পর্কে ধারণা দিলেন।

ক. ফাইসোক্লিস্টাস বায়ুথলি কী?
খ. হালদা নদী কার্প জাতীয় মাছের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ অঙ্গটির সচিত্র গঠন বর্ণনা কর।
ঘ.এবং উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষকের শেষ বিবৃতিটি বিশ্লেষণ কর।

ক) ফাইসোক্লিসটাস বায়ুথলির যে সকল পরিণত মাছের বায়ুথলি ও গ্রাসনালির মধ্যে সংযোগকারী নালি ডাক্টাস নিউমেটিকাস বিলুপ্ত হয়ে যায় সে সকল বায়ুথলিকে ফাইসোক্লিস্টাস বায়ুথলি বলে।

খ) হালদা নদী কার্প জাতীয় মাছের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ বড় বড় নদীগুলো কার্প বিশেষ করে রুই মাছের প্রজনন ক্ষেত্র। গ্রীষ্ম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কালবৈশাখী ও ভরা অমাবস্যা-পূর্ণিমায় কার্প জাতীয় মাছ নদীতে ডিম ছাড়ে। আভ্যন্তরীণ নদীগুলো থেকে প্রাকৃতিক রুই মাছ বা কার্প জাতীয় মাছ পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে। এ কারণে কার্প জাতীয় মাছের সংরক্ষণে সবার নজর এখন বাংলাদেশের হালদা নদীর দিকে। কারণ হালদা নদী বাংলাদেশের কেবল দেশি নদী নয়, এটি একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী যেখান থেকে মাছ চাষীরা পোনার বদলে রুই মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করে নিয়ে যায়।

গ নং প্রশ্নের উত্তর

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ অঙ্গটি হলো ফুলকা। নিচে ফুলকার সচিত্র গঠন বর্ণনা করা হলো-

প্রত্যেকটি ফুলকা দেখতে সুতার মতো এবং একেকটি হোলোব্রাঙ্ক বা পূর্ণফুলকা। কারণ প্রত্যেক ফুলকা দুটি সদৃশ অর্ধাংশ নিয়ে গঠিত। প্রত্যেক অর্ধাংশকে বলে হেমিব্রাঙ্ক বা অর্ধ-ফুলকা। প্রত্যেক হেমিব্রাঙ্ক একসারি করে ফুলকা সূত্র বহন করে। এগুলো গোড়ায় যুক্ত, শীর্ষে মুক্ত।

রুই মাছ সৃজনশীল প্রশ্ন <a href=ও উত্তর | প্রাণীর পরিচিতি | রুই মাছ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় সাজেশন” class=”wp-image-8942″/>

চিত্র; একটি ফুলকা সূত্রের লম্বচ্ছেদ

প্রতিটি সূত্র এপিথেলিয়ামে আবৃত অসংখ্য অনুপ্রস্থ প্লেট বহন করে। এপিথেলিয়াম রক্ত-জালিকা সমৃদ্ধ। প্রত্যেক ফুলকা একেকটি অস্থিময় ফুলকা আর্চ-এ অবলম্বিত। এভাবে প্রত্যেক আর্চে দুটি ফুলকা সারি যুক্ত থাকে। প্রথম চারটি ফুলকা আর্চই ফুলকাগুলো বহন করে। পঞ্চম আৰ্চে কোনো ফুলকা থাকে না। আর্চের অন্তঃকিনারা প্রসারিত হয়ে কাঁটাযুক্ত পাতলা ফুলকা-রেখার গঠন করে। দুই সারি হেমিব্রাঙ্কের মধ্যে অস্পষ্ট ইন্টারব্রাঙ্কিয়াল সেপ্টাম থাকে।

ঘ নং প্রশ্নের উত্তর

ঘ) ফুলকা শ্বসন গ্যাস বিনিময়ের প্রধান অঙ্গ। নিম্নে ফুলকার মাধ্যমে শ্বসন গ্যাস বিনিময়ের কৌশল বর্ণনা করা হলো-
চারজোড়া ফুলকা হচ্ছে রুই মাছের প্রধান শ্বসন অঙ্গ। কারণ এগুলোর প্রত্যক্ষ ও প্রধান ভূমিকায় শ্বসন সম্পন্ন হয়। এ অঙ্গই পরিবেশ ও রুইমাছের দেহের মধ্যে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটায়।
রুইমাছের শ্বসন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, মাছের গলবিল চোষণ পাম্পের মতো কাজ করে। এর মাধ্যমে অক্সিজেন সমৃদ্ধ পানি মুখের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে। কানকোর পার্শ্ব সঞ্চালনে চোষণ বলের সৃষ্টি হয়। কানকো দুটি উত্তোলিত হলে, ফুলকা প্রকোষ্ঠের মুখ ব্রাঙ্কিওস্টেগাল ঝিল্লি দিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এতে গলবিলে একটি চোষণ বলের সৃষ্টি হয়।

