Hydra-র শ্বসন (Respiration ) / Hydra-র স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System of Hydra)

Hydra-র শ্বসন (Respiration )

Hydra-র শ্বসন (Respiration )

এই Hydra-র নির্দিষ্ট কোন শ্বসন অঙ্গ নেই । তবে নিচে বর্ণিত দুই উপায়ে গ্যাসীয় বিনিময় সংঘটিত হয়-

১. এপিডার্মিসের মাধ্যমে : চারপাশের পানি থেকে দ্রবীভূত অক্সিজেন সমগ্র বহিঃদেহতলের এপিডার্মাল কোষের মাধ্যমে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে । শ্বসন শেষে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি একইভাবে বহির্গত হয় ।

আরো পড়ুনঃ

২. গ্যাস্ট্রোমিসের মাধ্যমে : গ্যাস্ট্রোডার্মিসের ফ্ল্যাজেলীয় কোষের ফ্ল্যাজেলার আন্দোলনের ফলে মুখছিদ্র পথে সৃষ্ট অবিরাম পানি প্রবাহের জন্য গ্যাস্ট্রোডার্মিস সব সময়ই পানির সংস্পর্শে থাকে । তখন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পানি ও গ্যাস্ট্রোডার্মাল কোষে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে । কোষে উৎপন্ন কার্বন ডাইঅক্সাইড পানির সাথে নির্দিষ্ট সময়ে বহির্গত হয় ।

Hydra-র রেচন (Excretion)

এখানে Hydra-র নির্দিষ্ট কোন রেচন অঙ্গ নেই । কোষ বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ বর্জ্যপদার্থ (প্রধানতঃ অ্যামোনিয়া) ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোষ থেকে চারপাশের পানিতে মুক্ত হয় ।

Hydra-র উত্তেজিতা (Irritability)

তরিৎ উত্তেজিতা প্রকাশ করা প্রাণিদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য । নিচে বর্ণিত ঘটনাবলি থেকে Hydra-র উত্তেজিতা সুস্পষ্ট পরিলক্ষিত হয় ।

১. স্পর্শ : ভাসমান Hydra যখন কোনো অবলম্বন, যেমন-পাতা, জলজ উদ্ভিদ, অগভীর জলাশয়ের তলদেশ প্রভৃতির সংস্পর্শে আসে তখন পাদ-চাকতির মাধ্যমে ঐসব বস্তুর সাথে আটকিয়ে যায় । আবার সূঁচ দিয়ে Hydra-কে খোঁচা দিলে এর দেহের অংশবিশেষ বা সম্পূর্ণ দেহ সঙ্কুচিত হয় ।

২. আলো: অত্যধিক আলো বা অন্ধকার কোনটাই Hydra পছন্দ নয় । তাই জলাশয়ের যে স্থানে পরিমিত (স্তিমিত) আলো থাকে সেখানে প্রচুর Hydra পাওয়া যায় ।

৩. তাপমাত্রা : Hydra সর্বদা ২০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা-বিশিষ্ট শীতল পানি পছন্দ করে। তাই যখন কোনো জলাশয়ের উপরিভাগের পানির তাপমাত্রা বেড়ে যায়, তখন Hydra ধীরে ধীরে নিচের দিকে যেতে থাকে ।

৪. ক্ষুধা: সাধারণত নির্দিষ্ট সময় পর পর একটি Hydra এর দেহ ও কর্ষিকাগুলোর সঙ্কোচন-প্রসারণ ঘটিয়ে থাকে । পেট ভরা অবস্থায় এ ক্রিয়াটি মন্থর গতিতে চলে । কিন্তু ক্ষুধার্ত Hydra খাদ্যান্বেষণের জন্য খুব দ্রুত গতিতে বিভিন্ন দিকে এর দেহকে সঞ্চালিত করে থাকে ।

৫. বিদ্যুৎ প্রবাহ : অবিরাম দুর্বল বৈদ্যুতিক প্রবাহ চলতে থাকলে Hydra দেহকে অ্যানোডের প্রতি বাঁকিয়ে দেয় এবং পরে সম্পূর্ণ দেহকে সঙ্কুচিত করে ফেলে ।

Hydra-র স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System of Hydra)

নিম্নশ্রেণির প্রাণিদের মধ্যে দূর্বল প্রকৃতির স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ Hydra-তে তথা নিডারিয়ান প্রাণীতে প্রথম দেখা যায়। এদের অনিয়তাকার স্নায়ুকোষ থেকে স্নায়ুতন্ত্র বের হয়ে স্নায়ুজালক গঠন করে। এদের স্নায়ুতন্ত্রগুলো অ্যাক্সন বা ডেনড্রাইটের মতো নয় এবং এরা কোন সাইনাপস গঠন করে না । এদের মেসোগ্লিয়ার উভয় পার্শ্বে একটি করে স্নায়ুজালক বিদ্যমান ।

Hydra-র শ্বসন (Respiration ) / Hydra-র স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System of Hydra)
Hydra-র স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System of Hydra)

একটি স্নায়ুজালক এপিডার্মিস এবং অন্যটি গ্যাস্ট্রোডার্মিসের সাথে যুক্ত থাকে । মুখছিদ্র ও পাদ-চাকতি অঞ্চলে স্নায়ুজালক ঘন সন্নিবিষ্টভাবে অবস্থান করে । দুটি স্নায়ুজালক একে অপরের সাথে এবং সংবেদী ও পেশি-আবরণী কোষের সাথে সংযুক্ত থাকে। সংবেদী কোষগুলো পরিবেশ হতে স্পর্শ, আলোক ও রাসায়নিক সংবেদ গ্রহণ করে স্নায়ুজালকের মাধ্যমে পেশি-আবরণী কোষে প্রেরণ করে ।

এই Hydra-র শ্বসন (Respiration ) / Hydra-র স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System of Hydra) ছাড়াও আরো দেখুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply