সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র): শিক্ষার্থীরা তোমাদের বাংলা সহপাঠ সিরাজউদ্দৌলা নাটক এর সর্বশেষ বোর্ড প্রশ্ন উত্তরসহ এখানে দিয়েছি। আশাকরি তোমরা এখান থেকে প্রস্তুতি ও পরীক্ষার ধারণা নিতে পারবে।

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

ঢাকা বোর্ড ২০১৯

“বর্গি এল খাজনা নিতে
মারল মানুষ কত।
পুড়ল শহর, পুড়ল শ্যামল
গ্রাম যে শত শত ।
হানাদারের সঙ্গে জোরে
লড়ে মুক্তি সেনা,
তাদের কথা দেশের মানুষ
কখনো ভুলবে না।”

ক. সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকারীর নাম কী?
খ. “আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবে।” – উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
গ. উদ্দীপকটি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন দিকটিকে নির্দেশ করে? আলোচনা কর ।
ঘ. “উদ্দীপকের মুক্তিসেনা এবং ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সিরাজউদ্দৌলা একই সূত্রে গাঁথা”- মন্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ কর।

আরো পড়ুনঃ

জ্ঞান

ক) সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকারীর নাম মোহাম্মদি বেগ।

খ অনুধাবন

নবাবের বিরুদ্ধে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে উপস্থিত সবার উদ্দেশে ক্লাইভ প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।মিরনের প্রাসাদে মিরজাফর, রায়দুর্লভ, রাজবল্লভসহ সবাই মিলে ক্লাইভের সঙ্গে নবাবের বিরুদ্ধে গোপন বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে তাদের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন সংক্রান্ত বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ছিল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়। এ কারণে ক্লাইভ বলেছিলেন, আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবে।

সারকথা : ইংরেজরা নবাবের বিশ্বস্ত কিছু মানুষের সহায়তায় গভীর ষড়যন্ত্রের চুক্তি স্বাক্ষর করে। তখন ক্লাইভ উপস্থিত সবার কাছে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

প্রয়োগ

গ) উদ্দীপকটি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের ইংরেজদের শোষণ-অত্যাচারের দিকটিকে নির্দেশ করে । ক্ষমতার লোভ আর অর্থের লোভে মানুষ যখন উন্মত্ত হয়ে ওঠে তখন মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলে। নিজের স্বার্থে সে দুর্বলের ওপর জুলুম-অত্যাচার করে। অন্যায়ভাবে মানুষকে হত্যা করতেও পিছপা হয় না।

‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ইংরেজরা এদেশের মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচার শুরু করে। নাটকে দেখা যায়, ইংরেজ কুঠিয়ালরা লবণ বিক্রি না করার অপরাধে এক দরিদ্র প্রজার ওপর নির্মম অত্যাচার করে। ইংরেজরা তার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। এমনকি তার গর্ভবতী স্ত্রীকে নির্যাতন করে। ইংরেজদের সীমাহীন অত্যাচারে দরিদ্র প্রজাদের দুঃখ-কষ্টের সীমা থাকে না। উদ্দীপকের কবিতাংশেও হানাদারদের নির্যাতনের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। তারা খাজনা আদায়ের নামে মানুষ হত্যা করে। পুড়িয়ে দেয় শত শত সবুজ গ্রাম ও শহর । তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের ইংজেদের নির্মম অত্যাচারের দিকটিকে নির্দেশ করে।

সারকথা : উদ্দীপকের কবিতাংশে হানাদারদের অত্যাচারের কথা প্রকাশ পেয়েছে, যা ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের ইংরেজদের নির্মম অত্যাচারের দিকটিকে নির্দেশ করে।
ঘ উচ্চতর দক্ষতা

“উদ্দীপকের মুক্তিসেনা এবং ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সিরাজউদ্দৌলা একই সূত্রে গাঁথা।”— মন্তব্যটি যথার্থ। যুগে যুগে বাংলা মায়ের বুক আশায়, নির্ভরতায় ভরিয়ে দিয়েছেন এদেশের বীর সন্তানেরা। তাঁরা কখনই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তাঁরাই এ জাতির গর্ব আর অহংকারের প্রতীক।

উদ্দীপকের কবিতাংশে হানাদারদের নির্মম অত্যাচারের বিরুদ্ধে মুক্তিসেনাদের প্রতিরোধের কথা বলা হয়েছে। হানাদারেরা এদেশের মানুষের ওপর অত্যাচার শুরু করলে মুক্তিসেনারা নিজেদের জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করেন। দেশের জন্য তাঁদের আত্মত্যাগের

কথা এদেশের মানুষ কখনই ভুলবে না। সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলাও ইংরেজদের অত্যাচারের প্রতিবাদ করেছেন। নিজের দেশকে শত্রুমুক্ত করতে বীরদর্পে এগিয়ে গেছেন। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন।

‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা দেশ ও দেশের মানুষকে ইংরেজদের অত্যাচার থেকে রক্ষা করতে বীরদর্পে লড়াই করেছেন। দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই অবদান দেশের মানুষ কখনই ভুলবে না। উদ্দীপকের মুক্তিসেনারাও দেশের মানুষকে হানাদারদের অত্যাচার থেকে মুক্ত করতে লড়াই করেছেন।

দেশের মানুষ কখনই ভুলবে না। এই দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্দীপকের মুক্তিসেনা এবং ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সিরাজউদ্দৌলা একই সূত্রে গাঁথা। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সারকথা : উদ্দীপকের মুক্তিসেনারা দেশের মানুষকে অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা করতে হানাদারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তাঁদের কথা দেশের মানুষ কখনই ভুলবে না। “সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলাও দেশ ও দেশের মানুষকে ইংরেজদের অত্যাচার থেকে রক্ষা করার জন্য জীবন দিয়েছেন। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাঙামাটির ‘বুড়িরঘাট’ যুদ্ধে শত্রুপক্ষ মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পের কাছাকাছি চলে আসে। সহযোদ্ধাদের অপ্রস্তুতির বিষয়টি টের পেয়ে মুন্সি আবদুর রউফ মেশিনগানের গুলি চালিয়ে পাকিস্তানি সৈন্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে সহযোদ্ধারা প্রস্তুতি নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করার প্রাক্কালে সহযোদ্ধাদের জীবন বাঁচাতে শহিদ বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ। পরাস্ত হয় শত্রুপক্ষ।

ক. মিরজাফরের গুপ্তচর কে?
খ. ‘ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়’- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফের সাথে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে যুদ্ধক্ষেত্রে মোহনলালের ভূমিকার তুলনা কর।
ঘ. “উদ্দীপকে বিজয়ের বারতা থাকলেও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে পরাজয় ঘটেছে দেশপ্রেমিক শক্তির।”- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

জ্ঞান
মিরজাফরের গুপ্তচর হলো— উমর বেগ।
খ অনুধাবন

• “ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়।”- উক্তিটির মাধ্যমে ভীরু ও প্রতারকেরা যে কখনো সাহস নিয়ে শত্রুর সামনে দাঁড়াতে পারে না এবং সম্মুখ সমরে আসতে পারে না তা-ই বোঝানো হয়েছে।

পলাশির যুদ্ধের সময় নবাব সিরাজউদ্দৌলার কাছ থেকে সেনা সংগ্রহের কথা বলে অনেকেই টাকা নিয়েছিল। তারা টাকা নিয়ে পালিয়েছিল। এমনকি সিরাজউদ্দৌলার শ্বশুর ইরিচ খাঁও সেনাবাহিনী সংগঠনের কথা বলে নবাবের কাছ থেকে প্রচুর টাকা নিয়ে।

পালিয়ে গিয়েছিলেন। তারা পালিয়েছিল প্রাণের ভয়ে, প্রতারণা করে। এই প্রসঙ্গটি বোঝাতেই নবাব বলেছিলেন, “ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়। আর তাতে প্রকৃত বীরের মনোবল ক্ষুণ্ন হয় না।”

সারকথা : অনেকে সেনা সংগ্রহের জন্য টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল বলে সিরাজ আলোচ্য মন্তব্য করেছিলেন।

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

গ প্রয়োগ

উদ্দীপকের বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফের সঙ্গে জীবন বাজি রেখে দেশমাতৃকার জন্য যুদ্ধ করার দিক দিয়ে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মোহনলাল তুলনীয়।

একজন দেশপ্রেমিক বীর যোদ্ধা দেশকে শত্রুমুক্ত করতে মৃত্যুর পরোয়া না করে অকুতোভয়ে যুদ্ধ করেন। তাঁর কাজ নিজের জীবনের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায় দেশের স্বার্থ । এ জন্য তিনি হাসিমুখে মৃত্যুকে বরণ করে নিতে পারেন।

উদ্দীপকে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফ দেশাত্মবোধে অবচিল ছিলেন। তিনি দেশের জন্য জীবন বাজি রেখেছেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সম্মুখে একাই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। সহযোদ্ধাদের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে তিনি শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। “সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে মোহনলালও ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক বীর। তিনি নবাব সিরাজউদ্দৌলার নির্দেশে পলাশির প্রান্তরে প্রাণপণে লড়াই করেছেন।

প্রধান সেনাপতি মিরজাফর যেখানে বিশ্বাসঘাতকতা করে যুদ্ধক্ষেত্রে ইংরেজদের পক্ষাবলম্বন জন করেছিল, সেখানে মোহনলাল দেশের জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত লড়াই করেছিলেনংিরেজদের প্রবল আক্রমণে মৃত্যু আসন্ন জেনেও তিনি একই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। আর নবাবকে রাজধানীতে ফেরত পাঠিয়েছিলেন। পুনরায় সৈন্য সংগঠিত করতে। এসব বিচারে বলা যায়, উদ্দীপকের বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফরে সাথে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে মোহনলালের বীরত্ব তুলনীয়।

সারকথা : উদ্দীপকের বীরশ্রেষ্ঠ আবদুর রউফ এবং ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মোহনলাল উভয়েই দেশপ্রেমিক, সৎ ও সাহসী। দেশের জন্য তাঁরা জীবন দিয়েছেন।

উচ্চতর দক্ষতা

উদ্দীপকে বিজয়ের বারতা থাকলেও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে পরাজয় ঘটেছে দেশপ্রেমিক শক্তির— মন্তব্যটি যথার্থ । দেশমাতৃকার জন্য প্রত্যেক দেশপ্রেমিকই জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ও জাতিকে রক্ষা করতে চান। মৃত্যু তখন বীর যোদ্ধার সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের কাছে পরাজিত হয় ।

উদ্দীপকে মুন্সি আবদুর রউফ ও তাঁর সহযোদ্ধারা প্রবল পরাক্রমে শত্রুসেনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। তাঁদের নৈপুণ্যে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। এই যুদ্ধে মুন্সি আবদুর রউফ শহিদ হলেও তাঁর রক্ত বৃথা যায়নি।

তাঁর রক্তের বিনিময়ে শত্রুরা পরাস্ত হয়। বিজয়ী হন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধারা। ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন দেশপ্রেমিক বীর। তাঁর পক্ষে ছিল মোহনলাল, মিরমর্দান, সাঁফ্রেসহ দেশপ্রেমিক শক্তি। তাঁরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য লড়াই করেছেন। কিন্তু বিশ্বাসঘাতক মিরজাফর ও তার দোসরদের প্রতারণায় পলাশির যুদ্ধে নবাব পরাজিত হন।

ফলে প্রবল দেশপ্রেম ও দৃঢ় প্রত্যয় থাকা সত্ত্বেও সেই যুদ্ধে দেশপ্রেমিক শক্তির পরাজয় ঘটে।‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও তাঁর সঙ্গী দেশপ্রেমিক যোদ্ধারা শত্রুর কাছে পরাজিত হলেও উদ্দীপকে ঘটে উল্টো ঘটনা। সেখানে শত্রুসেনারা পরাস্ত হয় এবং দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়ী হওয়ার আভাস পাওয়া যায়। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সারকথা : উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা হয়েছে। যেখানে শত্রুপক্ষ পরাস্ত হয়, যা বিজয়ের ইঙ্গিত বহন করে। কিন্তু ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে শেষ পর্যন্ত দেশপ্রেমিক শক্তির পরাজয় ঘটে।

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

রাজশাহী বোর্ড ২০১৯

রফিক সাহেব নাম পরিচয়হীন এক অনাথ বালককে আশ্রয় দিয়েছিলেন বিশ বছর আগে। নাম রেখেছিলেন সজল। অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আদর-যত্নে রফিক সাহেবের সন্তান হিসেবেই সে বড় হয়। কিন্তু, ন্যূনতম মানবিক মূল্যবোধের সৌরভ তার মধ্যে সৃষ্টি হয়নি। মনের দিক থেকে সে এতই কদর্য ও সংকীর্ণ যে, রফিক সাহেবের বিশাল সম্পত্তির মালিক হয়ে যেতে চায় সে।

এলাকায় রফিক সাহেবের যশ-খ্যাতি ও সুনামের যারা প্রতিপক্ষ, তাদের দ্বারা সজল প্রতিনিয়ত প্ররোচিত হয়। সে তার আশ্রয়দাতার সম্পত্তি হস্তগত করার জন্য সুযোগ খোঁজে। একদিন সে অস্ত্রের মুখে সমস্ত সম্পত্তি তার নামে লিখে দিতে রফিক সাহেবকে বাধ্য করে এবং পরে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