ফলে মুখছিদ্র রক্ষাকারী মৌখিক কপাটিকা খুলে যায় এবং পানি মুখের ভেতর দিয়ে মুখগহ্বরে প্রবেশ

করে। কানকো পেশি-সংকোচনের ফলে নেমে আসলে গলবিল ও মুখগহ্বরে চাপ বেড়ে যায়। সাথে সাথেই মৌখিক ‘কপাটিকা মুখছিদ্রকে বন্ধ করে দেয় এবং ফুলকা- প্রকোষ্ঠের ছিদ্র উন্মুক্ত হয়। পানি তখন এ ছিদ্রপথেই বেরিয়ে যায়। মুখ ও গলবিলের ভেতর দিয়ে অতিক্রমের সময় স্রোতপ্রবাহ নিচে অবস্থিত ফুলকাগুলোকে ভিজিয়ে দেয়। আর তখনই ফুলকাসূত্র ব্যাপন প্রক্রিয়ায় O2 গ্রহণ ও CO2 ত্যাগ করে। অতএব দেখা যায় যে, কানকো, গলবিল, মুখগহ্বর ফুলকাগুলোকে প্রশ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগে সাহায্য করে এবং ফুলকাই হচ্ছে প্রধান শ্বসন অঙ্গ।

রুই মাছ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর | প্রাণীর পরিচিতি | রুই মাছ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় সাজেশন

ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

রুই মাছের এমন একটি অঙ্গ আছে যাহা ভারসাম্য ও শ্বসনে ভূমিকা রাখে। ইহা ছাড়াও এর রক্ত সংবহন পদ্ধতি একমুখী।

ক. সিস্টোল কী?
খ. অভয়াশ্রম বলতে কী বুঝ?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটির গঠন বর্ণনা কর।
ঘ. উদ্দীপকের শেষোক্ত উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

ক) হৃৎপিণ্ডের সংকোচনই হলো সিস্টোল।

খ) অভয়াশ্রম হচ্ছে প্রাণী সংরক্ষণের কিছু নির্দিষ্ট এলাকা যেখান থেকে মানুষ অবাধে পশুপাখি শিকার করা, ধরা ও মারা নিষেধ। এছাড়াও জনগণ যেন গোপনে পশু-পাখি শিকার করতে না পারে সেজন্য সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষিত।

গ নং প্রশ্নের উত্তর

গ) উদ্দীপকে রুই মাছের ভারসাম্য রক্ষা ও শ্বসনে ভূমিকা রাখা অঙ্গটি বায়ুথলি। নিম্নে বায়ুথলির গঠন বর্ণনা করা হলো-

রুই মাছের বায়ুথলি একটি খাঁজ দ্বারা দুটি অসম প্রকোষ্ঠে বিভক্ত থাকে। সামনের, প্রকোষ্ঠটি, ছোট এবং পেছনের প্রকোষ্ঠটি বড় গ্রাসনালি বায়ুথলির মাঝে একটি সংযোগকারী নালি উপস্থিত। একে ডাক্টাস নিউমেটিকাস বলে।বায়ুথলির বাইরের দিক ঘনসন্নিবিষ্ট রক্তজালক সমৃদ্ধ। এর প্রাচীর দুটি স্তর দিয়ে গঠিত। বাইরের যোজক কলা দ্বারা গঠিত স্তর- টিউনিক এক্সটার্না এবং ভেতরের মসৃণ পেশি নির্মিত স্তর টিউনিকা ইন্টারনা বায়ুথলির সম্মুখ প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীরের এপিথেলিয়াম সংলগ্ন একটি করে লাল বর্ণের গ্যাস গ্রন্থি থাকে।

