হাইড্রা সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর |প্রাণীর পরিচিতি | হাইড্রা বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় সাজেশন

হাইড্রা সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর |প্রাণীর পরিচিতি | হাইড্রা বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বশেষ বোর্ডে আশা গুরুত্বপূর্ণ ও কমন উপযোগী সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি।

Hydra CQ Question and Answer

অনুশীলন প্রশ্ন ১

১। নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলাের উত্তর দাও:
হাইড্রা স্বাদু পানির দ্বিস্তরী আণুবীক্ষণিক জীব ।গ্যাসস্ট্রোডার্মিসে পরিবৃত কেন্দ্রীয় গহ্বরকে সিলেন্টেরন বলে ।
cu 19
ক) হাইপোস্টোম কি?
খ) হাইড্রায় পরিনিষেক ঘটে কেন?
গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি কীভাবে আত্মরক্ষা করে বর্ণনা কর।
ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত গহ্বরেই কি পরিপাক ক্রিয়া শেষ হয়? আলােচনা কর।

) হাইপোস্টোম হলো Hydra এর দেহের মুক্তপ্রান্তে অবস্থিত মোচাকৃতি, ছোট ও সংকোচন প্রসারণশীল অংশ।

খ) হাইড্রা একটি উভয়লিঙ্গ প্রাণী। এদের নিষেক হয় না, কারণ এদের শুক্রাশয় এবং ডিম্বাশয় পৃথক পৃথক সময়ে পরিপক্ক হয়। তাই হাইড্রার পরনিষেক ঘটে।

গ নং প্রশ্নের উত্তর

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো হাইড্রা। হাইড্রা নিডোব্লাস্ট কোষ থেকে নেমাটোসিস্ট নিক্ষেপণের মাধ্যমে আত্মরক্ষা করে। নিচে হাইড্রার আত্মরক্ষার কৌশল অর্থাৎ নেমাটোসিস্ট ‘নিক্ষিপ্ত হওয়ার কৌশল বর্ণনা করা হলো-

খাদ্য, শিকার বা শত্রু দ্বারা উদ্দীপ্ত হলে হাইড্রার নেমাটোসিস্ট দেহের বাইরে নিক্ষিপ্ত হয়। নিডোব্লাস্ট কোষ থেকে নেমাটোসিস্ট নিক্ষিপ্ত হওয়ার জন্য রাসায়নিক ও যান্ত্রিক উভয় ধরনের ফ্যাক্টরই জড়িত।কোনো শিকার হাইড্রার কর্ষিকার নিকটবর্তী হলে শিকার দেহের রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে নেমাটোসিস্ট প্রাচীরের পানি ভেদ্যতা ক্ষমতা বেড়ে যায়। এতে থলির ভেতর দ্রুত পানি প্রবেশ করায় ভেতরের অভিস্রবনিক চাপ বেড়ে যায়। এ সময় শিকার নিডোব্লাস্টের নিডোসিল স্পর্শ করা মাত্র উহার অপারকুলাম খুলে যায় এবং সূত্রকসহ নৈমাটোসিস্ট নিক্ষেপণের মাধ্যমে হাইড্রা আত্মরক্ষা করে।

ঘ নং প্রশ্নের উত্তর

ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত গহ্বরটি হলো সিলেন্টেরন। সিলেন্টেরনেই পরিপাক ক্রিয়া শেষ হয়। নিচে বিষয়টি আলোচনা করা হলো-
হাইড্রায় খাদ্যের বহিঃকোষীয় পরিপাক ঘটে এবং খাদ্যসার শ্বসন ও রেচন পদার্থ পরিবাহিত হয় বলে একে পরিপাক সংবহন গহ্বর বলা হয়। হাইড্রার বহিঃকোষীয় পরিপাকের ক্ষেত্রে, দেহপ্রাচীরের সঙ্কোচন প্রসারণ ক্রিয়ায় খাদ্যবস্তু চূর্ণ বিচূর্ণ করে। এসময় ফ্ল্যাজেলার সঞ্চালন দ্বারা খাদ্যবস্তু, পানি ও এনজাইম, একত্রে মিশ্রিত হয়।