ক জ্ঞান

“চারিদিকে শুধু অবিশ্বাস আর ষড়যন্ত্র।”- উক্তিটি রায়দুর্লভের।

খ অনুধাবন

“ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়।”— উক্তিটির মাধ্যমে ভীরু ও প্রতারকেরা যে কখনো সাহস নিয়ে শত্রুর সামনে দাঁড়াতে পারে না এবং সম্মুখ সমরে আসতে পারে না এখানে তা-ই বোঝানো হয়েছে।

ক. “চারিদিকে শুধু অবিশ্বাস আর ষড়যন্ত্র।” – উক্তিটি কার?
খ. “ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়।”- এর তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
গ. উদ্দীপকের সজলের আচরণ ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়? যুক্তি দেখাও।
ঘ. “উদ্দীপকের রফিক সাহেব ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সিরাজের পরিণতি এক হলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।”- আলোচনা কর।

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

ক) রায়দূর্লভের

খ) উদ্দীপকের সজলের আচরণ ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মোহাম্মদি বেগ চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয় স্বার্থান্বেষী মানুষ নিজ স্বার্থ রক্ষার জন্য যেকোনো গর্হিত কাজ করতে পারে। লোভ, ক্ষমতা দখল, লালসা ইত্যাদির জন্য সে মনুষ্যত্ব বিকিয়ে দিয়ে পশুতে পরিণত হয়। তার মধ্যে কোনো কৃতজ্ঞতাবোধ থাকে না।

উদ্দীপকের সজল এমন একজন ঘৃণিত ব্যক্তি, যে আপন আশ্রয়দাতার প্রতি অবিশ্বস্ত ও নির্মম। যিনি তাকে অসহায় অবস্থা থেকে তুলে এনে আশ্রয় দিয়েছিলেন, প্রতিপালন করেছিলেন, সম্পত্তির লোভে সে তাকেই হত্যা করে। এমনই একটি অকৃতজ্ঞ চরিত্র

‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মোহাম্মদি বেগ। নবাব সিরাজের মা এতিম মোহাম্মদি বেগকে আশ্রয় দিয়েছেন, তিপালন করেছেন।

অথচ মাত্র দশ হাজার টাকার বিনিময়ে সে সিরাজকে হত্যা করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সজলের আচরণ ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের নবাব সিরাজের হত্যাকারী অকৃতজ্ঞ ও নিষ্ঠুর মোহাম্মদি বেগ চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয় ।

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

পলাশির যুদ্ধের পরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার কাছ থেকে সৈন্য সংগ্রহের জন্য অনেকেই টাকা নিয়েছিল। তারা টাকা নিয়ে পালিয়েছিল। এমনকি সিরাজউদ্দৌলার শ্বশুর ইরিচ খাও সেনাবাহিনী সংগঠনের কথা বলে নবাবের কাছ থেকে প্রচুর টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তারা পালিয়েছিল প্রাণের ভয়ে, প্রতারণা করে। এই প্রসঙ্গটি বোঝাতেই নবাব বলেছিলেন, “ভীরু

প্রতারকের দল চিরকালই পালায়। আর তাতে প্রকৃত বীরের মনোবল ক্ষুণ্ন হয় না।”

সারকথা : অনেকে সৈন্য সংগ্রহের জন্য টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল বলে সিরাজ আলোচ্য মন্তব্য করেছিলেন।

ঘ) উচ্চতর দক্ষতা

“উদ্দীপকের রফিক সাহেব ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সিরাজের পরিণতি এক হলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।”— মন্তব্যটি যথার্থ। লোভী ও অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি আত্মস্বার্থে যেকোনো সময় বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে। আর বিশ্বাসঘাতক কখনো কারও আপন হতে পারে না। সে সবসময় অন্যের ক্ষতি করে বেড়ায়। বিশ্বাসঘাতককে সবাই ঘৃণা করে। উদ্দীপকের সজল তার আশ্রয়দাতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে।

সজলকে যে ব্যক্তি এতিম অবস্থা থেকে তুলে এনে প্রতিপালন করেন তাকে হত্যা করে সে তার সম্পত্তি গ্রাস করার চেষ্টা করে। সম্পত্তির লোভেই আশ্রয়দাতাকে হত্যা করতে সে কুণ্ঠাবোধ করে না । ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হলেও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকেও নবাব সিরাজের করুণ পরিণতির জন্যও দায়ী এই অর্থলোভ। নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার মা আমিনা বেগম এতিম মোহাম্মদি বেগকে সন্তানম্নেহে প্রতিপালন করেন। কিন্তু সে সামান্য টাকার লোভে পড়ে প্রতিপালকের সন্তানের বুকে ছুরি বসাতে রাজি হয়। দশ হাজার টাকার বিনিময়ে সে নবাব সিরাজকে হত্যা করে।

প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মোহাম্মদি বেগের অর্থলোভ এবং উদ্দীপকের সজলের সম্পত্তির লোভ তাদের আশ্রয়দাতার মৃত্যুর জন্য দায়ী। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, উদ্দীপকের রফিক সাহেব ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সিরাজের পরিণতি এক হলেও প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ।

সারকথা : উদ্দীপকের সজল ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মোহাম্মদি বেগ উভয়েই কৃতঘ্ন ও খুনি। আচরণগত ও নিষ্ঠুর মানসিকতার দিক দিয়ে উদ্দীপকের সজলের আচরণ আলোচ্য নাটকের মোহাম্মদি বেগ চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়।

সারকথা : অর্থের লোভ মানুষকে অন্ধ করে দেয়। অর্থলোভী বিশ্বাসঘাতক সজল ও মোহাম্মদি বেগের কারণেই উদ্দীপকের রফিক সাহেব ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সিরাজউদ্দৌলার করুণ পরিণতি হয়, যদিও তাদের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

যশোর বোর্ড ২০১৯

মাত্র সতেরো জন সৈন্য নিয়ে বখতিয়ার খলজি সুদূর তুরস্ক থেকে এসে বাংলার সিংহাসন দখল করে নিয়েছিল। সামান্য কয়জন ছদ্মবেশী বণিক যুদ্ধে জয়লাভ করেছিল তাদের অসামান্য সাহস, শৃঙ্খলা ও চাতুর্য দিয়ে। পক্ষান্তরে লক্ষ্মণসেনের রাজপ্রাসাদ ছিল নানা বিশৃঙ্খলায় পরিপূর্ণ ও অরক্ষিত। তার বিশাল বাহিনী যুদ্ধ না করে পালিয়ে গেল । লক্ষ্মণসেনও রাজ্য ত্যাগ করতে বাধ্য হলেন। মূলত সেদিন যুদ্ধ হয়নি, হয়েছে যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতা।