এর নাম রিটি মিরাবিলি । সামনের প্রকোষ্ঠের এ গ্রন্থি থেকে গ্যাস দ্বারা বায়ুথলি পূর্ণ হয়। কিন্তু পেছনের প্রকোষ্ঠে বিদ্যমান এ গ্রন্থি গ্যাস শোষণ করে। বায়ুথলির গ্যাসে বিভিন্ন উপাদান থাকতে পারে। বায়ুথলিতে বিদ্যমান গ্যাসের অধিকাংশই অক্সিজেন (O2)। এতে সামান্য পরিমাণ নাইট্রোজেন (N2) এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) থাকে। রুই মাছের বায়ুথলি ঘনিষ্ঠভাবে অন্তঃকর্ণের সাথে যুক্ত। ভেবেরিয়ান অস্থিমালা নামক একসারি ক্ষুদ্র অস্থি দ্বারা এ সংযোগ স্থাপিত হয়।

ঘ নং প্রশ্নের উত্তর

ঘ) ‘মাছের ক্ষেত্রে এই সংবহন প্রক্রিয়াটি একমুখী প্রকৃতির’ নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-

রুই মাছের হৃৎপিণ্ড সিলোমের বিশেষ একটি প্রকোষ্ঠে অবস্থিত। এ প্রকোষ্ঠটিকে পেরিকার্ডিয়াল গহ্বর বলে। এটি ফুলকাগুলোর ঠিক পেছনে অবস্থিত। রুই মাছের হৃৎপিণ্ডের প্রতিটি প্রকোষ্ঠে কেবলমাত্র অক্সিজেনরিক্ত অর্থাৎ CO2 যুক্ত রক্ত থাকে বলে একে ভেনাস হৃৎপিণ্ড বলে। হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলো পরপর সজ্জিত হয়ে জালকের আকৃতি ধারণ করে এবং রক্ত তার মধ্য দিয়ে একই গতিপথে প্রবাহিত হয়ে নালি পথে ফুলকায় যায় এবং অক্সিজেন যুক্ত হয়। এরূপ অক্সিজেন যুক্ত রক্ত পুনরায় হৃৎপিণ্ডে ফিরে না, ফুলকা থেকে সরাসরি নালিপথে ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ হৃৎপিণ্ডের মধ্যদিয়ে CO2 যুক্ত রক্ত পেছন হতে সামনের দিকে শুধু একমুখী হয়ে চলাচল করে। তাই এদের হৃৎপিণ্ডকে একচক্রী হৃৎপিণ্ড বলা হয়। এ কারণে এ ধরনের রক্ত সংবহনকে একমুখী রক্ত সংবহনতন্ত্র বলে।

রুই মাছ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর | প্রাণীর পরিচিতি | রুই মাছ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় সাজেশন

রাজশাহী বোর্ড ২০২১

স্বাদু পানির একটি প্রাণী, যার দেহ সাইক্লয়েড আঁইশ দ্বারা আবৃত এবং একটি থলি প্রাণীটিকে পানিতে ভেসে থাকতে সাহায্য করে।

ক. জাইগােট কী?
খ. সাইক্লয়েড আঁইশ দ্বারা কীভাবে বয়স নির্ণয় করা হয়?
গ. উদ্দীপকের থলিটির চিত্রসহ গঠন বর্ণনা করাে।
ঘ. উদ্দীপকের প্রাণীটির যথাযথ সংরক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা যায় বিশ্লেষণ করাে।

ক) কিছু পুংগ্যামিট ও স্ত্রী গ্যামিটের মিলনের ফলে উৎপন্ন স্পোরোফাইটের প্রাথমিক কোষই হলো জাইগোট ।

খ) রুইমাছের দেহকাণ্ড সাইক্লয়েড আঁইশ দ্বারা আবৃত। আঁইশ দেখতে চাকতির ন্যায়, মোটামুটি গোলাকার ও রূপালি চকচকে। আঁইশের কেন্দ্রভাগ পুরু এবং কিনারার দিক ক্রমশ পাতলা। আঁইশের কেন্দ্রে একটি স্বচ্ছ অংশ দেখা যায়। একে ফোকাস বা নিউক্লিয়াস বলে।

গ নং প্রশ্নের উত্তর

গ) এই ফোকাসের চারদিকে সারকুলাস ও অ্যানুলাস
অথবা বার্ষিক বৃদ্ধিরেখা নামক দু’ধরনের বৃত্তাকার রেখা অবস্থান করে।