ট্রিপসিন সদৃশ্য এক ধরনের এনজাইম প্রোটিনকে পলিপেপটাইডে পরিণত করে। এ অবস্থায় খাদ্যবস্তু ঘন স্যুপে পরিণত হয়। হাইড্রা ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে অন্তঃকোষীয় পরিপাক সম্পন্ন করে। পরিপাককৃত খাদ্যসার ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন কোষে পরিবাহিত করে। খাদ্যের অপরিপাককৃত অংশ মুখছিদ্র দিয়ে দেহের বাইরে নিক্ষিপ্ত করে। দেহের উপরিভাগে অবস্থিত একটি মাত্র ছিদ্র (মুখছিদ্র) দ্বারা হাইড্রা খাদ্যগ্রহণ ও বর্জ্য পরিত্যাগ করে। তাই সিলেন্টেরনকে ব্লাইন্ড গাটও বলা হয়।।

উপরিউক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, সিলেন্টেরনেই হাইড্রার পরিপাক ক্রিয়া শেষ হয়।

হাইড্রা সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর |প্রাণীর পরিচিতি | হাইড্রা বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় সাজেশন

অনুশীলন প্রশ্ন ২

২. নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলাের উত্তর দাও:
দ্বিস্তরী প্রাণিদের দেহে বিশেষ এক ধরনের কোষ থাকে যার অভ্যন্তরে প্যাচানাে সুতাযুক্ত থলের ন্যায় একটি অঙ্গাণু থাকে এবং প্রাণীদের অভ্যন্তরে ভিন্ন প্রজাতিভুক্ত এক ধরনের সবুজ জীব ঘনিষ্ঠভাবে সহাবস্থান করে । dh 19
ক) মেসোগ্লিয়া কি?
খ) ভেনাস হার্ট বলতে কি বুঝ?
গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গাণুর প্রকারভেদ বর্ণনা কর।
ঘ) উদ্দীপকের জীব দুটির পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।

ক) Cnidaria পর্বের প্রাণীদের এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিসের মাঝখানে জেলির মতো আঠালো, স্থিতিস্থাপক, পাতলা, বর্ণহীন, অকোষীয় স্তরটির নাম মেসোগ্লিয়া।

খ ) রুই মাছের হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে CO2-সমৃদ্ধ রক্ত পেছন থেকে সামনের দিকে একমুখী প্রবাহিত হয়। CO2 সমৃদ্ধ রক্ত বাহিত হয় বলে এ হৃৎপিণ্ডকে ভেনাস হার্ট বা শিরা হৃৎপিণ্ড বলে। হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত এর মধ্য দিয়ে বাহিত হয়।

গ নং প্রশ্নের উত্তর

গ) উদ্দীপকের উল্লেখিত অঙ্গাণুটি হলো Hydra-র নেমাটোসিস্ট। নিচে Hydra-র নেমাটোসিস্টের প্রকারভেদ বর্ণনা দেওয়া হলো-
১. স্টিনোটিল : হাইড্রার চার ধরনের নেমাটোসিস্টের মধ্যে এগুলোই বৃহত্তম। এদের সূত্রক লম্বা, ফাঁপা, শীর্ষ উন্মুক্ত, বাট প্রশস্ত এবং তিনটি বড় তীক্ষ্ণ বার্ব ও তিন সারি সর্পিলাকারে সজ্জিত অতি ক্ষুদ্র বার্বিউল যুক্ত । এর ভেতরে হিপনোটক্সিন নামক বিষাক্ত তরল থাকে।
২. ভলভেন্ট : এগুলো অপেক্ষাকৃত ছোট কিন্তু সূত্রকটি খাটো, মোটা,স্থিতিস্থাপক, কাঁটাবিহীন এবং বন্ধ শীর্ষযুক্ত।
৩. স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্ট : এর সূত্রক লম্বা, দেহ সর্পিলাকারে সজ্জিত কাঁটাযুক্ত, বাট সুগঠিত নয় এবং শীর্ষদেশ উন্মুক্ত।
৪. স্ট্রেরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট : এগুলো ক্ষুদ্রতম নেমাটোসিস্ট, সূত্রক লম্বা,অসংখ্য ও অতি ক্ষুদ্র কাঁটাযুক্ত, বাট সুগঠিত নয় এবং শীর্ষদেশ উন্মুক্ত।