ক. ঐতিহাসিক পলাশি কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
খ. ট্র্যাজেডি হিসেবে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখ।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের ঘটনা কোন কোন ক্ষেত্রে তুলনীয়?
ঘ. “মূলত সেদিন যুদ্ধ হয়নি, হয়েছে যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতা।”- এই উক্তি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য— কথাটির তাৎপর্য মূল্যায়ন কর।

ক জ্ঞান

ঐতিহাসিক পলাশি গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

খ অনুধাবন

ট্র্যাজেডি নাটকের বৈশিষ্ট্য হিসেবে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নায়কের বিবেচনাগত ভুল এবং এই বিবেচনাগত ভুলই শেষ পর্যন্ত তার চরম পরিণতির জন্য দায়ী বলে গণ্য হয়েছে।

ট্র্যাজেডি নাটকের বৈশিষ্ট্যানুযায়ী নাটকটি করুণ রসাত্মক এবং এক অপরিসীম যন্ত্রণাদগ্ধ পরিণতির মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।

‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র সিরাজের ব্যক্তিত্ব ও পরিণতি একইভাবে ট্র্যাজেডির শিল্পমানকে স্পর্শ করেছে। এক অনিবার্য ও ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও আপন লক্ষ্যে অবিচল থাকার মধ্য দিয়ে সিরাজ ট্র্যাজেডি নাটকের নায়কের মতোই আবির্ভূত হয়েছেন। সিরাজ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন, ষড়যন্ত্র টের পেয়েও ঔদার্য ও মানবিকতায় আমৃত্যু আস্থাশীল ছিলেন। যা ছিল ট্র্যাজেডি নাটকের বৈশিষ্ট্য হিসেবে নায়কের বিবেচনাগত ভুলও।

গ প্রয়োগ

উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের ঘটনা রাজপ্রাসাদের বিশৃঙ্খলা, বিশাল বাহিনীর যুদ্ধ না করা, রাজার রাজ্য ত্যাগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে তুলনীয়। একটি দেশের বিশ্বাসঘাতকদের কারণেই জাতির সোনালি স্বপ্ন হারিয়ে যায়। বিশ্বাসঘাতকেরা নিজেদের স্বার্থে যেকোনো কাজ করতে দ্বিধা করে না। বিশ্বাসঘাতকদের কারণেই জাতি মহান নেতাদের এবং দেশের স্বাধীনতা হারায়।

সারকথা : ট্র্যাজেডি নাটকের বৈশিষ্ট্য হিসেবে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে পরিলক্ষিত হয়েছে- নায়ক সিরাজউদ্দৌলার বিবেচনাগত ভুল এবং সেই বিবেচনাগত ভুলের কারণে তাঁর জীবনে নেমে আসা করুণ পরিণতি।

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

ঘ উচ্চতর দক্ষতা

“মূলত সেদিন যুদ্ধ হয়নি হয়েছে যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতা।” – এই উক্তিটি ‘সিরাজউদ্দোলা’ নাটকের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য । বিশ্বাসঘাতক ব্যক্তিদের কারণে দেশে বিপর্যয় নেমে আসে। তারা নিজেদের স্বার্থের জন্য দেশ ও জাতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। তাদের মধ্যে দেশপ্রেমহীনতার কারণেই তারা সবার কাছে ঘৃণিত হয়।

উদ্দীপকের শেষ লাইনে বলা হয়েছে মূলত সেদিন যুদ্ধ হয়নি, হয়েছে যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতা। কারণ লক্ষ্মণ সেনের বিশাল বাহিনী যুদ্ধ না করে পালিয়ে যায়। লক্ষ্মণ সেনের রাজপ্রাসাদও ছিল বিশৃঙ্খলায় পরিপূর্ণ। এসব কারণে লক্ষ্মণ সেন রাজ্য ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকেও এমন ঘটনার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। প্রধান সেনাপতি মিরজাফরের মাঝে ছিল না কোনো দেশপ্রেম, ছিল না কোনো দায়িত্বজ্ঞান। নবাবের প্রাসাদের লোকজনও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। মিরজাফর কোরান ছুঁয়ে শপথ করলেও দেশের পক্ষে যুদ্ধ করেননি। বরং নবাব সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে যে সমস্ত সৈনিক যুদ্ধ করতে চেয়েছেন তাদের সুযোগটাও দেননি। নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তিনি ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন; স্বদেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে দেখা যায়, পলাশির প্রান্তরে যুদ্ধের নামে হয়েছিল প্রহসন। মিরজাফর, রাজবল্লভ, ইয়ার লুৎফ খাঁ-এদের কারও সৈন্যই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। ফলে পলাশির প্রান্তরে ইংরেজদের বিরুদ্ধে পাতানো যুদ্ধে নবাবের পরাজয় হয়েছিল । উদ্দীপকেও এমন ঘটনার প্রতিফলন রয়েছে। লক্ষ্মণ সেনের বিশাল বাহিনী যুদ্ধ না করে পালিয়ে যায়। এ কারণেই বলা হয়েছে মূলত সেদিন যুদ্ধ হয়নি, হয়েছে যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতা। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।

সারকথা : প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ। কারণ উদ্দীপক ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটক উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, রাজা লক্ষ্মণ সেন ও নবাব + সিরাজউদ্দৌলার বিশাল সৈন্যবাহিনী থাকার পরও তারা যুদ্ধ করেনি। আর যুদ্ধের এই তিক্ত অভিজ্ঞতায় নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও লক্ষ্মণ সেনের পরাজয় নিশ্চিত হয়।

উদ্দীপকের লক্ষ্মণ সেনের রাজপ্রাসাদ ছিল বিশৃঙ্খলায় পরিপূর্ণ। তার বিশাল বাহিনী যুদ্ধ না করে পালিয়ে যায়। যার কারণে রাজা লক্ষ্মণ সেনও রাজ্য ত্যাগ করতে বাধ্য হন। সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের ঘটনায়ও এই বিষয়গুলো লক্ষ করা যায়। নবাবও বিশ্বাসঘাতকদের দ্বারা প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। পলাশির প্রান্তরে তার বিশাল সৈন্যবাহিনী যুদ্ধ না করে নির্বিকার দাঁড়িয়ে থেকেছে। যার কারণে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নবাবের পরাজয় নিশ্চিত হয় এবং নবাব যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করতে বাধ্য হন। আর এদিক থেকেই উদ্দীপকের সঙ্গে নাটকের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

সারকথা : উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের প্রাসাদ ষড়যন্ত্র এবং যুদ্ধক্ষেত্রের ঘটনা তুলনীয়। উদ্দীপকের মতো নবাবের রাজপ্রাসাদও ছিল নানা বিশৃঙ্খলা ও ষড়যন্ত্রে পরিপূর্ণ এবং নবাবের বিশাল সেনাবাহিনীও যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধ না করে ছিল নির্বিকার।