বার্ষিক বৃদ্ধিরেখাগুলো গভীর, স্পষ্ট ও মোটা হয়। এবং বছরে মাত্র একটি করে সৃষ্টি হয়। এই রেখার সাহায্যে রুইমাছের বয়স ও বৃদ্ধিহার নির্ণয় করা হয়। তাই সাধারণত বসন্তকালে ও গ্রীষ্মকালে মাছ ও আঁইশের বৃদ্ধি বেশি হয় ।

গ) উদ্দীপকের থলিটি হলো বায়ুথলি।
এখন নিম্নে বায়ুথলির চিহ্নিত চিত্রসহ গঠন বর্ণনা করা হলো-

রুই মাছ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর | প্রাণীর পরিচিতি | রুই মাছ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় সাজেশন

ঘ নং প্রশ্নের উত্তর

(ঘ) উদ্দীপকের রুই মাছের যথাযথ সংরক্ষণের মাধ্যমে অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখা সম্ভব। রুই মাছ সংরক্ষণের পদক্ষেপ-

১. দেশের বিভিন্ন প্রজননক্ষেত্রগুলোর নদ-নদী প্লাবন ভূমির প্রাকৃতিক সঠিক সীমানা নির্ধারণ করে। এসব অঞ্চলকে মাছের অভয়ারণ্য ঘোষণা করা। এসব অভয়ারণ্যকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং মাছের প্রজননের সময় (জুন-জুলাই) মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।
2. পরিকল্পিত উপায়ে নদী বা উপকূলীয় বাঁধ বা সড়ক নির্মাণ করতে হবে। যাতে মাছের প্রজনন ও যাতায়াতের কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়।

৩. জলাশয় সংলগ্ন জমিতে কীটনাশক এবং রাসায়নিক সার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কোনোভাবে যেন এসব দ্রব্যাদি পানিতে মিশতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে।

৪. কলকারখানার নিক্ষিপ্ত বর্জ্য যাতে সরাসরি জলাশয়ে মিশে পানিকে দূষিত করতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৫. রুই জাতীয় মাছ চাষের গুরুত্ব, প্রজননক্ষম মাতৃ মাছের গুরুত্ব । মাছের জীবনচক্র, মাছ সংরক্ষনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কিত জ্ঞান সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে হবে।
৬. জাতির বৃহত্তর স্বার্থে মৎস্য সংক্রান্ত আইনের সঠিক প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করা এবং প্রয়োজনে আইন সংশোধন করতে হবে।
৫. জেলেরা রুই মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত থেকে তাদের জীবিকা নির্বাহ

অর্থনীতিতে অবদান :

রুই মাছ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে অর্থনীতিতে অবদান আনা যায়।
১. বর্তমানে রুই মাছ একটি জনপ্রিয় মাছ। রুইমাছ রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে।
২. রুইমাছের আঁইশ থেকে বিভিন্ন প্রকার সৌখিন দ্রব্য ও ঘর সাজানোর দ্রব্যাদি তৈরি করা হচ্ছে।
৩.এই রুই মাছের আঁইশ গুড়া করে পোল্ট্রি খাবার ও সার তৈরি হচ্ছে। যা বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হচ্ছে।
৪. বড় বড় মাছের কাঁটা গুড়া করে গাছের জন্য সার তৈরি করা হচ্ছে। যা বিক্রি করে কর্মসংস্থানের জোগাড় হচ্ছে । যা বিভিন্নভাবে আমাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।

রুই মাছ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর | প্রাণীর পরিচিতি | রুই মাছ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় সাজেশন

কুমিল্লা বোর্ড ২০২১

স্বাদু পানির জলাশয়ের একটি সাধারণ বৃহদাকৃতির মাছ হলো রুই । এই মাছের দেহ রূপালি আঁইশে আবৃত । বিভিন্ন কারণে এ রূপালি সম্পদ আজ হুমকির সম্মুখীন । এ সম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

ক. পাখনা কী?
খ. পটকা কেন মাছের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রূপালি উপাদানের সচিত্র গঠন বর্ণনা কর।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপ সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।