ঘ নং প্রশ্নের উত্তর

ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিস্তরী প্রাণীটি হলো হাইড্রা এবং এর অভ্যন্তরে সহাবস্থানকারী সবুজ জীবটি হলো Zoochiorella শৈবাল। জীব দুটির এ ধরনের পারস্পরিক সম্পর্ক হলো মিথোজীবিতা। নিচে মিথোজীবিতার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো-
পারস্পরিক সহযোগিতা দ্বিস্তরী প্রাণী হাইড্রা ও Zoochlorella নামক সবুজ শৈবালের মিথোজীবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। মিথোজীবিতা হলো এমন বিশেষ ধরনের সহাবস্থান যেখানে ভিন্ন প্রজাতির দুটি জীবের উভয়ে উভয়ের নিকট থেকে উপকৃত হয়। হাইড্রা ও Zoochlorella নামক শৈবাল নিম্নোক্তভাবে পরস্পরের কাছ থেকে উপকৃত হয়-

শৈবালের প্রাপ্ত উপকার :

১. শৈবাল হাইড্রার গ্যাস্ট্রোডার্মাল (অন্তঃকোষীয়) পেশি-আবরণী কোষে আশ্রয় পায়।
২. হাইড্রার শ্বসনে সৃষ্ট CO2-কে সালোকসংশ্লেষণের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে।
৩. হাইড্রার বিপাকীয় কাজে উদ্ভূত নাইট্রোজেনজাত বর্জ্য পদার্থকে আমিষ তৈরির বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে।

Hydra-র প্রাপ্ত উপকার-
১. সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শৈবাল যে খাদ্য প্রস্তুত করে তার উদ্বৃত্ত অংশ গ্রহণ করে হাইড্রা শর্করা জাতীয় খাদ্যের অভাব পূরণ করে।
২।
সালোকসংশ্লেষণকালে শৈবাল যে O2 নির্গত করে হাইড্রা তা শ্বসনে ব্যবহার করে।
৩. হাইড্রার শ্বসনে সৃষ্ট CO2 শৈবাল গ্রহণ করে প্রাণীকে ঝামেলামুক্ত করে।
৪. হাইড্রার বিপাকে সৃষ্ট N2-ঘটিত বর্জ্য শৈবাল কর্তৃক গৃহীত হওয়ায় হাইড্রা সহজেই বর্জ্য পদার্থ মুক্ত হয়।
উপরের আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট হয়, হাইড্রা ও শৈবালের পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাইড্রা সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর |প্রাণীর পরিচিতি | হাইড্রা বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় সাজেশন

অনুশীলন প্রশ্ন ৩

গ্রিক পুরাণে বর্ণিত দৈত্যের নামে পরিচিত একটি প্রাণী যা ধীরগতি সম্পন্ন চলন প্রদর্শন করে। RH 19 syl19

ক. হাইপোস্টোম কাকে বলে?
খ. নেমাটোসিস্ট কী?
গ) উদ্দীপকের প্রাণীটির উল্লিখিত চলন পদ্ধতি সচিত্র ব্যাখ্যা কর ।
ঘ) জীবন পরিচালনায় উল্লিখিত প্রাণীটি কোষ পর্যায়ে কাজ বন্টন করে বিশ্লেষণ কর।

ক) Hydra এর দেহের মুক্তপ্রান্তে অবস্থিত মোচাকৃতি, ছোট ওসংকোচন প্রসারণশীল অংশকে হাইপোস্টোম বলে।

খ) নিডোব্লাস্ট কোষের স্ফীত মধ্যাংশে তরল পদার্থপূর্ণ এবং প্যাঁচানো সূত্রক সমন্বিত ক্ষুদ্র থলিকে নেমাটোসিস্ট বা নিডা বলে। এর প্রাচীর অজীর কাইটিন নির্মিত। নেমাটোসিস্টের ভেতরের তরলের নাম হিপনোটক্সিন। এটি বিষাক্ত প্রকৃতির এবং রাসায়নিকভাবে প্রোটিন ও ফেনল সমন্বয়ে গঠিত।

গ নং প্রশ্নের উত্তর

গ) উদ্দীপকের উল্লিখিত প্রাণীটি হলো হাইড্রা এবং উল্লিখিত চলন প্রক্রিয়াটি হলো হামাগুড়ি বা লুপিং চলন প্রক্রিয়া। নিচে হাইড্রার হামাগুড়ি চলন পদ্ধতি চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো-
হামাগুড়ি চলন প্রক্রিয়ায় Hydra প্রথমে কর্ষিকার উপরে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। অতঃপর গমন পথের দিকে দেহকে যতটা সম্ভব বাঁকিয়ে দেয় এবং কর্ষিকা দ্বারা চলন তলকে স্পর্শ করে। এ সময় কর্ষিকার গ্লুটিন্যান্ট নেমাটোসিস্ট চলন তল আঁকড়ে ধরতে সাহায্য করে।