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯

শোনো, একদিন এই দেশটাতে
দানবেরা দেয় হানা
শকুনেরা মেলে ডানা
পুড়ে ছারখার মাঠের শস্য
মানুষের আস্তানা।

ক. নবাবের গোলন্দাজ বাহিনী কোন খাল পেরিয়ে ছুটে আসছে?
খ. “ফিরে এসেছি রাজধানীতে স্বাধীনতা বজায় রাখবার শেষ চেষ্টা করব বলে।” – উক্তিটি ব্যাখ্যা কর ।
গ. উদ্দীপকের ‘দানবেরা’, ‘শকুনেরা’ ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর ।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সাথে কতটুকু যোগসূত্র স্থাপন করেছে?” – বিশ্লেষণ কর।

জ্ঞান

নবাবের গোলন্দাজ বাহিনি শিয়ালদহের মারাঠা খাল পেরিয়ে ছুটে আসছে।

খ অনুধাবন

পলাশির যুদ্ধে পরাজয়ের পর মুর্শিদাবাদ ফিরে এক ব্যক্তির কথার পরিপ্রেক্ষিতে নবাব সিরাউদ্দৌলা প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেন।

পলাশির যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত নবাব মুর্শিদাবাদ চলে আসেন। মিরজাফর, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ এদের বিশ্বাসঘাতকতায় পলাশির প্রান্তরে নবাবের পরাজয় হয়। অথচ যুদ্ধে নবাবের সৈন্য কামান সংখ্যা ছিল ইংরেজদের তুলনায় অনেক বেশি। মুর্শিদাবাদ ফিরে বিভিন্ন শ্রেণির সাধারণ মানুষের সামনে বক্তৃতা করে পলাশির যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার কথা এবং নিজের ফিরে আসার কারণ ব্যক্ত করেন। তখন এক ব্যক্তির কথা প্রসঙ্গে নবাব সিরাজউদ্দৌলা প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেন। নবাব প্রাণের ভয়ে ফিরে আসেননি। রাজধানীতে ফিরে এসেছেন স্বাধীনতা বজায় রাখার শেষ চেষ্টা করার অভিপ্রায় নিয়ে।

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

সারকথা : নবাব সিরাজউদ্দৌলা প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেন এক ব্যক্তির কথার পরিপ্রেক্ষিতে। নবাব যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজিত হয়ে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে আসেননি। এসেছেন রাজধানীতে স্বাধীনতা বজায় রাখার শেষ চেষ্টা করার জন্য।

গ প্রয়োগ

উদ্দীপকের ‘দানবেরা’, ‘শকুনেরা’ ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের ইংরেজদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ঔপনিবেশিক শাসকরা সবচেয়ে বেশি সচেষ্ট থেকেছে। সাম্রাজ্য বিস্তারের দিকে তাদের অনেক বেশি আগ্রহ ছিল । দুর্বলকে শোষণ করাই তাদের টিকে থাকার এবং অস্তিত্ব রক্ষার একমাত্র অবলম্বন।

‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে অন্যান্য ঘটনার পাশাপাশি ইংরেজদের অত্যাচার ও শোষণের দিকটি উঠে এসেছে। ইংরেজরা বাণিজ্য করার উদ্দেশ্য নিয়ে এদেশে আসে। কিন্তু তারা বিভিন্নভাবে এদেশের মানুষদের বঞ্চিত করে। নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য তারা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার শুরু করে। অত্যাচার ও শোষণের চিত্র উদ্দীপকের ভাবার্থেও প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষ করে দানবেরা এদেশে হানা দিলে, শুকনেরা ডানা মেললে মানুষের সবকিছু ছারখার হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার আর শোষণের দিক থেকে উদ্দীপকের ‘দানবেরা,’ ‘শকুনেরা’ ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের ইংরেজদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ।

সারকথা : উদ্দীপকের ‘দানবেরা’, ‘শকুনেরা’ ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের ইংরেজদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ তারা এদেশের সাধারণ মানুষের।
ঘ উচ্চতর দক্ষতা

● উদ্দীপকটি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সঙ্গে আংশিক যোগসূত্র স্থাপন করেছে।

সম্পদের প্রাচুর্যের কারণে ইংরেজরা এদেশে বাণিজ্য করতে আসে। তারপর সাম্রাজ্য বিস্তারের স্বপ্নে বিভোর হয়ে তারা ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও অস্ত্রবলে এদেশের মানুষকে শোষণ করতে চায়। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় তারা পূর্বেও অনেক জাতিকে শোষণ করেছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে এদেশের কিছু বিশ্বাসঘাতক, জাতি যাদের ঘৃণার চোখে দেখে।

উদ্দীপকের কবিতাংশে ভিনদেশিদের শোষণের চিত্র ফুটে উঠেছে। তারা নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য এদেশে হানা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের ওপর শোষণ-নির্যাতন ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকেও ভিনদেশিদের শোষণের চালিয়েছে। তাদের আক্রমণে পুড়ে গেছে ফসলের মাঠ, মানুষের আস্তানা।

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। ইংরেজরা বাণিজ্য করার উদ্দেশ্য নিয়ে এদেশে এলেও ধন-সম্পদের প্রাচুর্যে তারা সাম্রাজ্য বিস্তারের স্বপ্ন দেখে। কখনো শক্তি প্রয়োগ করে, কখনো দুর্নীতি বা ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়ে তারা নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। এই দিকটির পাশাপাশি আলোচ্য নাটকে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, আত্মীয়দের ক্ষমতার লোভ, আপনজনদের বিশ্বাসঘাতকতা, ইংরেজ ও নবাবের বিরোধ, নবাবের উৎকণ্ঠা, দেশপ্রেম পলাশির যুদ্ধ, যুদ্ধে নবাবের পরাজয় ও নবাবের করুণ পরিণতি ইত্যাদি বিষয় প্রাসঙ্গিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।

উদ্দীপকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের একটি বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে, তা হলো এদেশের সাধারণ মানুষের ওপর ইংরেজদের শোষণ ও নির্মম অত্যাচার । কিন্তু আলোচ্য নাটকে এই বিষয়টি থাকার পাশাপাশি আরও বিচিত্র ঘটনার সমাবেশ ঘটেছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সঙ্গে আংশিক যোগসূত্র স্থাপন করেছে।

সারকথা : উদ্দীপকের কবিতাংশে এদেশের সাধারণ মানুষের ওপর ভিনদেশিদের শোষণ ও অত্যাচারের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ইংরেজদের শোষণ, নির্যাতন ছাড়াও অনেক বিচিত্র ঘটনার ধারাবাহিক বর্ণনা রয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সঙ্গে আংশিক যোগসূত্র স্থাপন করেছে।

চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

মহাকবি বাল্মীকির ‘রামায়ণ’ এক অর্থে আর্য ও অনার্য সংস্কৃতির প্রতিভূ। রামায়ণের কাহিনিকে নব আঙ্গিকে ঢেলে সাজান মাইকেল মধুসূদন দত্ত। মেঘনাদ চরিত্রটি তাঁর এক অসাধারণ সৃষ্টি। সীমাহীন দেশপ্রেম ও অসাধারণ বীরত্ব সত্ত্বেও গৃহশত্রু বিভীষণের কারণে তাকে করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়। মেঘনাদের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে রাম-রাবণ যুদ্ধে বিজয় সূচিত হয় আর্য শক্তির।

ক. “আমাদের কারও অদৃষ্ট মেঘমুক্ত থাকবে না শেঠজি।” – উক্তিটি কার?
খ. “আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়।” – বুঝিয়ে দাও।
গ. উদ্দীপকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? আলোচনা কর।
ঘ. “উদ্দীপকের মেঘনাদ এবং ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সিরাজ চরিত্র দেশপ্রেমের এক অনুপম প্রতীক।” – বিশ্লেষণ কর।

ক জ্ঞান

“আমাদের কারও অদৃষ্ট মেঘমুক্ত থাকবে না শেঠজি।”- উক্তিটি মিরজাফরের।

খ অনুধাবন

“আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়।”— কথাটি দ্বারা নবাব সিরাজউদ্দৌলা প্রাসাদ ষড়যন্ত্র এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর বর্তমান অবস্থা বোঝাতে চেয়েছেন।

বাংলার মসনদে আরোহণের পর থেকেই নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য প্রাসাদ ষড়যন্ত্র শুরু করেন সিরাজের খালা ঘসেটি বেগম। ক্ষমতা না পাওয়ায় ঘসেটি বেগমের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ বিরাজমান ছিল, নবাব তা বুঝতে পারতেন।

মিরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভের সঙ্গে ঘসেটি বেগম সিরাজের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ওদিকে দেশের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ইংরেজদের সঙ্গে সিরাজের দ্বন্দ্বও দিন দিন বেড়েই চলছিল। সিরাজ তাঁর বর্তমান অবস্থা বোঝাতেই স্ত্রী লুৎফুন্নেসার কাছে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

সারকথা : বাংলার নবাব হওয়ার পর থেকেই সিরাজউদ্দৌলা তার নিকট আত্মীয়স্বজন দ্বারা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। প্রশ্নোক্ত কথাটি দিয়ে সিরাজ তাঁর বর্তমান অবস্থা বোঝাতে চেয়েছেন।

প্রয়োগ

উদ্দীপকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার সীমাহীন দেশপ্রেম ও করুণ পরিণতির দিকটি ফুটে উঠেছে। দেশপ্রেমিক ব্যক্তি নিজের জীবনের চেয়েও দেশকে বেশি ভালোবাসেন। নিজ দেশকে ভালোবাসা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম। নিজের জীবন দিয়েও তারা দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে চান।

উদ্দীপকের মেঘনাদ একজন দেশপ্রেমিক চরিত্র। মেঘনাদের মাঝে সীমাহীন দেশপ্রেম ও অসাধারণ বীরত্ব থাকার পরও তাকে করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়। গৃহশত্রু বিভীষণের কারণেই তাকে পরাজয়বরণ করতে হয়। বিশ্বাসঘাতকতার কারণে মেঘনাদের করুণ পরিণতি মধ্য দিয়ে আর্য শক্তির বিজয় সূচিত হয়। ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকেও আমরা দেশপ্রেমিক সিরাজের দেশপ্রেমের প্রকাশ দেখতে পাই। অন্যায়কে তিনি প্রশ্রয় দেননি। যুদ্ধে পরাজিত হয়েও পুনরায় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে চেয়েছেন প্রচণ্ড দেশপ্রেম থেকে। কিন্তু আপনজনদের বিশ্বাসঘাতকতায় তাঁর জীবনে নেমে আসে মেঘনাদের মতো করুণ পরিণতি । আর উদ্দীপকে নাটকের এই দিকটিই ফুটে উঠেছে।

সারকথা : উদ্দীপকে মেঘনাদ দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে যুদ্ধে যায়, কিন্তু গৃহশত্রু বিভীষণ বিশ্বাসঘাতকতা করায় তাকে করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়। ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের দেশপ্রেমিক নবাব সিরাজউদ্দৌলাও আপনজনদের বিশ্বাসঘাতকতায় করুণ পরিণতির শিকার হন। আলোচ্য নাটকের এই দিকটিই উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

ঘ উচ্চতর দক্ষতা

“উদ্দীপকের মেঘনাদ এবং ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সিরাজ চরিত্র দেশপ্রেমের এক অনুপম প্রতীক।”— মন্তব্যটি যথার্থ । একজন যথার্থ দেশপ্রেমিক দেশের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন সবসময়। দেশের সংকটময় মুহূর্তে তিনি বীরদর্পে এগিয়ে আসেন। দেশ ও দেশের মানুষের মঙ্গল কামনায় তিনি নিজের জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকেন।

উদ্দীপকের মেঘনাদের মাঝে দেশপ্রেমের অসাধারণ প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তার মাঝে ছিল সীমাহীন দেশপ্রেম ও অসাধারণ বীরত্ব। কিন্তু গৃহশত্রু বিভীষণের কারণে তাকে করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়। বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতায় দেশপ্রেমিক মেঘনাদের পরাজয় হয়। ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকেও নবাব সিরাজউদ্দৌলার মাঝে দেশপ্রেম পরিলক্ষিত হয়। বাংলার মানুষের অসহায়ত্বে তাঁর হৃদয় ব্যথিত হয়েছে বারবার।

ইংরেজদের বাণিজ্যের নামে এদেশের জনগণের ওপর জুলুম-অত্যাচার তিনি সহ্য করেননি। প্রতিবাদ করেছেন ইংরেজদের নির্মম অত্যাচারের। দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন। বিশ্বাসঘাতকদের হাতে নিজের জীবন পর্যন্ত দিয়েছেন দেশপ্রেমিক নবাব। ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং উদ্দীপকের মেঘনাদ উভয়ের মাঝেই দেশপ্রেমের প্রতিফলন ঘটেছে। দুজনই নিজের জীবন দিয়ে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে চেয়েছেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, উদ্দীপকের মেঘনাদ এবং ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সিরাজ চরিত্র দেশপ্রেমের এক অনুপম প্রতীক।

সারকথা : উদ্দীপকের মেঘনাদ এবং ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলা উভয়ের মাঝেই দেশপ্রেমের অনবদ্য প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

সিলেট বোর্ড ২০১৯

জবেদা খাতুনের খুব কাছের লোক ছিল মোখলেছার রহমান। জবেদা খাতুন বিশ্বাস করে তার জমিজমা দেখাশুনার ভার দেন মোখলেছার রহমানকে। কিন্তু একদিন জবেদা খাতুন দেখেন তার সম্পত্তি মোখলেছার রহমানের নামে হয়ে আছে। তিনি ভাবলেন এতদিন ভুল মানুষকে বিশ্বাস করেছেন। বিশ্বাস করা ভালো কিন্তু অন্ধবিশ্বাস কখনো কখনো মানুষকে পথে বসিয়ে দেয়।
ক. সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রীর নাম কী?
খ. “রজার ড্রেক প্রাণভয়ে কুকুরের মতো ল্যাজ গুটিয়ে পালিয়েছে” – ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের মোখলেছার যেন ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মিরজাফরকে ইঙ্গিত করে। – ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “বিশ্বাস করা ভালো কিন্তু অন্ধবিশ্বাস মানুষকে কখনো কখনো পথে বসিয়ে দেয়।” – সিরাজউদ্দৌলা নাটকের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

ক জ্ঞান

সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রীর নাম লুৎফুন্নেসা।

খ অনুধাবন

“রজার ড্রেক প্রাণভয়ে কুকুরের মতো ল্যাজ গুটিয়ে পালিয়েছে”- উক্তিটি নবাব সিরাজউদ্দৌলা করেছিলেন।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজরা নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে জেনে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ আক্রমণ করেন। এ আক্রমণে ইংরেজ সৈন্যরা পরাজিত হয় এবং গভর্নর রজার ড্রেক, ক্যাপ্টেন ক্লেটনসহ অনেক ইংরেজ পালিয়ে যায়।

যুদ্ধের নিয়ম অনুসারে হলওয়েল ও বাকি ইংরেজ সৈন্যরা সাদা নিশান উড়িয়ে আত্মসমর্পণ করে। হলওয়েলের কাছে নবাব সিরাজউদ্দৌলা গভর্নর রজার ড্রেক কোথায় তা জানতে চাইলে, হলওয়েল উত্তর দেয় তিনি কলকাতার বাইরে গেছেন। আসলে হলওয়েল নবাবের আক্রমণে প্রাণভয়ে পালিয়েছিল।

সারকথা : প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা নবাব সিরাজউদ্দৌলা বোঝাতে চেয়েছেন যে, গভর্নর রজার ড্রেক প্রবল আক্রমণে টিকতে না পেরে প্রাণভয়ে পালিয়েছে। হলওয়েলে তথ্যমতে তিনি কলকাতার বাইরে গেছেন একথা সত্য নয়।

গ প্রয়োগ

বিশ্বাসঘাতকতার দিক থেকে উদ্দীপকের মোখলেছার ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মিরজাফরকে ইঙ্গিত করে। বিশ্বাসঘাতকদের কাছে বিশ্বাস-ভরসার কোনো মূল্য থাকে না। তারা নিজেদের স্বার্থের জন্য যেকোনো অন্যায় কাজ করতে পারে। তারা অবলীলায় অন্যায় কাজে লিপ্ত হয় এবং অন্যের ক্ষতি করে।

উদ্দীপকের মোখলেছার জবেদা খাতুনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। জবেদা মোখলেছারকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে জমিজমা দেখাশোনার দায়িত্ব দেন। কিন্তু এই অন্ধ বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মোখলেছার সমস্ত সম্পত্তি নিজের নামে করে নেয়। এমন বিশ্বাসঘাতকের কারণেই মানুষকে পথে নামতে হয়। “সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মিরজাফরও নবাবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। ইংরেজদের প্রলোভনে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় মিরজাফর নীতি-নৈতিকতাহীন উন্মাদে পরিণত হয়।

মিরজাফরের প্রতি নবাবের অগাধ বিশ্বাস থাকার পরও সে বিশ্বাসঘাতকতার পথ থেকে সরে দাঁড়ায়নি। আর এদিক থেকেই উদ্দীপকের মোখলেছার ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মিরজাফরকে ইঙ্গিত করে।

সারকথা : ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মিরজাফর নবাবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। উদ্দীপকের মোখলেছারও জবেদা খাতুনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করায় সে যেন আলোচ্য নাটকের মিরজাফরকেই ইঙ্গিত করে।

ঘ) উচ্চতর দক্ষতা

“বিশ্বাস করা ভালো কিন্তু অন্ধবিশ্বাস মানুষকে কখনো কখনো পথে বসিয়ে দেয়।”— মন্তব্যটি যথার্থ। স্বার্থান্ধ মানুষের কাছে আত্মস্বার্থের চেয়ে বড় আর কিছুই নেই। স্বার্থের জন্য তারা অন্যের জন্য ক্ষতিকর এমন সবকিছুই করতে পারে। এমন স্বার্থপর মানুষকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না।

● উদ্দীপকের জবেদা খাতুন মোখলেছারকে অন্ধবিশ্বাস করেছিলেন। এই অন্ধবিশ্বাসের সুযোগে বিশ্বাসঘাতক মোখলেছার জবেদা খাতুনের সমস্ত সম্পত্তি নিজের নামে করে নেয়।

জবেদা খাতুন বুঝতে পারেন ভুল মানুষকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করার কারণে মানুষকে কখনো কখনো পথে বসতে হয়। “সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলাও মিরজাফরের মতো ভুল মানুষকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করেছিলেন। এই অন্ধবিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মিরজাফর ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এর ফলে নবাব ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরাজিত হন। পরে তাঁকে মৃত্যুর করুণ পরিণতির সম্মুখীন হতে হয়।

স্বার্থান্ধ বিশ্বাসঘাতকেরা নবাবের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করে। উদ্দীপকেও দেখা যায়, জবেদা খাতুনের অন্ধবিশ্বাস কীভাবে মানুষকে পথে বসিয়ে দেয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, “বিশ্বাস করা ভালো কিন্তু

অন্ধবিশ্বাস মানুষকে কখনো কখনো পথে বসিয়ে দেয়।” সুতরাং মন্তব্যটি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের আলোকে যথার্থ। সারকথা : নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিশ্বাসের সুযোগে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের বিশ্বাসঘাতকেরা নবাবের ক্ষতিসাধন করে। তাঁকে সিংহাসনচ্যুত করে করুণ পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়। উদ্দীপকের জবেদা খাতুনকেও ভুল মানুষকে অন্ধবিশ্বাস করার কারণে পথে বসতে হয়। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র)