ক) মাছের পাতলা, চাপা, রশ্মিযুক্ত চলনাঙ্গকে পাখনা বলে।

খ) পটকা মাছের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কারণ-
১. এটি পানির যেকোনো গভীরতায় মাছকে সক্রিয়ভাবে সাঁতারে সহায়তা করে।
২. এইটি ভেতরের গ্যাসের পরিমাণ বাড়িয়ে বা কমিয়ে চার পাশের পরিবেশের সাথে পানিতে মাছের ভারসাম্য রক্ষা করে।
৩. পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলে বায়ু পটকাতে বিদ্যমান গ্যাস সে ঘাটতি পূরণ করে মাছের শ্বসন কাজে সহায়তা করে।

গ নং প্রশ্নের উত্তর

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত রূপালি উপাদানটি হলো রুই মাছের আঁইশ।রুই মাছের আঁইশ হচ্ছে সাইক্লয়েড জাতীয় আঁইশ। আঁইশের গঠন নিচে চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো-

রুই মাছ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর | প্রাণীর পরিচিতি | রুই মাছ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় সাজেশন

আঁইশের গঠন হচ্ছে পাতলা অস্থিময়। আঁইশ মাছের দেহকে ঢেকে রাখে। এটি চকচকে রূপালি গোলাকার অথবা ডিম্বাকার। আঁইশগুলো ত্বকের ডার্মাল স্তর হতে সৃষ্টি হয়। আঁইশ রাসায়নিকভাবে চুন ও কোলাজেন তন্তু দ্বারা গঠিত। আঁইশের কেন্দ্রে একটি স্বচ্ছ ক্ষুদ্র অংশ থাকে একে ফোকাস বা নিউক্লিয়াস বলে। ফোকাসের চারদিকে বৃত্তাকারে সজ্জিত কতকগুলো আল-সদৃশ রেখা থাকে এগুলো সারকুলি বা বৃদ্ধি রেখা। সারকুলির সাহায্যে মাছের বয়স নির্ণয় করা যায়। আঁইশের আল-বিহীন অঞ্চলকে বলা হয় রেডিই। আঁইশের অগ্র, পশ্চাৎ ও পার্শ্বক্ষেত্র রয়েছে। আঁইশের সম্মুখভাগ তন্তুময় যোজক টিস্যু নির্মিত এবং ডার্মিসের পকেটে প্রবিষ্ট থাকে। আঁইশগুলো পরস্পরকে আংশিক ঢেকে লম্বালম্বি ও কোনাকুনি সারিতে বিন্যস্ত থাকে। আঁইশগুলো সবসময় মিউকাসের পাতলা পিচ্ছিল আস্তরণে আবৃত থাকে ।

ঘ নং প্রশ্নের উত্তর

ঘ) উদ্দীপকে নির্দেশিত রূপালি সম্পদ হলো রুই মাছ। এই মূল্যবান সম্পদ রক্ষার জন্য অবশ্যই আমাদেরকে সঠিক ও সময় উপযোগী পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। রুইমাছ সংরক্ষণের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে-
১. প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণ : নদ-নদীগুলোকে নির্দিষ্ট করে মৎস্য অভয়াশ্রম তৈরি করে মাছের প্রজননের সুযোগ করে দিতে হবে ।
২. মা মাছ ধরা বন্ধ করা : ডিমওয়ালা মাছ ধরা নিষিদ্ধ করতে হবে।
৩ কলকারখানার বর্জ্য : বর্জ্য যাতে নদীর পানিতে না মিশতে পারে সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৪. সেচ নিয়ন্ত্রণ : সেচ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যাতে জলাশয় শুকিয়ে না যায় ।
৫. বাজার নিয়ন্ত্রণ : ৯ ইঞ্চির নিচে রুইমাছ যাতে বাজারে বিক্রি না হয় তা লক্ষ রাখতে হবে।
৬ নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি : নাব্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সব ঋতুতে পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে হবে।
৭. জনসচেতনতা সৃষ্টি : সেমিনার, সভা, সিস্ফুজিয়াম, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, পেপার পত্রিকার মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। যাতে রুইমাছ বিলুপ্ত হয়ে না যায়।
৮. মৎস্য আইন : মৎস্য আইনের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচার করতে হবে।
৯. হালদা নদী সংরক্ষণ : হালদা নদী সংরক্ষণের মাধ্যমেও রুই মাছ সংরক্ষণ করা যাবে।

এই রুই মাছ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর | প্রাণীর পরিচিতি | রুই মাছ বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় সাজেশন ছাড়াও আরো জানতে ক্লিকঃ