হাইড্রা <a href=

এ পর্যায়ে সে পেশি আবরণী কোষের সংকোচন দ্বারা পাদচাকতিকে টেনে কর্ষিকার বা মুখের কাছে নিয়ে আসে। এভাবে একটি লুপ তৈরি হয়। এরপর আবার কর্ষিকাগুলোকে তল হতে মুক্ত করে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। একই পদ্ধতি বারবার অনুসরণ করে Hydra ধীরগতিতে হামাগুড়ি চলন সম্পন্ন করে। সাধারণত অধিক দূরত্ব অতিক্রম করার সময় Hydra হামাগুড়ি চলন পদ্ধতি অনুসরণ করে।

ঘ নং প্রশ্নের উত্তর

ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো হাইড্রা হাইড্রা কোষ পর্যায়ে কাজ বণ্টন করে। নিচে হাইড্রার বিভিন্ন কোষ পর্যায়ের কাজ আলোচনা করা হলো-

১. পেশি আবরণী কোষ : দেহের সাধারণ আবরণ তৈরি করে এবং সংকোচন প্রসারণের মাধ্যমে চলন, শিকার ধরা ইত্যাদি কাজে অংশ গ্রহণ করে।
২. নিডোব্লাস্ট কোষ : শিকার ধরা, চলন ও আত্মরক্ষার কাজ সম্পাদন করে।
৩. ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ: মুকুল ও জননাঙ্গ সৃষ্টি এবং দেহের প্রয়োজনে সব ধরনের কোষ সৃষ্টি করে।৪. সংবেদী ও স্নায়ুকোষ : পরিবেশ হতে সংবেদন গ্রহণ এবং উদ্দীপনা দ্বারা প্রতিবেদন সৃষ্টি করে।
৫. পুষ্টিকোষ : বহিঃকোষীয় এবং অন্তঃকোষীয় পরিপাক সম্পন্ন করে।
৬. গ্রন্থিকোষ: পরিপাক এনজাইম এবং আঠালো পদার্থ ক্ষরণ করে।
৭. জনন কোষ : জননে অংশ নিয়ে বংশ রক্ষা করে।
অতএব বলা যায় যে, হাইড্রা কোষ পর্যায়ে কাজ বণ্টন করে শরীরবৃত্তীয় কার্যাবলি সম্পাদন করে।

হাইড্রা সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর |প্রাণীর পরিচিতি | হাইড্রা বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় সাজেশন

অনুশীলন প্রশ্ন ৪

জীববিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকে এমন একটি প্রাণী আছে যার কতকগুলো লম্বা-ফাঁপা সুতার মতো সূত্রক আছে যা খাদ্য গ্রহণ, আত্মরক্ষা ও চলনে সহায়তা করে। এ ছাড়াও প্রাণীটিতে সুস্পষ্ট ভ্রূণীয় পরিস্ফুটন প্রক্রিয়া বিদ্যমান।BS 19

ক. উওটিড কী?
খ. মেসোগ্লিয়া বলতে কী বুঝায়?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি যে পদ্ধতিতে দ্রুত চলন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি শিশু প্রাণীর পুনরুৎপত্তির সহায়ক – বিশ্লেষণ কর।

ক) উওটিড হলো ডিম্বাণু সৃষ্টির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় মিয়োসিস বিভাজনেরফলে সৃষ্ট কোষ। উওটিড রূপান্তরিত হয়ে ওভাম বা ডিম্বাণুর সৃষ্টি করে।

খ) হাইড্রার দেহপ্রাচীরের এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিসের মাঝে স্যান্ডউইচের মতো অবস্থিত প্রায় 0.। মাইক্রোমিটার পুরুত্ব বিশিষ্ট, স্বচ্ছ, স্থিতিস্থাপক ও জেলির ন্যায় আঠালো পদার্থকে মেসোগ্লিয়া বলে। মেসোগ্লিয়া প্রোটিন নির্মিত ধাতু বা ম্যাট্রিক্স পদার্থ।