বরিশাল বোর্ড ২০১৯

হোসেন মিয়া বিশাল সম্পত্তির অধিকারী। তার চার ছেলে সবাই অধিকারী । হোসেন মিয়া সবকিছু বুঝতে পারলেও সন্তান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্বার্থের জন্য কৌশলী মনোভাবের তাদেরকে বারবার ক্ষমা করে দেন। তার এই অপরিসীম কোমল মনোভাবের কারণে এক সময় ছেলেরা গোপনে পুরো সম্পত্তি অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয় এবং শেষ পরিণতিতে হোসেন মিয়া রাস্তায় নেমে আসেন।

ক. ‘মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন সেনাপতি’ এখানে সেনাপতির নাম কী?
খ. ‘আমার শেষ যুদ্ধ পলাশিতেই’ – উক্তিটি কে, কখন এবং কাকে করেছিলেন? ব্যাখ্যা কর।য
গ. উদ্দীপকের হোসেন মিয়ার অপরিসীম মহানুভবতা ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মূল কারণ।- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।
ঘ. “সবাই মিলে সত্যিই আমরা বাংলাকে বিক্রি করে দিচ্ছি না তো?”— বক্তব্যটি উদ্দীপক ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

ক) ‘মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন সেনাপতি’— এখানে সেনাপতির নাম মোহনলাল।

খ) ‘আমার শেষ যুদ্ধ পলাশিতেই’— উক্তিটি মোহনলাল পলাশির যুদ্ধে পরাজয়ের পর পুনরায় যুদ্ধে যাওয়ার সময় নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে করেছিলেন।

প্রয়োগ

উদ্দীপকের হোসেন মিয়ার অপরিসীম মহানুভবতা ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মূল কারণ।— মন্তব্যটি যথার্থ ।

মানুষ মানুষকে বিশ্বাস করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অন্ধবিশ্বাস অনেক সময় মানুষের বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই মানুষকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে, তবে বিশ্বাসঘাতকদের প্রতি অন্ধবিশ্বাস কখনই কাম্য নয়।

• উদ্দীপকের বিশাল সম্পত্তির অধিকারী হোসেন মিয়া মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। স্বার্থান্বেষী ছেলেদের কৌশলী মনোভাব টের পেয়েও হোসেন মিয়া তাদের বারবার ক্ষমা করে দেন। এই অপরিসীম কোমল মনোভাবের সুযোগে ছেলেরা পুরো সম্পত্তি অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়ে হোসেন মিয়াকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করে। ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলাও বিশ্বাসঘাতক মিরজাফর ও তার অনুসারীদের ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরেও ক্ষমা করে দিয়েছেন। নবাবের ঔদার্যে তাদের ষড়যন্ত্র গভীর থেকে গভীরতর হয়। যার ফলে

ইংরেজদের বিরুদ্ধে পলাশির যুদ্ধে নবাবের করুণ পরাজয় ঘটে। উদ্দীপকের হোসেন মিয়াও নবাব সিরাজউদ্দৌলার মতো অপরিসীম মহানুভবতা প্রদর্শন করায় বলা যায়, এই অপরিসীম মহানুভবতাই আলোচ্য নাটকের সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মূল কারণ।

মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে পলাশিতে সিরাজের শিবিরে একের পর এক সেনাপতির মৃত্যুসংবাদ আসতে থাকে।

পলাশিতে নবাবের পরাজয় হয়েছে, সেনাপতি মোহনলাল এ খবর নিয়ে আসেন। মোহনলাল নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজয়ের গ্লানি এবং আত্মঅভিমান ভুলে অবিলম্বে রাজধানীতে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন। নবাবের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিজের শেষ যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে প্রতিশোধপরায়ণ সাহসী বীর মোহনলাল নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যান। আর তখনই মোহনলাল নবাবের উদ্দেশ্যে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিলেন।

সারকথা : পলাশির যুদ্ধে নিজেদের পরাজয় হয়েছে, একথা জানার পর বীর সেনাপতি মোহনলাল নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করতেই নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিলেন ইংরেজদের সঙ্গে গোপন চুক্তির এক পর্যায়ে তার মনে হয়েছিল বাংলাকে তারা নিজেদের স্বার্থে ইংরেজদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে কিনা। উদ্দীপকের হোসেন মিয়ার ছেলেদের মাঝেও আপন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এমন কৌশলী মনোভাবের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তারা গোপনে বাবার সম্পত্তি অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয় এবং শেষ পরিণতিতে হোসেন মিয়া রাস্তায় নামতে বাধ্য হন ।

সারকথা : উদ্দীপকের হোসেন মিয়া অপরিসীম মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের নবাবের মাঝেও এমন মনোভাব পরিলক্ষিত হয়েছে যা ছিল সিরাজউদ্দৌলার পর জয়ের মূল কারণ।

ঘ) উচ্চতর দক্ষতা

“সবাই মিলে সত্যিই আমরা বাংলাকে বিক্রি করে দিচ্ছি না তো?”– বক্তব্যটি উদ্দীপক ও সিরাজউদ্দৌলা নাটকের আলোকে যথার্থ। স্বার্থান্ধ মানুষের হিতাহিত বোধ বলে কিছুই থাকে না। তাদের কাছে নিজেদের স্বার্থটাই বড় হয়ে ওঠে। নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তারা দেশমাতৃকার সঙ্গে সওদা করতেও কুণ্ঠিত হয় না।

‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মূল উপজীব্য হিসেবে যেমন দেশপ্রেমের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে তেমনই দেশদ্রোহিতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। বিশ্বাসঘাতক, স্বার্থপর মিরজাফর ও তার অনুসারীরা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ইংরেজদের সঙ্গে হাত মেলায় এবং গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় মিরজাফর নীতি-নৈতিকতাহীন এক উন্মাদে পরিণত হয়।

উদ্দীপকের হোসেন মিয়ার ছেলেরা অন্যের কাছে গোপনে বাবার সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকেও মিরজাফর ও তার অনুসারীরা নিজেদের স্বার্থে ইংরেজদের সঙ্গে গোপন চুক্তি স্বাক্ষর করে। যা ছিল নিজেদের দেশকে অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার শামিল। তাই উদ্দীপক ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের আলোকে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি যথার্থ।

সারকথা : “সবাই মিলে সত্যিই আমরা বাংলাকে বিক্রি করে দিচ্ছি না তো?”- বক্তব্যটি উদ্দীপক ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের আলোকে যথার্থ। কারণ উদ্দীপকে যেমন হোসেন মিয়ার ছেলেরা গোপনে বাবার সম্পত্তি অন্যের কাছে বিক্রি করেছে, ঠিক তেমনই ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকেও মিরজাফর ও তার অনুসারীরা ইংরেজদের সঙ্গে গোপন চুক্তি করে বাংলাকে বিক্রি করে দিয়েছে।

এই সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (এইচএসসি বাংলা ১মপত্র) ছাড়াও আরো পড়ুন