গ নং প্রশ্নের উত্তর

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো হাইড্রা। হাইড্রা সমারসন্টিং রা ডিগবাজী চলন প্রক্রিয়ায় দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। নিচে হাইড্রার সমারসল্টিং বা ডিগবাজী প্রক্রিয়া আলোচনা করা হলো-
সমারসল্টিং বা ডিগবাজী Hydra-এর সাধারণ ও দ্রুত চলন প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার শুরুতে Hydra দেহকে বাঁকিয়ে চলনের গতিপথে কর্ষিকায় অবস্থিত গ্লুটিন্যান্ট জাতীয় নেমাটোসিস্টের সাহায্যে গতিপথকে স্পর্শ করে। এ সময় গন্তব্যস্থলের দিকের পেশি আবরণী কোষের সংকোচন ও অপর পাশের অনুরূপ কোষের সম্প্রসারণ ঘটে। পরে পদতল বিযুক্ত করে কর্ষিকার উপর ভর দিয়ে দেহকে সোজা করে দেয়। পুনরায় দেহকে বাঁকিয়ে পদতলের সাহায্যে গতিপথকে স্পর্শ করে। পরে কর্ষিকা মুক্ত করে দেহকে সোজা করে দেয়। এ প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে Hydra দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

গ নং প্রশ্নের উত্তর

ঘ) উদ্দীপকে পাঠ্যপুস্তকে আলোচিত প্রাণী হাইড্রা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। যেসব ক্রম পরিবর্তনের মাধ্যমে জাইগোট থেকে শিশু প্রাণীর উৎপত্তি ঘটে তাকে পরিস্ফুটন বলে। জাইগোট নানা ধরনের পরিস্ফুটন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ Hydra-য় পরিণত হয়। হাইড্রার পরিস্ফুটনকালে নিম্নোক্ত পর্যায়সমূহ দেখা যায়। যথা-

১. মরুলা : জাইগোট পুনঃপুন বিভাজিত হয়ে গৈালাকার পিণ্ডে পরিণত হয়। একে মরুলা বলে।
২. ব্লাস্টুলা : শীঘ্রই মরুলার কোষগুলো একস্তরে সজ্জিত হয়ে একটি ফাঁপা, গোলাকার ভ্রুণে পরিণত হয়। এর নাম ব্লাস্টুলা। ব্লাস্টুলার কোষগুলোকে ব্লাস্টোমিয়ার এবং কেন্দ্রে ফাঁকা গহ্বরকে ব্লাস্টোসিল বলা হয়।
৩. গ্যাস্টুলা : ব্লাস্টুলা গ্যাস্টুলেশন পদ্ধতিতে দ্বিস্তরবিশিষ্ট গ্যাস্টুলায় পরিণত হয়। এটি এক্টোডার্ম, এন্ডোডার্ম ও আদি সিলেন্টেরন নিয়ে গঠিত।

মাতৃদেহের সাথে সংযুক্ত এ গ্যাস্ট্রলাকে স্টেরিওগ্যাস্ট্রলা
বলে। গ্যাস্ট্রলার চারদিকে একটি কাইটিন নির্মিত কন্টকময় সিস্ট আবরণী গঠিত হয়। সিস্টবদ্ধ ভ্রুণটি মাতৃহাইড্রা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জলাশয়ের তলদেশে চলে যায়।৪. হাইডুলা : বসন্তের শুরুতে অনুকূল তাপমাত্রায় সিস্টের মধ্যেই ভ্রুণটি ক্রমশ লম্বা হতে থাকে এবং এর অগ্রপ্রান্তে হাইপোস্টোম, মুখছিদ্র ও‘কর্ষিকা এবং পশ্চাৎপ্রান্তে পাদ-চাকতি গঠিত হয়। ভ্রূণের এই দশাকে হাইড্রলা বলে। হাইড্রলা সিস্টের আবরণী বিদীর্ণ করে পানিতে বের হয়ে আসে এবং স্বাধীন জীবন যাপন শুরু করে । সুতরাং উল্লিখিত পর্যায়সমূহ সম্পূর্ণ করার মাধ্যমে শিশু হাইড্রার পুনরুৎপত্তি ঘটে এবং স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে থাকে।

এই হাইড্রা সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর |প্রাণীর পরিচিতি | হাইড্রা বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর | HSC | ২য় অধ্যায় সাজেশন ছাড়াও আরো জানতে ক্লিকঃ

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply